قَالَ مَعَاذَ ٱللَّهِ أَن نَّأۡخُذَ إِلَّا مَن وَجَدۡنَا مَتَٰعَنَا عِندَهُۥٓ إِنَّآ إِذٗا لَّظَٰلِمُونَ 79
৭৯. ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) বললেন: কোন যালিমের অপরাধে অন্য কোন নির্দোষের উপর যুলুম করা থেকে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি যার থলেতে বাদশার পেয়ালা পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে আটকে রাখতে পারি না। আমি এমন করলে যালিম বলে গণ্য হবো। কেননা, তখন আমার দ্বারা দোষীকে ছেড়ে দিয়ে নির্দোষকে শাস্তি দেয়া হবে।
فَلَمَّا ٱسۡتَيَۡٔسُواْ مِنۡهُ خَلَصُواْ نَجِيّٗاۖ قَالَ كَبِيرُهُمۡ أَلَمۡ تَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ أَبَاكُمۡ قَدۡ أَخَذَ عَلَيۡكُم مَّوۡثِقٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَمِن قَبۡلُ مَا فَرَّطتُمۡ فِي يُوسُفَۖ فَلَنۡ أَبۡرَحَ ٱلۡأَرۡضَ حَتَّىٰ يَأۡذَنَ لِيٓ أَبِيٓ أَوۡ يَحۡكُمَ ٱللَّهُ لِيۖ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلۡحَٰكِمِينَ 80
৮০. যখন তারা ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট তাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলো তখন তারা পারস্পরিক পরামর্শের জন্য মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে গেলো। তাদের বড় ভাই বললো: আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, তোমাদের পিতা তোমাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে আল্লাহর নামে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তোমরা তাঁর ছেলেকে তাঁর নিকট ফিরিয়ে দিবে। তবে এমন কোন ব্যাপার যদি তোমাদেরকে আটক করে ফেলে যা সরাতে তোমরা সক্ষম নও তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। তোমরা কিন্তু ইতিপূর্বে ইউসুফের ব্যাপারে অন্যায় করেছো; তার ব্যাপারে তোমরা নিজেদের পিতার সাথে কৃত অঙ্গীকার পুরো করোনি। তাই আমি মিশর এলাকা ছাড়বো না যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে তাঁর নিকট ফিরতে অনুমতি দেয় অথবা আল্লাহ তা‘আলা আমার ভাইকে নিয়ে আসার ফয়সালা করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সর্বোত্তম ফয়সালাকারী। তিনি সত্য ও ইনসাফের ভিত্তিতে ফয়সালা করেন।
ٱرۡجِعُوٓاْ إِلَىٰٓ أَبِيكُمۡ فَقُولُواْ يَٰٓأَبَانَآ إِنَّ ٱبۡنَكَ سَرَقَ وَمَا شَهِدۡنَآ إِلَّا بِمَا عَلِمۡنَا وَمَا كُنَّا لِلۡغَيۡبِ حَٰفِظِينَ 81
৮১. বড় ভাই আরো বললো: তোমরা নিজেদের পিতার কাছে গিয়ে বলো: নিশ্চয়ই আপনার ছেলে চুরি করেছে। অতঃপর মিশরের শাসনকর্তা আযীয চুরির শাস্তি স্বরূপ তাকে গোলাম বানিয়ে নিয়েছে। আমরা তাই বলছি যা আমরা দেখে জেনেছি। তার থলে থেকে পেয়ালা বের করা হয়েছে। আমরা জানতাম না যে সে চুরি করবে। যদি আমরা তা জানতাম তাহলে আপনার সাথে তাকে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করতাম না।
وَسَۡٔلِ ٱلۡقَرۡيَةَ ٱلَّتِي كُنَّا فِيهَا وَٱلۡعِيرَ ٱلَّتِيٓ أَقۡبَلۡنَا فِيهَاۖ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ 82
৮২. হে আমাদের পিতা! আমাদের কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আপনি মিশরের অধিবাসীদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যাদের কাছে আমরা ছিলাম এবং যে কাফেলার সাথে আমরা এসেছি তাদেরকেও জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তারা আপনাকে তাই বলবে যা আমরা বলেছি। নিশ্চয়ই আমরা তার চুরির সংবাদ প্রসঙ্গে সত্যবাদী।
قَالَ بَلۡ سَوَّلَتۡ لَكُمۡ أَنفُسُكُمۡ أَمۡرٗاۖ فَصَبۡرٞ جَمِيلٌۖ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَأۡتِيَنِي بِهِمۡ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡعَلِيمُ ٱلۡحَكِيمُ 83
৮৩. তাদের পিতা তাদেরকে বললো: ব্যাপারটা তেমন নয় যা তোমরা বলছো যে, সে চুরি করেছে। বরং তোমরা নিজেরাই একটা চক্রান্ত সাজিয়েছো যেমনিভাবে তোমরা ইতিপূর্বে তার ভাইয়ের সাথে চক্রান্ত করেছো। অতএব, ধৈর্য ধরাই আমার জন্য শ্রেয়। অভিযোগ একমাত্র আল্লাহর কাছেই পেশ করছি। আশা করা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের সবাইকেই আমার নিকট ফিরিয়ে দিবেন। ইউসুফ, তার আপন ভাই ও তাদের বড় ভাইকে। নিশ্চয়ই তিনি আমার অবস্থা সম্পর্কে জানেন এবং আমার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
وَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰٓأَسَفَىٰ عَلَىٰ يُوسُفَ وَٱبۡيَضَّتۡ عَيۡنَاهُ مِنَ ٱلۡحُزۡنِ فَهُوَ كَظِيمٞ 84
৮৪. তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে বললেন: আমার ইউসুফের জন্য হায় আপসোস। এদিকে বেশি কাঁদার দরুন তাঁর চোখের কালো অংশটি সাদা হয়ে গেলো। তিনি ভীষণভাবে চিন্তা ও পরিতাপে ভুগছিলেন। তিনি তাঁর দুঃখকে মানুষ থেকে লুকিয়ে রেখেছেন।
قَالُواْ تَٱللَّهِ تَفۡتَؤُاْ تَذۡكُرُ يُوسُفَ حَتَّىٰ تَكُونَ حَرَضًا أَوۡ تَكُونَ مِنَ ٱلۡهَٰلِكِينَ 85
৮৫. ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) এর ভাইয়েরা তাদের পিতাকে বললো: হে আমাদের পিতা! আল্লাহর কসম! আপনি তো শুধু ইউসুফের কথাই স্মরণ করে যাচ্ছেন! অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, ইউসুফের চিন্তায় আপনি কঠিনভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বেন অথবা আপনি কার্যত ধ্বংস হয়ে যাবেন।
قَالَ إِنَّمَآ أَشۡكُواْ بَثِّي وَحُزۡنِيٓ إِلَى ٱللَّهِ وَأَعۡلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ 86
৮৬. তাদের পিতা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আমি আমার দুঃখ-বেদনা কেবল আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি। দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে আল্লাহর সাড়া দেয়া এবং তার প্রতি তাঁর অফুরন্ত দয়া, করুণা এবং প্রতিদানের বিষয়ে আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।
ক. কোন নিরপরাধকে অন্যের দোষে পাকড়াও করা জায়িয নয়। তাই এক অপরাধীর জায়গায় অন্যজনকে পাকড়াও করা যাবে না।
খ. সুন্দর ধৈর্য মানে যাতে শুধু আল্লাহর কাছেই অভিযোগ দেয়া হয়; অন্যের কাছে নয়।
গ. মু’মিনের দায়িত্ব হলো এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই তার বিপদ দূর করবেন।