فَلَمَّآ أَن جَآءَ ٱلۡبَشِيرُ أَلۡقَىٰهُ عَلَىٰ وَجۡهِهِۦ فَٱرۡتَدَّ بَصِيرٗاۖ قَالَ أَلَمۡ أَقُل لَّكُمۡ إِنِّيٓ أَعۡلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ 96
৯৬. যখন ইয়া’কুব (আলাইহিস-সালাম) এর সুসংবাদদাতা আসলো তখন সে ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর জামাটি তাঁর চেহারার উপর রাখতেই তিনি দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি নিজ ছেলেদেরকে বললেন: আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আল্লাহর দয়া ও করুণা সম্পর্কে যা জানি তোমরা তা জানো না?
قَالُواْ يَٰٓأَبَانَا ٱسۡتَغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوبَنَآ إِنَّا كُنَّا خَٰطِِٔينَ 97
৯৭. ইয়া’কুব (আলাইহিস-সালাম) এর ছেলেরা তাদের পিতার নিকট ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর ভাইয়ের সাথে কৃত অপরাধের জন্য ওজর পেশ করে বললো: হে আমাদের পিতা! আপনি আল্লাহর কাছ থেকে আমাদের পূর্বের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আমরা নিশ্চয়ই ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর ভাইয়ের সাথে কৃত আচরণে অসদাচারী ও পাপী ছিলাম।
قَالَ سَوۡفَ أَسۡتَغۡفِرُ لَكُمۡ رَبِّيٓۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ 98
৯৮. তাদের পিতা তাদেরকে বললো: অচিরেই আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের পাপসমূহ ক্ষমাকারী ও তাদের প্রতি অসীম দয়ালু।
فَلَمَّا دَخَلُواْ عَلَىٰ يُوسُفَ ءَاوَىٰٓ إِلَيۡهِ أَبَوَيۡهِ وَقَالَ ٱدۡخُلُواْ مِصۡرَ إِن شَآءَ ٱللَّهُ ءَامِنِينَ 99
৯৯. ইয়া’কুব (আলাইহিস-সালাম) তাঁর পরিবারসহ ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর উদ্দেশ্যে নিজেদের এলাকা থেকে মিশরের দিকে বের হলেন। যখন তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করলো তখন তিনি নিজ মাতা-পিতাকে জড়িয়ে ধরে নিজের ভাইদের ও তাদের পরিবারবর্গকে বললেন: আপনারা আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাপদে মিশরে প্রবেশ করুন। এখানে কোন কষ্টই আপনারা পাবেন না।
وَرَفَعَ أَبَوَيۡهِ عَلَى ٱلۡعَرۡشِ وَخَرُّواْ لَهُۥ سُجَّدٗاۖ وَقَالَ يَٰٓأَبَتِ هَٰذَا تَأۡوِيلُ رُءۡيَٰيَ مِن قَبۡلُ قَدۡ جَعَلَهَا رَبِّي حَقّٗاۖ وَقَدۡ أَحۡسَنَ بِيٓ إِذۡ أَخۡرَجَنِي مِنَ ٱلسِّجۡنِ وَجَآءَ بِكُم مِّنَ ٱلۡبَدۡوِ مِنۢ بَعۡدِ أَن نَّزَغَ ٱلشَّيۡطَٰنُ بَيۡنِي وَبَيۡنَ إِخۡوَتِيٓۚ إِنَّ رَبِّي لَطِيفٞ لِّمَا يَشَآءُۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡعَلِيمُ ٱلۡحَكِيمُ 100
১০০. তিনি নিজ মাতা-পিতাকে নিজের বসার খাটে বসালে তাঁরা ও তাঁর এগারো ভাই তাঁর সম্মানে সাজদায় লুটিয়ে পড়লো। এটি ছিলো সম্মানের সাজদাহ; ইবাদতের নয়। যা ছিলো মূলতঃ তাঁর স্বপ্নে দেখা আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়ন। এজন্যই ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) তাঁর পিতাকে বললেন: আপনাদের পক্ষ থেকে আমার প্রতি এ সম্মানের সাজদাহ মূলতঃ সে স্বপ্নেরই ব্যাখ্যা যা ইতিপূর্বে দেখে আপনার নিকট বর্ণনা করেছি। আমার প্রতিপালক সেটিকে বাস্তবায়ন করে দেখালেন। আমার প্রতিপালক আমার প্রতি দয়া করেছেন যখন তিনি আমাকে জেল থেকে বের করলেন এবং আপনাদেরকে আমার ও আমার ভাইদের মধ্যকার শয়তানের ফাসাদের পর গ্রাম থেকে এখানে নিয়ে আসলেন। