مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا 80
৮০. যে ব্যক্তি রাসূলের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁর আনুগত্য করলো সে বস্তুতঃ আল্লাহর আদেশে সাড়া দিলো। আর যে ব্যক্তি আপনার আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো হে রাসূল! আপনি তার ব্যাপারে চিন্তিত হবেন না। আমি তার পর্যবেক্ষক হিসেবে আপনাকে পাঠাইনি যে আপনি তার আমলগুলোকে সংরক্ষণ করবেন। আমিই কেবল তার আমল গুণে হিসাব নিবো।
وَيَقُولُونَ طَاعَةٞ فَإِذَا بَرَزُواْ مِنۡ عِندِكَ بَيَّتَ طَآئِفَةٞ مِّنۡهُمۡ غَيۡرَ ٱلَّذِي تَقُولُۖ وَٱللَّهُ يَكۡتُبُ مَا يُبَيِّتُونَۖ فَأَعۡرِضۡ عَنۡهُمۡ وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًا 81
৮১. মুনাফিকরা কেবল আপনাকে মুখে বলে: আমরা আপনার আদেশ মানছি ও আনুগত্য করছি। অতঃপর তারা আপনার আড়াল হলে তাদেরই একদল লোক গোপনে আপনার নিকট যা প্রকাশ করেছে তার বিপরীত পরিকল্পনা করে। আল্লাহ জানেন তারা কী পরিকল্পনা করে। তাই অচিরেই তিনি তাদের এ ষড়যন্ত্রের প্রতিদান দিবেন। আপনি তাদের দিকে তাকাবেনও না। কারণ, তারা কখনোই আপনার এতটুকু ক্ষতি করতে পারবে না। বরং আপনি নিজের সবকিছুই আল্লাহর নিকট সোপর্দ করুন এবং তাঁরই উপর নির্ভরশীল হোন। আল্লাহ তা‘আলা আপনার অভিভাবক হিসেবে যথেষ্ট। যাঁর উপর আপনি ভরসা করতে পারেন।
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَۚ وَلَوۡ كَانَ مِنۡ عِندِ غَيۡرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ ٱخۡتِلَٰفٗا كَثِيرٗا 82
৮২. এরা কেন কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না। তাহলেই তাদের নিকট এটা প্রমাণিত হতো যে, তাতে কোন ধরনের অস্থিরতা ও বৈপরীত্য নেই। তাহলে তারা আপনার আনীত বিধানের সত্যতা জানতে পারতো। কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হলে তারা তার বিধানাবলীতে অস্থিরতা ও তার অর্থসমূহে বিপুল মতভেদ দেখতে পেতো।
وَإِذَا جَآءَهُمۡ أَمۡرٞ مِّنَ ٱلۡأَمۡنِ أَوِ ٱلۡخَوۡفِ أَذَاعُواْ بِهِۦۖ وَلَوۡ رَدُّوهُ إِلَى ٱلرَّسُولِ وَإِلَىٰٓ أُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنۡهُمۡ لَعَلِمَهُ ٱلَّذِينَ يَسۡتَنۢبِطُونَهُۥ مِنۡهُمۡۗ وَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُۥ لَٱتَّبَعۡتُمُ ٱلشَّيۡطَٰنَ إِلَّا قَلِيلٗا 83
৮৩. এ মুনাফিকদের নিকট মুসলমানদের নিরাপত্তা ও তাদের খুশি অথবা তাদের ভয় ও চিন্তার বিষয় আসলে তারা সেটিকে প্রচার ও প্রসার করে বেড়ায়। তারা একটু স্থিরতা অবলম্বন করে ব্যাপারটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং চিন্তাশীল, জ্ঞানী ও হিতাকাঙ্ক্ষিদের দিকে ফিরিয়ে দিলে চিন্তাশীল গবেষকরা বুঝতে পারতো কোনটি প্রচার করা আর কোনটি লুকিয়ে রাখা উচিত। তোমাদের উপর ইসলাম ও কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে আর মুনাফিকদের লিপ্ত থাকা বিষয় হতে তোমাদেরকে নিরাপত্তা না দিলে তোমাদের কম সংখ্যক ছাড়া অধিকাংশই শয়তানের কুমন্ত্রণার অনুসরণ করতো।
فَقَٰتِلۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفۡسَكَۚ وَحَرِّضِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَكُفَّ بَأۡسَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۚ وَٱللَّهُ أَشَدُّ بَأۡسٗا وَأَشَدُّ تَنكِيلٗا 84
৮৪. হে রাসূল! আপনি আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করতে তাঁর পথে যুদ্ধ করুন। আপনাকে অন্য কারো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ও তার দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা হবে না। কারণ, আপনি শুধু নিজেকেই যুদ্ধের ব্যাপারে বাধ্য করতে আজ্ঞাবহ। আর আপনি মু’মিনদেরকে যুদ্ধের ব্যাপারে উৎসাহী ও আগ্রহী করে তুলুন। আশা করা যায় আল্লাহ তা‘আলা আপনাদের যুদ্ধের মাধ্যমে কাফিরদের শক্তি প্রতিহত করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও কঠোর শাস্তিদাতা।
مَّن يَشۡفَعۡ شَفَٰعَةً حَسَنَةٗ يَكُن لَّهُۥ نَصِيبٞ مِّنۡهَاۖ وَمَن يَشۡفَعۡ شَفَٰعَةٗ سَيِّئَةٗ يَكُن لَّهُۥ كِفۡلٞ مِّنۡهَاۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ مُّقِيتٗا 85
৮৫. অন্যের কল্যাণে সচেষ্ট ব্যক্তির কিছু সাওয়াব হবে। আর অন্যের অকল্যাণে সচেষ্ট ব্যক্তিরও কিছু গুনাহ হবে। আর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সবকর্মেরই সাক্ষী। তাই তিনি অচিরেই তাকে এর প্রতিদান দিবেন। তাই তোমাদের কেউ কোন কল্যাণ হাসিলের কারণ হলে সে তার এক ভাগ পাবে। আর যে কোন অকল্যাণ হাসিলের কারণ হবে সে তারই একটি অংশ পাবে।
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٍ حَسِيبًا 86
৮৬. কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে তোমরা তার চেয়ে আরো উৎকৃষ্ট পন্থায় অথবা তার সমপর্যায়ের উত্তর দাও। তবে উত্তম পন্থায় উত্তর দেয়াই উত্তম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাণ্ডের সংরক্ষক। তাই তিনি অচিরেই প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।
ক. আল-কুরআনের গবেষকরা দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। কারণ, তা সকল ধরনের অস্থিরতা থেকে নিরাপদ। উপরন্তু এতে করে কুরআনের অন্তর্নিহিত মহান বিধানগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ পায়।
খ. যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মু’মিনদের নিরাপত্তায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে অথবা তাদের মাঝে আতঙ্ক ঢুকে পড়বে এমন সংবাদ প্রচার করা জায়িয নয়।
গ. মুসলমানদের যাবতীয় বিষয় বিশেষভাবে তাদের সাথে সম্পৃক্ত জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা জ্ঞানীজন ও তাদের নেতৃস্থানীয়দের থেকে আসা আবশ্যক।
ঘ. যাতে কোন গুনাহ বা মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ হবে না এমন নেক সুপারিশ জায়িয। আর এর বিপরীত সুপারিশ হারাম।