وَٱجۡعَل لِّي لِسَانَ صِدۡقٖ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ 84
৮৪. আর আপনি আমার জন্য আমার পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সুন্দর প্রশংসার ব্যবস্থা করুন।
وَٱجۡعَلۡنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ 85
৮৫. আর আপনি আমাকে ওদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা এমন জান্নাতের মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহের উত্তরাধিকারী হবে যাতে আপনার মু’মিন বান্দারা নিয়ামতপ্রাপ্ত হবে। উপরন্তু আপনি আমাকে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিন।
وَٱغۡفِرۡ لِأَبِيٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ 86
৮৬. আর আপনি আমার পিতাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই সে তো শিরকের দরুন সত্যভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত। মূলতঃ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর পিতার জন্য দু‘আ করেছেন এ কথা তাঁর নিকট সুস্পষ্ট হওয়ার আগে যে, নিশ্চয়ই সে জাহান্নামী। তবে যখন তাঁর নিকট ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হয়ে গেলো তখন তিনি তার থেকে দায়িত্বমুক্ত হন এবং তার জন্য আর কোন দু‘আ করেননি।
وَلَا تُخۡزِنِي يَوۡمَ يُبۡعَثُونَ 87
৮৭. আর আপনি যেদিন মানুষদেরকে হিসাবের জন্য পুনরুত্থিত করবেন সেদিন আমাকে শাস্তি দিয়ে অপমানিত করবেন না।
يَوۡمَ لَا يَنفَعُ مَالٞ وَلَا بَنُونَ 88
৮৮. যে দিন দুনিয়ায় জমা করা মানুষের কোন সম্পদই তার কোন উপকারে আসবে না। এমনকি তার কোন সন্তানাদিও না, যাদের দ্বারা একদা সে সাহায্যপ্রাপ্ত হতো।
إِلَّا مَنۡ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلۡبٖ سَلِيمٖ 89
৮৯. কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে আসবে সেই লাভবান হবে। যাতে কোন ধরনের শিরক, মুনাফিকি, কাউকে দেখানোর মনোভাব ও অহঙ্কার থাকবে না। তবে সে ওই সম্পদ কর্তৃক লাভবান হবে যা সে আল্লাহর পথে খরচ করেছে এবং ওই সন্তানাদি কর্তৃক লাভবান হবে যারা তার জন্য দু‘আ করেছে।
وَأُزۡلِفَتِ ٱلۡجَنَّةُ لِلۡمُتَّقِينَ 90
৯০. সেদিন জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে। যারা নিজেদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে কেবল তাঁকেই ভয় করে।
وَبُرِّزَتِ ٱلۡجَحِيمُ لِلۡغَاوِينَ 91
৯১. আর হাশরের মাঠে জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে সেই পথভ্রষ্টদের জন্য যারা সত্য ধর্ম থেকে পথভ্রষ্ট হয়েছে।
وَقِيلَ لَهُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡ تَعۡبُدُونَ 92
৯২. উপরন্তু তাদেরকে ধমক দিয়ে বলা হবে: তোমরা যে মূর্তিগুলোর পূজা করতে সেগুলো আজ কোথায়?
مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلۡ يَنصُرُونَكُمۡ أَوۡ يَنتَصِرُونَ 93
৯৩. তোমরা আল্লাহ ছাড়া যেগুলোর পূজা করতে সেগুলো? তারা কি আজ তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করে তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, না তারা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে পারবে?