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক তাঁর ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনায় অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন এবং তাঁর পরিকল্পনায় তিনি অতি প্রজ্ঞাময়।
۞رَبِّ قَدۡ ءَاتَيۡتَنِي مِنَ ٱلۡمُلۡكِ وَعَلَّمۡتَنِي مِن تَأۡوِيلِ ٱلۡأَحَادِيثِۚ فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ أَنتَ وَلِيِّۦ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ تَوَفَّنِي مُسۡلِمٗا وَأَلۡحِقۡنِي بِٱلصَّٰلِحِينَ 101
১০১. অতঃপর ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে মিশরের ক্ষমতা দিলেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যাও শিক্ষা দিলেন। হে আকাশ ও জমিনের স্রষ্টা এবং সেগুলোকে পূর্বের নমুনা ছাড়া সৃষ্টিকারী! আপনি আমার দুনিয়ার জীবন ও আখিরাতের সর্ব ব্যাপারের অভিভাবক! আমার শেষ বয়সে আপনি আমাকে মুসলমান হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে সুমহান জান্নাতুল-ফিরদাউসে আমার পিতৃপুরুষ ও অন্যান্য নেককার নবীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
ذَٰلِكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ ٱلۡغَيۡبِ نُوحِيهِ إِلَيۡكَۖ وَمَا كُنتَ لَدَيۡهِمۡ إِذۡ أَجۡمَعُوٓاْ أَمۡرَهُمۡ وَهُمۡ يَمۡكُرُونَ 102
১০২. হে রাসূল! ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর ভাইদের উক্ত ঘটনা আমিই আপনার নিকট ওহী করেছি। এ ব্যাপারে আপনার কোন জ্ঞানই ছিলো না। কারণ, আপনি তখন উপস্থিত ছিলেন না যখন ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর ভাইয়েরা তাঁকে কুয়ার গভীরে নিক্ষেপ করার প্রতিজ্ঞা করলো এবং তাঁর ব্যাপারে যতো অপকৌশল খাটালো। কিন্তু আমিই আপনার নিকট এটি ওহী করেছি।
وَمَآ أَكۡثَرُ ٱلنَّاسِ وَلَوۡ حَرَصۡتَ بِمُؤۡمِنِينَ 103
১০৩. হে রাসূল! আপনি যদি তাদের ঈমান আনার জন্য সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখেন তারপরও অধিকাংশ মানুষই মু’মিন হবে না। তাই আপনি তাদের উপর আপসোস করে নিজকে ধ্বংস করবেন না।
ক. মাতা-পিতার সাথে সদাচরণ এবং তাঁদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়া ওয়াজিব। আর সদাচরণের একটি নমুনা হলো দ্রুত তাঁদেরকে কোন কিছুর সুসংবাদ দিয়ে আনন্দিত করা।
খ. শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং যে ব্যক্তি বন্ধুদের মাঝে সম্পর্কচ্ছিন্নতার জন্য কোন সমস্যা ঘটানোর চেষ্টা করে তার ব্যাপারে সতর্ক থাকা।
গ. কোন ব্যক্তি জাগতিক ও ধর্মীয়ভাবে যতো উপরেই উঠুক না কেন তা সবই আল্লাহর দয়া ও করুণা।
ঘ. আল্লাহর নিকট কিয়ামতের দিনকার সুন্দর পরিসমাপ্তি, নিরাপত্তা ও সফলতা এবং জান্নাতে নেককার সাথীদের সাথে মিলিত হওয়ার প্রার্থনা করা।
ঙ. আল্লাহর করুণার একটি নমুনা হলো তিনি কিছু লক্ষ্য ও হিকমতকে সামনে রেখে নিজের নবীদেরকে আংশিক অদৃশ্য ব্যাপার জানিয়ে দেন।