كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَۚ وَقَدۡ ءَاتَيۡنَٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكۡرٗا 99
৯৯. হে রাসূল! যেমনিভাবে আমি আপনার নিকট মূসা ও ফিরআউন এবং তাদের সম্প্রদায়ের সংবাদ বর্ণনা করেছি তেমনিভাবে আমি আপনার নিকট আপনার সান্ত্বনার জন্য পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাঁদের উম্মতদের ঘটনা বর্ণনা করছি। আমি আপনাকে নিজের পক্ষ থেকে কুরআন দিয়েছি। যাতে উপদেশ গ্রহণকারীরা তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।
مَّنۡ أَعۡرَضَ عَنۡهُ فَإِنَّهُۥ يَحۡمِلُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وِزۡرًا 100
১০০. যে ব্যক্তি তোমার উপর নাযিলকৃত এ কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো তথা তার উপর ঈমান আনেনি এবং তার বিধানাবলীর উপর আমলও করেনি তাহলে সে নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মহা পাপের বোঝা বহন করবে এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির উপযুক্ত হবে।
خَٰلِدِينَ فِيهِۖ وَسَآءَ لَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ حِمۡلٗا 101
১০১. তারা এ শাস্তিতে সর্বদা অবস্থান করবে এবং কিয়ামতের দিন তারা যে বোঝা বহন করবে তা কতোই না নিকৃষ্ট!
يَوۡمَ يُنفَخُ فِي ٱلصُّورِۚ وَنَحۡشُرُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ يَوۡمَئِذٖ زُرۡقٗا 102
১০২. যে দিন ফিরিশতা পুনরুত্থানের জন্য শিঙ্গায় দ্বিতীয়বার ফুঁ দিবে আর আমি সে দিন কাফিরদেরকে নীল চোখা করে একত্রিত করবো। কারণ, তারা কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার দরুন তাদের ও তাদের চোখের রং পরিবর্তিত হবে।
يَتَخَٰفَتُونَ بَيۡنَهُمۡ إِن لَّبِثۡتُمۡ إِلَّا عَشۡرٗا 103
১০৩. তারা চুপিসারে বলবে: তোমরা মৃত্যুর পর বারযাখে শুধু দশ রাতই অবস্থান করলে।
نَّحۡنُ أَعۡلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذۡ يَقُولُ أَمۡثَلُهُمۡ طَرِيقَةً إِن لَّبِثۡتُمۡ إِلَّا يَوۡمٗا 104
১০৪. আমি জানি তারা চুপিসারে কী বলছে। এর কোন কিছুই আমার অগোচরে নেই। তাদের বুদ্ধিমান লোকটি বললো: তোমরা মূলতঃ বারযাখের মধ্যে মাত্র একদিন অবস্থান করেছো, এর বেশী নয়।
وَيَسَۡٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسۡفٗا 105
১০৫. হে রাসূল! তারা আপনাকে কিয়ামতের দিনকার পাহাড়সমূহের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আপনি তাদেরকে বলুন: আমার প্রতিপালক পাহাড়গুলোকে গোড়া থেকেই উপড়ে ফেলে সেগুলোকে ধূলিকণার ন্যায় ছিটিয়ে দিবেন।
فَيَذَرُهَا قَاعٗا صَفۡصَفٗا 106
১০৬. অতঃপর তিনি পাহাড়গুলোকে যে জমিন বহন করছিলো সেটিকে মসৃণ ও সমতল বানিয়ে দিবেন। যার উপর কোন ঘর কিংবা উদ্ভিদও থাকবে না।
لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجٗا وَلَآ أَمۡتٗا 107
১০৭. হে দর্শক! জমিন পুরো সমতল হওয়ার দরুন তুমি তাতে কোন বক্রতা ও উঁচু-নিচু দেখতে পাবে না।
يَوۡمَئِذٖ يَتَّبِعُونَ ٱلدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُۥۖ وَخَشَعَتِ ٱلۡأَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمَٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ إِلَّا هَمۡسٗا 108
১০৮. সে দিন মানুষ হাশরের মাঠের দিকে আহ্বানকারীর ডাকের অনুসরণ করবে। তার অনুসরণ ছাড়া তাদের আর কোন গতি থাকবে না। ভয়ে মহামহিম প্রভুর সামনে সকল আওয়াজই স্তব্ধ হয়ে যাবে। সে দিন শুধু গোপন ফিসফিস আওয়াজ ছাড়া আপনি আর কিছুই শুনতে পাবেন না।