فَكُبۡكِبُواْ فِيهَا هُمۡ وَٱلۡغَاوُۥنَ 94
৯৪. অতঃপর তাদের কিছু সংখ্যককে অন্যদের উপর জাহান্নামেই নিক্ষেপ করা হবে। তাদেরকে এবং যারা তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকেও।
وَجُنُودُ إِبۡلِيسَ أَجۡمَعُونَ 95
৯৫. উপরন্তু ইবলীসের সহযোগী সকল শয়তানদেরকেও। তাদের কাউকে তা থেকে বাদ দেয়া হবে না।
قَالُواْ وَهُمۡ فِيهَا يَخۡتَصِمُونَ 96
৯৬. যে মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্যের পূজা করতো এবং তাদেরকে তাঁর শরীক বানিয়ে নিতো, তাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে বলবে:
تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ 97
৯৭. আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমরা সত্য থেকে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতায় ছিলাম।
إِذۡ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 98
৯৮. আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির প্রতিপালকের সমকক্ষ বানিয়েছি। তথা তোমাদের ইবাদত করছি যেমনিভাবে তাঁর ইবাদত করি।
وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلۡمُجۡرِمُونَ 99
৯৯. মূলতঃ অপরাধীরাই আমাদেরকে সত্য পথ থেকে ভ্রষ্ট করেছে। যারা আমাদেরকে আল্লাহ ব্যতিরেকে ওদের ইবাদতের দিকে ডেকেছে।
فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ 100
১০০. তাই আজ আমাদের জন্য কোন সুপারিশকারী নেই। যারা আমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করবে।
وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٖ 101
১০১. না আমাদের জন্য কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু রয়েছে যে আমাদের পক্ষ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ও আমাদেরকে সাহায্য করবে।
فَلَوۡ أَنَّ لَنَا كَرَّةٗ فَنَكُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ 102
১০২. যদি আমরা দুনিয়ার জীবনে একটু সময়ের জন্য ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আমরা সত্যিই আল্লাহর উপর ঈমান আনতাম।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ 103
১০৩. ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর উক্ত ঘটনায় এবং তাঁর প্রতি মিথ্যারোপকারীদের পরিণতিতে শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে। বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ 104
১০৪. হে রাসূল! নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক অত্যন্ত পরাক্রমশালী যিনি তাঁর শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন এবং তাওবাকারীদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
كَذَّبَتۡ قَوۡمُ نُوحٍ ٱلۡمُرۡسَلِينَ 105
১০৫. নূহ (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায় তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করে মূলতঃ সকল রাসূলের প্রতিই মিথ্যারোপ করেছে।
إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ 106
১০৬. যখন তাদের বংশীয় ভাই নূহ (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করে তিনি ভিন্ন অন্যের ইবাদত পরিত্যাগ করে খাঁটি মুত্তাকী হয়ে যাবে না?!
إِنِّي لَكُمۡ رَسُولٌ أَمِينٞ 107
১০৭. নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য একজন রাসূল। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে তোমাদের কাছেই পাঠিয়েছেন। আমি একজন আমানতদারও বটে। আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট যে ওহী পাঠিয়েছেন আমি তার চেয়ে এতটুকুও বেশ-কম করি না।
فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ 108
১০৮. তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমি যা আদেশ করি ও যা নিষেধ করি সে ক্ষেত্রে আমার আনুগত্য করো।
وَمَآ أَسَۡٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 109
১০৯. আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা পৌঁছিয়ে দেই সে ব্যাপারে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সকল সৃষ্টির মালিক আল্লাহর নিকটই; অন্য কারো নিকট নয়।
فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ 110
১১০. তাই তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
۞قَالُوٓاْ أَنُؤۡمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلۡأَرۡذَلُونَ 111
১১১. তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে বললো: হে নূহ! আমরা কি তোমাকে বিশ্বাস করে তোমার আনীত বিধানকে মেনে চলবো ও সে অনুযায়ী আমল করবো; অথচ তোমার অনুসারীরা সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ। তাদের মাঝে কোন নেতৃস্থানীয় ও সম্মানী লোক নেই?!
ক. হিংসা, লোক দেখানো এবং আত্মঅহঙ্কারের মতো রোগসমূহ থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখার গুরুত্ব।
খ. পরকালে ভ্রষ্টকারীদের উপর ভ্রষ্টতার দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে বস্তুতঃ ভ্রষ্টদের কোন লাভ হবে না।
গ. আল্লাহর কোন একজন রাসূলের প্রতি মিথ্যারোপ মূলতঃ সকল রাসূলের প্রতিই মিথ্যারোপ।
ঘ. ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর ঘটনার সুন্দর পরিসমাপ্তির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে কিয়ামতের কথা উল্লেখ করা হলো। এরপর আবারো সেই ঘটনার পরিসমাপ্তির দিকে ফিরে আসা হলো।