بَلۡ أَتَيۡنَٰهُم بِٱلۡحَقِّ وَإِنَّهُمۡ لَكَٰذِبُونَ 90
৯০. ব্যাপারটি তেমন নয় যা তারা দাবি করছে। বরং আমি তাদের নিকট যে সত্য নিয়ে এসেছি তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারা যে আল্লাহর অংশীদার ও সন্তান আছে বলে দাবি করে তাতে তারা মিথ্যুক। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ কথা থেকে বহু ঊর্ধ্বে।
مَا ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ مِن وَلَدٖ وَمَا كَانَ مَعَهُۥ مِنۡ إِلَٰهٍۚ إِذٗا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَٰهِۢ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۚ سُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ 91
৯১. আল্লাহ তা‘আলা কোন সন্তান গ্রহণ করেননি। যা কাফিররা ধারণা করছে এবং তাঁর সাথে আর কোন সত্য মা’বূদ নেই। যদি ধরে নেয়া হয় যে, তাঁর সাথে অন্য কোন সত্য মা’বূদ রয়েছে তাহলে প্রত্যেক মা’বূদই তার বানানো সৃষ্টির অংশটুকু অধিগ্রহণ এবং একে অপরের উপর জয়ী হওয়ার চেষ্টা করবে। ফলে দুনিয়ার শৃঙ্খলাই ভেঙ্গে পড়বে। বাস্তব কথা হলো এসব কোন কিছুই ঘটেনি। সুতরাং তা থেকে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, সত্য মা’বূদ হলেন শুধুমাত্র একজন, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি হলেন এক আল্লাহ। তিনি মুশরিকরা যে তাঁকে সন্তান ও শরীকের বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছে তা থেকে পূত ও পবিত্র। যা তাঁর সাথে আদৌ মানায় না।
عَٰلِمِ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ 92
৯২. তিনি তাঁর সৃষ্টির সব অদৃশ্যই জানেন এবং যা দেখা ও পঞ্চেন্দ্রীয় দিয়ে বুঝা যায় তা সবই জানেন। এর কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। আল্লাহর সাথে শরীক থাকার বিষয় থেকে তিনি সত্যিই অনেক ঊর্ধ্বে।
قُل رَّبِّ إِمَّا تُرِيَنِّي مَا يُوعَدُونَ 93
৯৩. হে রাসূল! আপনি বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি যদি আমাকে এ মুশরিকদের ব্যাপারে আপনার ওয়াদাকৃত আযাবটুকু দেখাতেন।
رَبِّ فَلَا تَجۡعَلۡنِي فِي ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ 94
৯৪. হে আমার প্রতিপালক! আপনি যদি আমার উপস্থিতিতেই তাদেরকে শাস্তি দেন তাহলে আপনি আমাকে তাদের মাঝে রাখবেন না। যাতে যে আযাব তাদের উপর আসবে তা আমার উপর না আসে।
وَإِنَّا عَلَىٰٓ أَن نُّرِيَكَ مَا نَعِدُهُمۡ لَقَٰدِرُونَ 95
৯৫. বস্তুতঃ আমি আপনাকে তাদের সাথে ওয়াদাকৃত আযাবটুকু দেখাতে ও অবলোকন করাতে সক্ষম। আমি সেটা বা সেটা ছাড়া অন্য কিছু করতেও অক্ষম নই।
ٱدۡفَعۡ بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ ٱلسَّيِّئَةَۚ نَحۡنُ أَعۡلَمُ بِمَا يَصِفُونَ 96
৯৬. হে রাসূল! যে আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে আপনি ভালো আচরণ দিয়ে তার প্রতিরোধ করুন। আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার দেয়া কষ্টের উপর ধৈর্য ধরুন। আমি তাদের শিরক ও মিথ্যারোপ সম্পর্কে জানি এবং জানি আপনাকে দেয়া অশোভনীয় বিশেষণগুলোও যেমন: যাদুকর ও পাগল বলে আখ্যায়িত করা।
وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنۡ هَمَزَٰتِ ٱلشَّيَٰطِينِ 97
৯৭. আপনি বলুন: হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট শয়তানের কুমন্ত্রণা ও ওয়াসওয়াসা থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করছি।
وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحۡضُرُونِ 98
৯৮. হে আমার প্রতিপালক! আমি আরো আপনার আশ্রয় কামনা করছি আমার যে কোন কাজে তাদের উপস্থিতি হতে।
حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ رَبِّ ٱرۡجِعُونِ 99
৯৯. এমনকি এ মুশরিকদের কারো কাছে যখন মৃত্যু এসে যায় এবং সে নাযিল হওয়া সবকিছু দেখতে পায় তখন সে তার গত জীবনে আল্লাহর শানে তার সকল ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা স্মরণ করে তার উপর লজ্জিত হয়ে বলে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে দুনিয়ার জীবনে ফিরিয়ে দিন।
لَعَلِّيٓ أَعۡمَلُ صَٰلِحٗا فِيمَا تَرَكۡتُۚ كَلَّآۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَاۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرۡزَخٌ إِلَىٰ يَوۡمِ يُبۡعَثُونَ 100
১০০. যাতে আমি সেখানে ফিরে গিয়ে নেক আমল করতে পারি। বলা হবে: কখনোই না। সে যা কামনা করছে ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং এটি একটি কথার কথা যা সে বললো। তাকে যদি দুনিয়ার জীবনে ফেরত দেয়া হয় তাহলে সে তার ওয়াদা পুরা করবে না। বস্তুতঃ এ মৃতরা পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যকার একটি আড়ালে অবস্থান করবে। তারা আর সেখান থেকে নিজেদের হারানো জিনিস ফিরে পেতে এবং নষ্ট কর্ম সংশোধনের জন্য দুনিয়াতে ফিরে আসতে পারবে না।
فَإِذَا نُفِخَ فِي ٱلصُّورِ فَلَآ أَنسَابَ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَئِذٖ وَلَا يَتَسَآءَلُونَ 101
১০১. শিঙ্গায় ফুৎকারে দায়িত্বরত ফিরিশতা যখন কিয়ামতের ঘোষণা সংক্রান্ত দ্বিতীয় ফুৎকার দিবে তখন তারা পরকালের ভয়াবহ অবস্থায় ব্যস্ত থাকার দরুন নিজেদের মধ্যকার বংশ পরিচিতি নিয়ে একে অপরের সাথে গর্ব করবে না এবং নিজেদের বিষয়সমূহ নিয়ে ব্যস্ত থাকার দরুন একে অপরকে কিছু জিজ্ঞাসাও করবে না।
فَمَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ 102
১০২. অতঃপর গুনাহর তুলনায় নেকি বেশি হওয়ার দরুন যাদের নেকির পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে। তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হবে এবং তারা আশঙ্কিত বস্তু থেকে দূরে থাকবে।
وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ فِي جَهَنَّمَ خَٰلِدُونَ 103
১০৩. আর নেকির তুলনায় গুনাহ বেশি হওয়ার দরুন যাদের নেকির পাল্লা হালকা হবে তারা মূলতঃ লাভজনক ঈমান-আমল ছেড়ে এবং ক্ষতিকর বস্তুতে লিপ্ত হয়ে নিজেদেরকেই ধ্বংস করেছে। তাই তারা জাহান্নামের আগুনে অবস্থান করবে। তারা সেখান থেকে আর কখনোই বের হতে পারবে না।
تَلۡفَحُ وُجُوهَهُمُ ٱلنَّارُ وَهُمۡ فِيهَا كَٰلِحُونَ 104
১০৪. আগুন তাদের চেহারাগুলো পুড়ে ফেলবে এবং চেহারার কঠিন বীভৎসতার দরুন তাদের দাঁতগুলো থেকে নিজেদের উপরের-নিচের ঠোঁটগুলো সঙ্কুচিত হবে।
ক. দুনিয়ার নিয়মতান্ত্রিকতার স্থিতিশীলতা আল্লাহর এককত্বকে প্রমাণ করে।
খ. আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকেই বেষ্টন করে রয়েছে।
গ. অন্যায়কারীর সাথে ইহসান তথা সদাচরণ একটি উঁচু ইসলামী আদব প্রতিপক্ষের মাঝে যার অনেক প্রভাব রয়েছে।
ঘ. শয়তানের ধোঁকা ও কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করার গুরুত্ব অপরিসীম।