قَالَ قَدۡ أُجِيبَت دَّعۡوَتُكُمَا فَٱسۡتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيلَ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ 89
৮৯. আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে মূসা ও হারূন! আমি ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের সম্মানী লোকদের ব্যাপারে তোমাদের বদদু‘আ কবুল করা হয়েছে। তাই তোমরা নিজেদের ধর্মের উপর অটল থাকো। উপরন্তু যে মূর্খরা সত্যের পথ সম্পর্কে জানে না তাদের পথের অনুসরণ করতে গিয়ে এ পথ থেকে সরে যেয়ো না।
۞وَجَٰوَزۡنَا بِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱلۡبَحۡرَ فَأَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَجُنُودُهُۥ بَغۡيٗا وَعَدۡوًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدۡرَكَهُ ٱلۡغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱلَّذِيٓ ءَامَنَتۡ بِهِۦ بَنُوٓاْ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَأَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ 90
৯০. আমি বনী ইসরাঈলের জন্য সাগর চিরে তা পাড়ি দেয়া সহজ করে দিয়েছি। ফলে তারা নিরাপদভাবে তা অতিক্রম করে। এদিকে ফির‘আউন ও তার সেনাবাহিনী যুলুম ও অত্যাচারবশতঃ তাদের পিছু নিয়েছে। যখন সাগর তার উপর মিশে গেলো এবং সে ডুবে গেলো তখন সে মুক্তি থেকে নিরাশ হয়ে বললো, আমি এ ব্যাপারে ঈমান এনেছি যে, বনী ইসরাঈলরা যাঁর উপর ঈমান এনেছে তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আর আমি আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর একান্ত বাধ্যগত।
যখন স্বচক্ষে মৃত্যু অবলোকন তাওবা কবুল হওয়ার পথে বিশেষ বাধা তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
ءَآلۡـَٰٔنَ وَقَدۡ عَصَيۡتَ قَبۡلُ وَكُنتَ مِنَ ٱلۡمُفۡسِدِينَ 91
৯১. তুমি জীবন থেকে নিরাশ হয়ে এখন ঈমান আনছো?! অথচ হে ফির‘আউন! তুমি আযাব নাযিল হওয়ার পূর্বে আল্লাহর সাথে কুফরি এবং তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করার মাধ্যমে তাঁর অবাধ্য হয়েছিলে। আর তুমি নিজেই পথভ্রষ্ট হয়ে এবং অন্যকে পথভ্রষ্ট করে ফাসাদ সৃষ্টি করেছিলে।
فَٱلۡيَوۡمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنۡ خَلۡفَكَ ءَايَةٗۚ وَإِنَّ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِ عَنۡ ءَايَٰتِنَا لَغَٰفِلُونَ 92
৯২. তাই হে ফির‘আউন! আজ আমি তোমাকে সাগর থেকে বের করে এনে জমিনের উঁচু জায়গায় রাখবো। যাতে তোমার পরবর্তী লোকেরা তোমাকে দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বস্তুতঃ অধিকাংশ মানুষই আমার কুদরতের দলীল ও প্রমাণাদি থেকে গাফিল। তারা সেগুলোকে নিয়ে চিন্তা করে না।
وَلَقَدۡ بَوَّأۡنَا بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ مُبَوَّأَ صِدۡقٖ وَرَزَقۡنَٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ فَمَا ٱخۡتَلَفُواْ حَتَّىٰ جَآءَهُمُ ٱلۡعِلۡمُۚ إِنَّ رَبَّكَ يَقۡضِي بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ 93
৯৩. আমি বনী ইসরাঈলকে বরকতময় শাম এলাকার পছন্দনীয় জায়গা ও প্রশংসনীয় অবস্থানে উন্নীত করেছি। আর তাদেরকে পবিত্র হালাল রিযিক দিয়েছি। অতঃপর তারা কুরআন আসা পর্যন্ত নিজেদের ধর্মকে নিয়ে কোন মতভেদ করে নি। যা তাওরাতে পঠিত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুণাবলীর সত্যায়নকারী। তবে যখন তারা এটিকে অস্বীকার করেছে তখন তাদের এলাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। হে রাসূল! নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের দ্বন্দ্বপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করবেন। অতঃপর তিনি তাদের মধ্যকার সত্য ও বাতিলপন্থীকে তাদের উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন।
فَإِن كُنتَ فِي شَكّٖ مِّمَّآ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ فَسَۡٔلِ ٱلَّذِينَ يَقۡرَءُونَ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكَۚ لَقَدۡ جَآءَكَ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمُمۡتَرِينَ 94
৯৪. হে রাসূল! আপনি যদি আপনার উপর নাযিলকৃত কুরআনের মূলতত্ত¡ নিয়ে সন্দেহ ও অস্থিরতায় ভোগেন তাহলে আপনি তাওরাত পড়া মু’মিন ইহুদি এবং ইঞ্জীল পড়া মু’মিন খ্রিস্টানদেরকে প্রশ্ন করুন। তারা অচিরেই আপনাকে এ সংবাদ দিবে যে, নিশ্চয়ই যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে তা সত্য। কারণ, তারা নিজেদের কিতাবে এ সম্পর্কীয় বর্ণনা পায়। নিশ্চয়ই আপনার নিকট আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য এসেছে। তাতে কোন সন্দেহ নেই। অতএব, আপনি এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ করবেন না।
وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَتَكُونَ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ 95
৯৫. আপনি ওদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যারা আল্লাহর দলীল ও প্রমাণাদিকে অস্বীকার করে। ফলে আপনি সেই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা কুফরির দরুন নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সকল সতর্কতা সন্দেহ ও মিথ্যারোপের ভয়ানকতা বর্ণনার জন্য। নতুবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ জাতীয় কিছু বের হওয়া থেকে তিনি অবশ্যই পবিত্র।
إِنَّ ٱلَّذِينَ حَقَّتۡ عَلَيۡهِمۡ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ 96
৯৬. যাদের গোঁয়ার্তুমির দরুন তাদের ব্যাপারে আল্লাহর এ ফয়সালা চূড়ান্ত হয়েছে যে, তারা কুফরির উপর নিশ্চিত মারা যাবে তারা আর কখনোই ঈমান আনবে না।
وَلَوۡ جَآءَتۡهُمۡ كُلُّ ءَايَةٍ حَتَّىٰ يَرَوُاْ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَلِيمَ 97
৯৭. যদিও তাদের নিকট শরীয়ত ও দুনিয়ার সকল নিদর্শন চলে আসে। যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবলোকন করবে। তখন তারা ঈমান আনবে ঠিকই কিন্তু সেই ঈমান আর তাদের কোন উপকারে আসবে না।
ক. ধর্মের উপর অবিচলতা এবং অপরাধীদের পথের অনুসরণ না করা ওয়াজিব।
খ. মৃত্যুর সময় যার আত্মা বের হওয়ার জন্য গলায় ঘড়ঘড় শব্দ করবে অথবা স্বচোক্ষে আযাব দেখতে পাবে তখন তার তাওবা কবুল করা হবে না।
গ. ইহুদি ও খ্রিস্টানরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বৈশিষ্ট্যাবলী সম্পর্কে জানতো। কিন্তু অহঙ্কার ও গাদ্দারি তাদেরকে তাঁর প্রতি ঈমান আনার পথে বাধার সৃষ্টি করেছে।