إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَادُواْ وَٱلنَّصَٰرَىٰ وَٱلصَّٰبِِٔينَ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَلَهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ 62
৬২. এ উম্মতের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে, তেমনিভাবে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রিসালাতের পূর্বের উম্মতগুলোর মধ্যকার ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মু’মিনরা এবং সাবিয়া তথা যারা কোন এক নবীর যুগে তাঁর অনুসরণ করেছে তারা যদি আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান এনে থাকে তাহলে তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য সাওয়াব রয়েছে। উপরন্তু পরকালে তাদের কোন ভয় থাকবে না। এমনকি দুনিয়ার কোন ব্যাপার নিয়েও তারা চিন্তিত হবে না।
وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَكُمۡ وَرَفَعۡنَا فَوۡقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُواْ مَآ ءَاتَيۡنَٰكُم بِقُوَّةٖ وَٱذۡكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ 63
৬৩. আর তোমরা সে সময়ের কথাও স্মরণ করো যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়েছি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনার ব্যাপারে। আর তোমাদের মাথার উপর পাহাড় উঁচিয়ে ধরেছি তোমাদেরকে ভয় দেখানো এবং অঙ্গীকার অনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করার শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য। এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে আদেশ করেছি তোমাদের উপর নাযিলকৃত তাওরাতকে শক্ত ও মজবুত করে আঁকড়ে ধরার জন্য। যাতে এ ব্যাপারে কোন ধরনের অলসতা কিংবা অবহেলা করা না হয়। সুতরাং তাতে যা রয়েছে তা হিফাজত করো এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো তবেই তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে পারবে।
ثُمَّ تَوَلَّيۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَۖ فَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُۥ لَكُنتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ 64
৬৪. এ কঠিন অঙ্গীকারের পরও তোমরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়েছো। যদি আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ক্ষমা না করতেন এবং তাওবা কবুল করে তোমাদের প্রতি বিশেষ দয়া না দেখাতেন তাহলে তোমরা এ অবাধ্যতা ও মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে।
وَلَقَدۡ عَلِمۡتُمُ ٱلَّذِينَ ٱعۡتَدَوۡاْ مِنكُمۡ فِي ٱلسَّبۡتِ فَقُلۡنَا لَهُمۡ كُونُواْ قِرَدَةً خَٰسِِٔينَ 65
৬৫. তোমরা নিজেদের পূর্ববর্তীদের একটি ঘটনা নিশ্চয়ই ভালোভাবে ও সন্দেহাতীতভাবে জেনেছো। আর তা হলো, তারা শনিবারের দিন মাছ শিকার করে সীমালঙ্ঘন করেছে। অথচ মাছ শিকার করা সেদিন তাদের উপর হারাম করা হয়েছিলো। তারা শনিবারের আগের দিন জাল ফেলে এবং রবিবারের দিন তা উঠিয়ে নিয়ে মূলতঃ চালাকি করেছে। এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা এ চালাকদেরকে তাদের চালাকির শাস্তি স্বরূপ লাঞ্ছিত বানরে রূপান্তরিত করেছেন।
فَجَعَلۡنَٰهَا نَكَٰلٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهَا وَمَا خَلۡفَهَا وَمَوۡعِظَةٗ لِّلۡمُتَّقِينَ 66
৬৬. আমি এ সীমালঙ্ঘনকৃত এলাকাটিকে এর আশপাশের এলাকাগুলোর জন্য শিক্ষণীয় বানিয়েছি। এমনকি যারা এর পরে আসবে তাদের জন্যও। যাতে কেউ তাদের ন্যায় আমল করে জাহান্নামের উপযুক্ত না হয়ে যায়। উপরন্তু আমি এটিকে আল্লাহভীরুদের জন্যও উপদেশ বানিয়েছি। যারা আল্লাহর শাস্তি এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের থেকে তাঁর কঠিন প্রতিশোধ নেয়াকে ভয় পায়।
وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تَذۡبَحُواْ بَقَرَةٗۖ قَالُوٓاْ أَتَتَّخِذُنَا هُزُوٗاۖ قَالَ أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡجَٰهِلِينَ 67
৬৭. তোমরা নিজেদের পূর্বপুরুষদের সেই ব্যাপারটিকেও স্মরণ করো যা তাদের ও মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর মাঝে ঘটেছিলো। একদা মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে যে কোন একটি গাভী জবাই করতে বলেছেন। তারা তখন এ কাজটি দ্রুত না করে বরং একগুঁয়েমি করে বললো: আপনি কি আমাদেরকে ঠাট্টার পাত্র পেয়েছেন? তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: না, তা কখনোই নয়। বরং আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট এ ব্যাপারে আশ্রয় কামনা করছি যে, আমি যেন কখনো তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা না বলি এবং মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা না করি।
قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٞ لَّا فَارِضٞ وَلَا بِكۡرٌ عَوَانُۢ بَيۡنَ ذَٰلِكَۖ فَٱفۡعَلُواْ مَا تُؤۡمَرُونَ 68
৬৮. তারা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আপনি নিজ প্রতিপালকের নিকট এ আবেদন করেন যে, তিনি যেন আমাদেরকে গাভীটির ধরন বলে দেন। তা কেমন হবে? তখন তিনি তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: সেটি এমন এক গাভী হবে যা বেশি বড়ও হবে না; আবার ছোটও হবে না। বরং তা এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সাইজের হবে। অতএব, তোমাদের প্রভুর আদেশ দ্রুত পালন করো।
قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوۡنُهَاۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٞ صَفۡرَآءُ فَاقِعٞ لَّوۡنُهَا تَسُرُّ ٱلنَّٰظِرِينَ 69
৬৯. তারা কিন্তু তাদের ঝগড়া ও হঠকারিতা দেখিয়েই যাচ্ছিলো। তারা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: আপনি নিজ প্রতিপালকের নিকট এ আবেদন করেন যে, তিনি যেন আমাদেরকে গাভীটির রং বলে দেন। তা কেমন হবে? তখন তিনি তাদেরকে বললেন: আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: সেটি হলো খুব গাঢ় হলুদ বর্ণের একটি গাভী। যা প্রতিটি দর্শককে মোহিত করবে।
ক. প্রথম আয়াতের বিধানটি মূলতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের আগের বিধান। কারণ, তাঁর নবুওয়াতের পরের বিধান হলো, আল্লাহ তা‘আলার নিকট একমাত্র মনোনিত ধর্ম হলো ইসলাম। এ ছাড়া অন্য কিছু আল্লাহ তা‘আলা গ্রহণ করবেন না। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَمَنْ يَّبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلاَمِ دِيْناً فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْهُ [آل عمران: ٨٥]
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু খুঁজবে তা তার কাছ থেকে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না”। (আলি-ইমরান: ৮৫)
খ. কখনো কখনো আল্লাহ তা‘আলা কিছু গুনাহর শাস্তি আখিরাতের আগে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। যাতে তা অন্যের জন্য উপদেশ হয়ে যায়। যাতে তারা আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করাকে ভয় পায়।
গ. যে ব্যক্তি শরীয়তের কোন বিধানের ব্যাপক সুযোগকে অবহেলা করে নিজের উপর তা কঠিন করে ফেলে আল্লাহ তা‘আলা সে জন্য কখনো কখনো কঠোরতা দিয়েই তাকে শাস্তি দেন।