يَوۡمَئِذٖ لَّا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ إِلَّا مَنۡ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُۥ قَوۡلٗا 109
১০৯. সেই কঠিন দিবসে কোন সুপারিশকারীর সুপারিশই উপকারে আসবে না। তবে যাকে আল্লাহ তা‘আলা সুপারিশ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং সুপারিশের ক্ষেত্রে তার কথার উপর তিনি সন্তুষ্ট রয়েছেন।
يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِۦ عِلۡمٗا 110
১১০. মানুষ ভবিষ্যতে যে কিয়ামতের সাক্ষাত করবে তা সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা ভালোই জানেন। তেমনিভাবে তারা দুনিয়াতে যা পেছনে রেখে এসেছে তা সম্পর্কেও তিনি ভালো জানেন। তবে সকল বান্দা আল্লাহর সত্তা ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে সম্যক অবগত নয়।
۞وَعَنَتِ ٱلۡوُجُوهُ لِلۡحَيِّ ٱلۡقَيُّومِۖ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمٗا 111
১১১. সেই চিরঞ্জীব যাঁর কখনো মৃত্যু হবে না। যিনি তাঁর বান্দাদের সকল বিষয়াদির নিয়ন্ত্রণক, পরিচালক ও সংরক্ষক। তাঁর সামনে তাদের চেহারাগুলো সদা নত ও অবনমিত। আর সেই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত যে নিজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে পাপের বোঝা বহন করেছে।
وَمَن يَعۡمَلۡ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَا يَخَافُ ظُلۡمٗا وَلَا هَضۡمٗا 112
১১২. যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান এনে নেক আমল করবে সে অচিরেই পরিপূর্ণ প্রতিদান পাবে। সে কখনো এ ব্যাপারে যুলুমের আশঙ্কা করবে না যে, তাকে এমন কোন গুনাহের জন্য শাস্তি দেয়া হবে যা সে করেনি। না সে কোন নেক আমলের সাওয়াব না পাওয়ার আশঙ্কা করবে।
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلۡنَٰهُ قُرۡءَانًا عَرَبِيّٗا وَصَرَّفۡنَا فِيهِ مِنَ ٱلۡوَعِيدِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ أَوۡ يُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرٗا 113
১১৩. আমি পূর্ববর্তীদের নিদর্শনাবলী নাযিল করার ন্যায় এ কুরআনকে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় নাযিল করেছি। উপরন্তু আমি তাতে অনেক ধরনের হুমকি ও ভীতির বর্ণনা দিয়েছি। যাতে তারা আল্লাহকে ভয় করে অথবা কুরআন তাদের জন্য কোন উপদেশ ও শিক্ষার সুযোগ দেয়।
ক. মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পুরোটাই জাতি, গোষ্ঠী ও ব্যক্তি বিশেষের জন্য ওয়াজ এবং উপদেশ। উপরন্তু তা মানব জাতির জন্য সম্মান ও গর্বের বিষয়ও বটে।
খ. সেদিন কোন সুপারিশ কারো উপকারে আসবে না। তবে ওই ব্যক্তির সুপারিশ যাকে দয়ালু প্রভু সুপারিশের অনুমতি দিয়েছেন এবং সুপারিশের ক্ষেত্রে তার কথার উপর তিনি সন্তুষ্ট।
গ. কুরআন এমন সকল সুন্দর সুন্দর বিধানকে শামিল করেছে যেগুলোর সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতার ব্যাপারে মেধা ও মানব প্রকৃতি সাক্ষ্য দিয়েছে।
ঘ. কুরআনের সাথে এক ধরনের আদব হলো সম্মান ও আত্মসমর্পণের সাথে তাকে গ্রহণ করা। উপরন্তু তার আলো নিয়ে সঠিক পথে চলা এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার অভিমুখী হওয়া।
ঙ. অপরাধীরা কিয়ামতের দিন লজ্জিত হবে। কারণ, তারা গাফিলতি ও খেল-তামাশায় অনেক সময় কাটিয়েছে ও নষ্ট করেছে। তারা লাভজনক বস্তু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ক্ষতিকর বস্তুর প্রতি উন্মুখ হয়েছে।