وَلَا تَتَّخِذُوٓاْ أَيۡمَٰنَكُمۡ دَخَلَۢا بَيۡنَكُمۡ فَتَزِلَّ قَدَمُۢ بَعۡدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُواْ ٱلسُّوٓءَ بِمَا صَدَدتُّمۡ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَكُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٞ 94
৯৪. তোমরা নিজেদের শপথগুলোকে ধোঁকার মাধ্যম বানিয়ে নিয়ো না। যেগুলোর মাধ্যমে তোমরা একে অপরকে ধোঁকা দিবে। আর সে ক্ষেত্রে তোমরা নিজেদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে যখন চাইবে সেটিকে পুরা করবে আর যখন চাইবে সেগুলোকে ভঙ্গ করবে। যদি তোমরা এমন করো তাহলে সঠিক পথের উপর দৃঢ় থাকার পর তোমাদের পদস্খলন ঘটবে। আর আল্লাহর পথ থেকে নিজেরা পথভ্রষ্ট ও অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করার দরুন শাস্তি আস্বাদন করবে। অনুরূপভাবে তোমাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি।
وَلَا تَشۡتَرُواْ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ ثَمَنٗا قَلِيلًاۚ إِنَّمَا عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ 95
৯৫. তোমরা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ ও তা পুরা না করার বদলে সামান্য বিনিময় গ্রহণ করো না। নিশ্চয়ই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে সামান্য বিনিময় পাওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছে থাকা দুনিয়ার বিজয় ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং পরকালের স্থায়ী নিয়ামত তোমাদের জন্য অনেক উত্তম। যদি তোমরা এটি জানতে তাহলে আর এমন করতে না।
مَا عِندَكُمۡ يَنفَدُ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ بَاقٖۗ وَلَنَجۡزِيَنَّ ٱلَّذِينَ صَبَرُوٓاْ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 96
৯৬. হে মানুষ! তোমাদের নিকট যে সম্পদ, নিয়ামত ও ভোগ-বিলাস রয়েছে তা যতোই বেশি হোক না কেন তা একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহর কাছে থাকা প্রতিদান চিরস্থায়ী। অতএব, তোমরা কীভাবে অস্থায়ী বস্তুকে স্থায়ী বস্তুর উপর প্রাধান্য দিচ্ছো? যারা ধৈর্য ধরে অঙ্গীকার ভঙ্গ না করে বরং তা মেনে চলবে আমি অবশ্যই তাদেরকে কৃত নেক আমলের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদান দেবো। আমি তাদেরকে এটাকে দশ থেকে শুরু করে সাতশ’ গুণ এমনকি আরো বেশি দেবো।
مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 97
৯৭. যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান নিয়ে শরীয়ত সম্মত নেক আমল করে -চাই সে পুরুষ হোক কিংবা মহিলা- আমি অবশ্যই তাকে দুনিয়াতে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট, আল্লাহর আনুগত্যের তাওফীকপ্রাপ্ত ও স্বল্পে তুষ্ট পবিত্র জীবন দেবো। আর আমি তাদেরকে পরকালে তাদের দুনিয়ার নেক আমলের চেয়ে আরো সুন্দর প্রতিদান দেবো।
فَإِذَا قَرَأۡتَ ٱلۡقُرۡءَانَ فَٱسۡتَعِذۡ بِٱللَّهِ مِنَ ٱلشَّيۡطَٰنِ ٱلرَّجِيمِ 98
৯৮. হে মু’মিন! যখন তুমি কুরআন পড়তে চাও তখন আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় কামনা করো।
إِنَّهُۥ لَيۡسَ لَهُۥ سُلۡطَٰنٌ عَلَى ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَلَىٰ رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُونَ 99
৯৯. যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং সকল ব্যাপারে নিজেদের প্রতিপালকের উপর একক নির্ভরশীল শয়তান তাদের উপর তার ক্ষমতা বিস্তার করতে পারে না।
إِنَّمَا سُلۡطَٰنُهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ يَتَوَلَّوۡنَهُۥ وَٱلَّذِينَ هُم بِهِۦ مُشۡرِكُونَ 100
১০০. শুধু তার কুমন্ত্রণার ক্ষমতা চলবে ওদের উপর যারা তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে ও পথভ্রষ্টতায় তার অনুসরণ করে। আর যারা তার ভ্রষ্টতার প্রভাবে আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদত করে তাঁর সাথে শিরক করেছে।
وَإِذَا بَدَّلۡنَآ ءَايَةٗ مَّكَانَ ءَايَةٖ وَٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوٓاْ إِنَّمَآ أَنتَ مُفۡتَرِۢۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ 101
১০১. যখন আমি কুরআনের কোন আয়াতের বিধানকে অন্য আয়াত কর্তৃক রহিত করি (আর আল্লাহ জানেন কুরআনের কোন আয়াতকে প্রজ্ঞা ও কৌশলের ভিত্তিতে রহিত করা হবে আর কোনটিকে করা হবে না) তখন তারা বলে: হে মুহাম্মাদ! তুমি তো মিথ্যুক; আল্লাহর ব্যাপারে কথা বানিয়ে বলো। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না যে, নিশ্চয়ই রহিত করার ব্যাপারটি আল্লাহর চূড়ান্ত কৌশলের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে।
قُلۡ نَزَّلَهُۥ رُوحُ ٱلۡقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِٱلۡحَقِّ لِيُثَبِّتَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَهُدٗى وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ 102
১০২. হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে এ কুরআন নিয়ে এসেছেন। এমন সত্য তাতে রয়েছে যাতে কোন ভুল, পরিবর্তন ও বিকৃতি নেই। যাতে করে আল্লাহতে বিশ্বাসীরা নিজেদের ঈমানের উপর অটল থাকতে পারে। যখনই কোন নতুন কিছু নাযিল ও রহিত হয়। উপরন্তু তাদের জন্য যেন সত্যের পথ প্রদর্শক এবং মুসলমানদের জন্য সম্মানজনক প্রতিদান হাসিলের সুসংবাদ হয়।
ক. ঈমান সংশ্লিষ্ট নেক আমল জীবনকে পবিত্র করে তোলে।
খ. শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা ও তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা।
গ. মু’মিনদের দায়িত্ব হলো কুরআনকে তাদের সামনে রাখা। তারা তার জ্ঞান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং তার চরিত্রে চরিত্রবান ও তার আলোতে আলোকিত হবে। এরই মাধ্যমে তাদের দুনিয়ার ও ধর্মীয় সকল ব্যাপার সঠিক পথে আসবে।
ঘ. ওহী নাযিল হওয়ার সময় হিকমতের ভিত্তিতে কুরআনের মাঝে বিধান রহিতকরণের কাজটি ঘটেছে। হিকমতটি হলো মানব পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ঘটনাবলী ও সুবিধাদির খেয়াল করা।