يَعۡتَذِرُونَ إِلَيۡكُمۡ إِذَا رَجَعۡتُمۡ إِلَيۡهِمۡۚ قُل لَّا تَعۡتَذِرُواْ لَن نُّؤۡمِنَ لَكُمۡ قَدۡ نَبَّأَنَا ٱللَّهُ مِنۡ أَخۡبَارِكُمۡۚ وَسَيَرَى ٱللَّهُ عَمَلَكُمۡ وَرَسُولُهُۥ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ 94
৯৪. মুসলমানরা যখন জিহাদ থেকে ফিরে আসবে তখন জিহাদ থেকে পিছিয়ে পড়া মুনাফিকরা তাদের সামনে অনেকগুলো অহেতুক কৈফিয়ত পেশ করবে। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী ও মু’মিনদেরকে এর প্রত্যুত্তর শিখিয়ে দিলেন যে, তোমরা বলবে: তোমরা এ সকল মিথ্যা ওজর পেশ করো না। আমরা কখনো তোমাদের এ সকল সংবাদ বিশ্বাস করবো না। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অন্তরের কিছু কথা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল অচিরেই দেখবেন, তোমরা কি দ্রুত তাওবা করছো? তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তাওবা কবুল করবেন। না কি তোমরা নিজেদের মুনাফিকীর উপর অটল থাকছো? এরপর তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। যিনি সব কিছু জানেন। ফলে তিনি তোমাদেরকে নিজেদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং এর প্রতিদান দিবেন। তাই তোমরা দ্রুত তাওবা ও নেক আমল করো।
سَيَحۡلِفُونَ بِٱللَّهِ لَكُمۡ إِذَا ٱنقَلَبۡتُمۡ إِلَيۡهِمۡ لِتُعۡرِضُواْ عَنۡهُمۡۖ فَأَعۡرِضُواْ عَنۡهُمۡۖ إِنَّهُمۡ رِجۡسٞۖ وَمَأۡوَىٰهُمۡ جَهَنَّمُ جَزَآءَۢ بِمَا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ 95
৯৫. হে মু’মিনগণ! তোমরা ফিরে আসলে এ পিছপা হওয়া মুনাফিকরা তাদের মিথ্যা অজুহাতগুলোকে মজবুত করার জন্য অচিরেই আল্লাহর নামে কসম খাবে। যাতে তোমরা তাদেরকে তিরস্কার ও নিন্দা করা থেকে বিরত থাকো। তোমরা ক্ষোভ সহকারে তাদেরকে পরিত্যাগ ও প্রত্যাখ্যান করো। তারা নাপাক ও তাদের ভেতর খারাপ। যে ঠিকানায় তারা আশ্রয় গ্রহণ করবে তা হবে জাহান্নাম। আর তা হবে তাদের কামাই করা গুনাহ ও মুনাফিকীর প্রতিদান।
يَحۡلِفُونَ لَكُمۡ لِتَرۡضَوۡاْ عَنۡهُمۡۖ فَإِن تَرۡضَوۡاْ عَنۡهُمۡ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يَرۡضَىٰ عَنِ ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡفَٰسِقِينَ 96
৯৬. হে মু’মিনরা! এ পিছপা হওয়া মুনাফিকরা তোমাদের নিকট কসম খাবে যেন তোমরা তাদের উপর খুশি হয়ে যাও এবং তাদের ওজর-আপত্তিগুলো গ্রহণ করো। তোমরা তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ো না। তোমরা তাদের উপর সন্তুষ্ট হলে প্রকৃতার্থে তোমাদের প্রতিপালকের বিরোধিতা করা হবে। কারণ, তিনি কুফরি ও মুনাফিকীর মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসা সম্প্রদায়ের উপর খুশি হন না। তাই হে মুসলমানরা! যার উপর আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট নন তার উপর সন্তুষ্ট হওয়ার ব্যাপারে তোমরা খুব সতর্ক থাকো।
ٱلۡأَعۡرَابُ أَشَدُّ كُفۡرٗا وَنِفَاقٗا وَأَجۡدَرُ أَلَّا يَعۡلَمُواْ حُدُودَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ 97
