يَحۡلِفُونَ بِٱللَّهِ لَكُمۡ لِيُرۡضُوكُمۡ وَٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَحَقُّ أَن يُرۡضُوهُ إِن كَانُواْ مُؤۡمِنِينَ 62
৬২. হে মু’মিনগণ! মুনাফিকরা আল্লাহর উপর কসম খেয়ে তোমাদেরকে বলবে: নিশ্চয়ই তারা ইতিপূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে কষ্ট দেয় এমন কিছু বলেনি। মূলতঃ তারা তোমাদেরকে খুশি করার জন্য এমনটি করছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলই বেশি উপযুক্ত যাঁদেরকে ঈমান ও আমলের মাধ্যমে খুশি করানো দরকার। যদি এরা সত্যিকার মু’মিন হতো তাহলে তারা তাই করতো।
أَلَمۡ يَعۡلَمُوٓاْ أَنَّهُۥ مَن يُحَادِدِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَأَنَّ لَهُۥ نَارَ جَهَنَّمَ خَٰلِدٗا فِيهَاۚ ذَٰلِكَ ٱلۡخِزۡيُ ٱلۡعَظِيمُ 63
৬৩. এ মুনাফিকরা কি জানে না যে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুতে রূপান্তরিত হচ্ছে। আর যারা তাঁদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে নিশ্চয়ই তারা কিয়ামতের দিবসে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে?! আর এটি মহা লাঞ্ছনা ও অসম্মান বৈ আর কি?
يَحۡذَرُ ٱلۡمُنَٰفِقُونَ أَن تُنَزَّلَ عَلَيۡهِمۡ سُورَةٞ تُنَبِّئُهُم بِمَا فِي قُلُوبِهِمۡۚ قُلِ ٱسۡتَهۡزِءُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ مُخۡرِجٞ مَّا تَحۡذَرُونَ 64
৬৪. মুনাফিকরা এ কথার ভয় করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের উপর কোন আয়াত নাযিল করে মু’মিনদেরকে তাদের অন্তরের গোপন কুফরি সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন। হে রাসূল! আপনি বলে দিন: হে মুনাফিকরা! তোমরা চাইলে ধর্মের প্রতি আঘাত ও ঠাট্টা-বিদ্রুপ চালিয়ে যেতে পারো। তবে আল্লাহ তা‘আলা কোন সূরা নাযিল করে কিংবা তাঁর রাসূলকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দিয়ে তোমাদের জন্য আশঙ্কাজনক ব্যাপারটি প্রকাশ করে দিবেন।
وَلَئِن سَأَلۡتَهُمۡ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلۡعَبُۚ قُلۡ أَبِٱللَّهِ وَءَايَٰتِهِۦ وَرَسُولِهِۦ كُنتُمۡ تَسۡتَهۡزِءُونَ 65
৬৫. হে রাসূল! আপনি যদি মুনাফিকদেরকে ধর্মের প্রতি আঘাত ও মু’মিনদেরকে গালি দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যা আল্লাহ তা‘আলা ইতিমধ্যে আপনাকে জানিয়ে দিয়েছেন তাহলে তারা অবশ্যই বলবে: আমরা কথার ফাঁকে একটু ঠাট্টা করছিলাম; বাস্তবিক দৃষ্টিতে কোন কিছু বলিনি। হে রাসূল! আপনি বলে দিন: তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকারা করছো?!
