يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا عَسَىٰ رَبُّكُمۡ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمۡ سَئَِّاتِكُمۡ وَيُدۡخِلَكُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ يَوۡمَ لَا يُخۡزِي ٱللَّهُ ٱلنَّبِيَّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥۖ نُورُهُمۡ يَسۡعَىٰ بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَبِأَيۡمَٰنِهِمۡ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَتۡمِمۡ لَنَا نُورَنَا وَٱغۡفِرۡ لَنَآۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ 8
৮. হে মু’মিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো! তোমরা নিজেদের পাপসমূহ থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর নিকট তাওবা করো। আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং এমন সব উদ্যানে প্রবিষ্ট করবেন যেগুলোর অট্টালিকার তলদেশ দিয়ে কিয়ামত দিবসে নদী-নালা প্রবাহিত হবে। যে দিন আল্লাহ তাঁর নবী ও মুমিনদেরকে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করার মাধ্যমে তাঁদেরকে অপমান করবেন না। পুলসিরাতে তাঁদের সামনে ও ডানে নিজেদের জ্যোতি দৌড়াতে থাকবে। তাঁরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের জ্যোতিগুলোকে পরিপূর্ণতা দিন। যাতে করে আমরা সেগুলোর আলোকে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। ফলে আমরা যেন ওই সব মুনাফিকের মতো না হই যাদের জ্যোতি পুলসিরাতের উপর নিভে যাবে। আর আপনি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। অতএব, আপনি আমাদের জ্যোতি পরিপূর্ণ করতে ও আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করতে অপারগ নন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ جَٰهِدِ ٱلۡكُفَّارَ وَٱلۡمُنَٰفِقِينَ وَٱغۡلُظۡ عَلَيۡهِمۡۚ وَمَأۡوَىٰهُمۡ جَهَنَّمُۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ 9
৯. হে রাসূল! আপনি কাফিরদের সাথে তরবারি দিয়ে এবং মুনাফিকদের সাথে মুখ দিয়ে ও দণ্ডবিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুদ্ধ করুন। আর তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। যাতে করে তারা আপনাকে ভয় পায়। বস্তুতঃ কিয়ামত দিবসে তাদের শেষ ঠিকানা হবে জাহান্নাম। কতোই না নিকৃষ্ট হবে তাদের প্রত্যাবর্তনের ঠিকানা।
ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلٗا لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱمۡرَأَتَ نُوحٖ وَٱمۡرَأَتَ لُوطٖۖ كَانَتَا تَحۡتَ عَبۡدَيۡنِ مِنۡ عِبَادِنَا صَٰلِحَيۡنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمۡ يُغۡنِيَا عَنۡهُمَا مِنَ ٱللَّهِ شَيۡٔٗا وَقِيلَ ٱدۡخُلَا ٱلنَّارَ مَعَ ٱلدَّٰخِلِينَ 10
১০. আল্লাহ তাঁর সাথে ও তদীয় রাসূলের সাথে কুফরীকারীদের দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন এভাবে যে, মুমিনদের সাথে তাদের সম্পর্ক কোন অবস্থাতেই উপকারে আসবে না। যেমন, আল্লাহর দু’জন নবী নূহ ও লুত (আলাইহিমাস-সালাম) এর স্ত্রীরা। তারা উভয় দু’জন সৎ বান্দার স্ত্রী ছিলো। তারা উভয় আল্লাহর পথ থেকে বারণ করা ও তাদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে কুফরীর উপর সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের স্বামীর সাথে খিয়ানত করে। ফলে এ দু’জন সৎ বান্দার স্ত্রী হওয়া তাদের কোন উপকারে আসে নি। বরং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কাফির ও ফাসিকদের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করো।
وَضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلٗا لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱمۡرَأَتَ فِرۡعَوۡنَ إِذۡ قَالَتۡ رَبِّ ٱبۡنِ لِي عِندَكَ بَيۡتٗا فِي ٱلۡجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرۡعَوۡنَ وَعَمَلِهِۦ وَنَجِّنِي مِنَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ 11
১১. আল্লাহ তাঁর উপর ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান আনয়নকারীদের দৃষ্টান্ত এভাবে পেশ করেছেন যে, কাফিরদের সাথে তাদের সম্পর্ক কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। আর না তাদের উপর কোনরূপ প্রভাব ফেলবে। যতক্ষণ তারা হকের উপর অটল থাকবে। যেমন, ফিরআউনের স্ত্রীর অবস্থা। যে বলেছিলো, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার উদ্দেশ্যে আপনার নিকট জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করুন। আপনি আমাকে ফিরআউনের দাপট, প্রতাপ ও তার মন্দ আমল থেকে মুক্ত করুন। আপনি আমাকে অপরাধ ও জুলুমে তার আনুসরণ করার মাধ্যমে নিজেদের নফসের উপর অবিচারকারীদের থেকে নিরাপদে রাখুন।
وَمَرۡيَمَ ٱبۡنَتَ عِمۡرَٰنَ ٱلَّتِيٓ أَحۡصَنَتۡ فَرۡجَهَا فَنَفَخۡنَا فِيهِ مِن رُّوحِنَا وَصَدَّقَتۡ بِكَلِمَٰتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِۦ وَكَانَتۡ مِنَ ٱلۡقَٰنِتِينَ 12
১২. আল্লাহ তাঁর উপর ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান আনয়নকারীদের উদাহরণ পেশ করেছেন ইমরান তনয়া মারইয়ামের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে। যে নিজ গুপ্তাঙ্গকে ব্যভিচার থেকে হিফাজত করে। ফলে আল্লাহ জিবরীলকে তাতে ফুৎকারের নির্দেশ দিলেন। তখন তিনি আল্লাহর কুদরতে ঈসা ইবনু মারইয়ামকে পিতা ব্যতিরেকেই গর্ভে ধারণ করেন। তিনি আল্লাহর বিধি-বিধান ও তাঁর রাসূলগণের উপর অবতীর্ণ তাঁর কিতাব সমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন। উপরন্তু তিনি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন।
ক. খাঁটি তাওবা সর্ব প্রকার কল্যাণের উপায়।
খ. জ্ঞান ও প্রমাণ ভিত্তিক যুদ্ধ এবং তরবারির যুদ্ধের মধ্যকার সমন্বয়ের মধ্যে এ কথার দলীল বিদ্যমান যে, উভয়ের গুরুত্ব অপরিসীম এবং একটা থেকে অপরটাকে পৃথক করার কোন উপায় নেই।
গ. দ্বীনের মধ্যে ব্যবধান দেখা দিলে বংশ কিংবা সম্বন্ধের সম্পর্ক কিয়ামত দিবসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোন কাজে আসবে না।
ঘ. সতীত্বের পাশাপশি সংশয়ের স্থান থেকে দূরে অবস্থান সৎ মুমিনা নারীদের বৈশিষ্ট্য।