৯৭. বেদুঈনরা কাফির ও মুনাফিক হলে তাদের কুফরি ও মুনাফিকী শহরবাসীদের কুফরি ও মুনাফিকীর চেয়ে খুবই মারাত্মক হয়। ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাই তাদের জন্য স্বাভাবিক। তেমনিভাবে এটাও স্বাভাবিক যে, তারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃত ফরয, সুন্নাত এবং বিধানগত সূত্রাবলী সম্পর্কে অনভিজ্ঞ হবে। কারণ, তাদের মাঝে রয়েছে কঠোরতা, লোকসমাজ থেকে দূরে থাকা ও তাদের সাথে না মেশা। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালোই জানেন। তাঁর নিকট তাদের কোন অবস্থাই গোপন নয়। তিনি তাঁর পরিচালনা ও শরীয়ত নির্ধারণে অতি প্রজ্ঞাময়।
وَمِنَ ٱلۡأَعۡرَابِ مَن يَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ مَغۡرَمٗا وَيَتَرَبَّصُ بِكُمُ ٱلدَّوَآئِرَۚ عَلَيۡهِمۡ دَآئِرَةُ ٱلسَّوۡءِۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٞ 98
৯৮. কিছু কিছু বেদুঈন মুনাফিক এ কথা বিশ্বাস করে যে, সে যে সম্পদটুকু আল্লাহর পথে ব্যয় করে তা সবই বস্তুতঃ ক্ষতির কারণ ও জরিমানা স্বরূপ। কারণ, সে মনে করে, কিছু দান করলে তাকে সাওয়াব দেয়া হবে না এবং কৃপণতা দেখালেও আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দিবেন না। তবুও সে কখনো কখনো মানুষের কটূ কথার ভয়ে এবং লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে। হে মু’মিনরা! সে অপেক্ষা করে যে, তোমাদের উপর কোন অকল্যাণ নাযিল হোক তাহলে সে তোমাদের থেকে নিষ্কৃতি পাবে। মূলতঃ তারা মু’মিনদের উপর সময়ের যে অশুভ পরিবর্তন ও অকল্যাণ পতিত হওয়ার আশা করছিলো আল্লাহ তা‘আলা তা মু’মিনদের উপর পতিত না করে তাদের উপরই পতিত করলেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের সব কথাই শুনেন এবং তাদের গোপন সকল ভাবনাই তিনি জানেন।
وَمِنَ ٱلۡأَعۡرَابِ مَن يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ قُرُبَٰتٍ عِندَ ٱللَّهِ وَصَلَوَٰتِ ٱلرَّسُولِۚ أَلَآ إِنَّهَا قُرۡبَةٞ لَّهُمۡۚ سَيُدۡخِلُهُمُ ٱللَّهُ فِي رَحۡمَتِهِۦٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ 99
৯৯. বেদুঈনদের কেউ কেউ আবার আল্লাহ তা‘আলা ও কিয়ামতের দিবসে বিশ্বাস করে এবং সে যে সম্পদটুকু আল্লাহর পথে ব্যয় করে তা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য একটি সাওয়াবের কাজ এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দু‘আ ও ইস্তিগফার পাওয়ার উসিলা বলে মনে করে। বস্তুতঃ আল্লাহর পথে ব্যয় ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দু‘আ আল্লাহর নিকট সাওয়াব হিসেবে পরিগণিত হবে। সে অচিরেই তাঁর নিকট সে সাওয়াব পাবে তথা আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাঁর সুপ্রশস্ত রহমতের ছায়াতলে প্রবেশ করাবেন। যা তাঁর ক্ষমা ও জান্নাতকে শামিল করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
ক. আমল ও বিধানগত বাধ্যবাধকতার ময়দান মুনাফিকদের সত্য থেকে মিথ্যা প্রকাশের এক উত্তম সাক্ষী।
খ. বেদুঈনরা যদি কুফরি করে তাহলে তারা কুফরি ও মুনাফিকীর ক্ষেত্রে শহরবাসীদের চেয়েও কঠিন হয়। এটি মূলতঃ পরিবেশগত প্রভাবের কারণে।
গ. নিয়তকে খাঁটি রেখে আল্লাহর পথে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তি তা করবে সে মহা সাওয়াবের মালিক হবে।
ঘ. জ্ঞানের ফযীলত অনেক। যার কাছে তা নেই সে ভুলের অতি নিকটবর্তী।