لَا تَعۡتَذِرُواْ قَدۡ كَفَرۡتُم بَعۡدَ إِيمَٰنِكُمۡۚ إِن نَّعۡفُ عَن طَآئِفَةٖ مِّنكُمۡ نُعَذِّبۡ طَآئِفَةَۢ بِأَنَّهُمۡ كَانُواْ مُجۡرِمِينَ 66
৬৬. এ মিথ্যা কৈফিয়ত তোমরা পেশ করো না। কারণ, তোমরা ঠাট্টার মাধ্যমে গোপন কুফরিকে প্রকাশ করে দিয়েছো। যদিও আমি তোমাদের এক দলকে মুনাফিকী ছেড়ে দেয়া এবং তা থেকে তাওবা করা ও আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠার কারণে ক্ষমা করে দেবো তবে তোমাদের অন্য দলটিকে মুনাফিকীর উপর অটলতা এবং তা থেকে তাওবা না করার কারণে অবশ্যই শাস্তি দেবো।
ٱلۡمُنَٰفِقُونَ وَٱلۡمُنَٰفِقَٰتُ بَعۡضُهُم مِّنۢ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمُنكَرِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَقۡبِضُونَ أَيۡدِيَهُمۡۚ نَسُواْ ٱللَّهَ فَنَسِيَهُمۡۚ إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ 67
৬৭. মুনাফিকরা চাই পুরুষ হোক কিংবা মহিলা - তারা সবাই মুনাফিকির ক্ষেত্রে একমত। তারা মূলতঃ মু’মিনদের বিপরীত। তারা অসৎ কাজের আদেশ করে এবং সৎ কাজে নিষেধ করে। উপরন্তু তারা সম্পদের ব্যাপারে কৃপণতা করে। তারা কখনোই তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না। তারা আল্লাহর আনুগত্যকে পরিত্যাগ করেছে। তাই আল্লাহ তা‘আলাও এর সুযোগ দানের ব্যাপারে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বস্তুতঃ মুনাফিকরা আল্লাহর আনুগত্য ও সত্য পথ থেকে বেরিয়ে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ ও ভ্রষ্টতার পথে এগুচ্ছে।
وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ وَٱلۡمُنَٰفِقَٰتِ وَٱلۡكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ هِيَ حَسۡبُهُمۡۚ وَلَعَنَهُمُ ٱللَّهُۖ وَلَهُمۡ عَذَابٞ مُّقِيمٞ 68
৬৮. আল্লাহ তা‘আলা তাওবা না করা কাফির ও মুনাফিকদের ব্যাপারে এ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাবেন। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। শাস্তি হিসেবে তাই তাদের জন্য উপযুক্ত। উপরন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি আর শাস্তি।
ক. মুনাফিকদের মন্দ চরিত্র অনেক। তবে সেগুলোর অন্যতম হলো মিথ্যা শপথ করা এবং মিথ্যা কাজে অগ্রসর হওয়া, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা করা, কুরআন, নবী ও মু’মিনদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করা, কুরআনের এমন কোন সূরা নাযিলের ব্যাপারে ভয় পাওয়া যা তাদের গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিতে পারে এবং এ বলে তাদের কৈফিয়ত দেয়া যে, নিশ্চয়ই তারা ঠাট্টা ও বিদ্রুপ করছিলো। মূলতঃ এটি গুনাহের স্বীকারোক্তি মাত্র। বরং এটি গুনাহের চেয়েও একটি গুরুতর ও মারাত্মক ব্যাপার।
খ. ধর্ম ও তার বিধি-বিধানকে নিয়ে ঠাট্টা ও মশকারা গ্রহণযোগ্য নয়। উপরন্তু আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ ও তাঁর গুণাবলী নিয়ে বিধিবহির্ভূত পন্থায় আলোচনা করা সুস্পষ্ট কুফরি কাজ।
গ. মুনাফিকী মূলতঃ মানুষের অন্তরের একটি মারাত্মক রোগ এবং এ জাতীয় রোগীরা প্রত্যেক যুগে ও সময়ে একই রকম। তারা অসৎ কাজের আদেশ করে এবং সৎ কাজে নিষেধ করে। উপরন্তু তারা জিহাদ তথা আল্লাহর পথে খরচ করা ও ওয়াজিব অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয় ও কার্পণ্য করে।
ঘ. প্রতিদান মূলতঃ কর্মের উপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। সুতরাং যে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাঁর রহমত থেকে দূরে রাখেন।