لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِيهِمۡ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَۚ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ 6
৬. এ উত্তম আদর্শ থেকে কেবল সে ব্যক্তিই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনা করে থাকে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এ উত্তম আদর্শ থেকে বিরত থাকে সে যেন জেনে রাখে যে, আল্লাহ নিজ বান্দাদের ইবাদতের অমুখাপেক্ষী। তিনি তাদের আনুগত্যের মুখাপেক্ষী নন। বস্তুতঃ তিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত।
۞عَسَى ٱللَّهُ أَن يَجۡعَلَ بَيۡنَكُمۡ وَبَيۡنَ ٱلَّذِينَ عَادَيۡتُم مِّنۡهُم مَّوَدَّةٗۚ وَٱللَّهُ قَدِيرٞۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ 7
৭. হে মুমিনরা! হতে পারে আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করার মাধ্যমে তোমাদের ও তাদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন। ফলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই হিসাবে পরিগণিত হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমতাবান। তিনি তাদের অন্তরগুলোকে ঈমানের দিকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যারা তাওবা করে তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়াপরবশ।
لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ 8
৮. যারা তোমাদের ইসালামের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি আর তোমাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দেয়নি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার দেখাতে আল্লাহ বাধা দেন না। তেমনিভাবে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে তাদের সাথে ইনসাফ করতেও কোন বাধা নেই। অবশ্যই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন। যারা নিজেদের সাথে এবং আপনজন ও অধীনস্থদের সাথে ইনসাফ করে।
إِنَّمَا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ قَٰتَلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَأَخۡرَجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ وَظَٰهَرُواْ عَلَىٰٓ إِخۡرَاجِكُمۡ أَن تَوَلَّوۡهُمۡۚ وَمَن يَتَوَلَّهُمۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ 9
৯. আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুসুলভ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন যারা ঈমান আনার কারণে তোমাদের সাথে শত্রুতা করে, তোমাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দেয় এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে সহযোগিতা করে। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করার ফলে নিজেদের উপর অবিচারকারী হবে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا جَآءَكُمُ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ مُهَٰجِرَٰتٖ فَٱمۡتَحِنُوهُنَّۖ ٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِإِيمَٰنِهِنَّۖ فَإِنۡ عَلِمۡتُمُوهُنَّ مُؤۡمِنَٰتٖ فَلَا تَرۡجِعُوهُنَّ إِلَى ٱلۡكُفَّارِۖ لَا هُنَّ حِلّٞ لَّهُمۡ وَلَا هُمۡ يَحِلُّونَ لَهُنَّۖ وَءَاتُوهُم مَّآ أَنفَقُواْۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّۚ وَلَا تُمۡسِكُواْ بِعِصَمِ ٱلۡكَوَافِرِ وَسَۡٔلُواْ مَآ أَنفَقۡتُمۡ وَلۡيَسَۡٔلُواْ مَآ أَنفَقُواْۚ ذَٰلِكُمۡ حُكۡمُ ٱللَّهِ يَحۡكُمُ بَيۡنَكُمۡۖ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ 10
১০. হে মুমিন সম্প্রদায়! তোমরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছো ও তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ী আমল করে থাকো তোমাদের নিকট যখন মুমিন নারীরা কুফরীর দেশ হতে ইসলামের দেশে হিজরত করে আসে তখন তোমরা তাদের ঈমানের সত্যতা যাচাই করবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের ঈমানের খবর জানেন। তাঁর নিকট তাদের অন্তরের কোন কিছুই গোপন থাকে না। যদি পরীক্ষার পর তাদের সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার ভিত্তিতে তোমরা তাদের ঈমান সম্পর্কে নিশ্চিত হও তাহলে তাদেরকে নিজেদের কাফির স্বামীর কাছে ফেরত দিবে না। মুমিন নারীদের জন্য কাফির পুরুষদের সাথে বিয়ে বসা অবৈধ। আর কাফির পুরুষদের জন্য মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করা অবৈধ। তবে তাদের স্বামীদেরকে তাদের প্রদত্ত মহর দিয়ে দাও। হে মুমিনরা! তোমরা তাদের ইদ্দত পার হওয়ার পর মহর পরিশোধ পূর্বক তাদেরকে বিয়ে করলে তাতে কোন বাধা নেই। বস্তুতঃ যার স্ত্রী কাফির কিংবা ইসলাম থেকে বেরিয়ে পড়েছে তাকে সে ধরে রাখবে না। কেননা, কুফরীর দরুন বিবাহ-বন্ধন ছুটে যায়। তোমরা কাফিরদের নিকট তোমাদের ধর্মচ্যুত স্ত্রীদেরকে দেয়া মহর ফেরত চাও। আর তারাও তোমাদের নিকট তাদের ইসলামে দীক্ষিতা স্ত্রীদের মহর নিয়ে নিক। উপরোক্ত মহর আদান-প্রদান হলো আল্লাহর বিধান। তিনি তোমাদের মধ্যে যেভাবে ইচ্ছা ফয়সালা করেন। আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের অবস্থা ও আমলের ব্যাপারে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট এ সবের কোন কিছুই গোপন থাকে না। তিনি তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে যা প্রবর্তন করেন তাতে প্রজ্ঞাবান।
وَإِن فَاتَكُمۡ شَيۡءٞ مِّنۡ أَزۡوَٰجِكُمۡ إِلَى ٱلۡكُفَّارِ فَعَاقَبۡتُمۡ فََٔاتُواْ ٱلَّذِينَ ذَهَبَتۡ أَزۡوَٰجُهُم مِّثۡلَ مَآ أَنفَقُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ أَنتُم بِهِۦ مُؤۡمِنُونَ 11
১১. যদি ধরে নেয়া যায় যে, তোমাদের কিছু নারী ধর্মচ্যুত হয়ে কাফিরদের নিকট চলে গিয়েছে এবং তোমরা কাফিরদের নিকট তাদের মহর চাইলে তারা তা প্রদান করে নি এমতাবস্থায় তোমরা কাফিরদের থেকে গনীমতের যে সম্পদ লাভ করো তা থেকে যে সব নারী ধর্মচ্যুত হয়ে চলে গিয়েছে তাদের স্বামীদেরকে তাদের কর্তৃক মহর হিসাবে দেয়া অর্থ প্রদান করো। আর তোমরা যে আল্লাহতে বিশ্বাসী তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো।
ক. আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দাদের অন্তরকে শত্রুতা থেকে বন্ধুত্বের দিকে এবং কুফরী থেকে ইসলামের দিকে ফিরিয়ে দেয়াতে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, বান্দাদের অন্তরগুলো আল্লাহর দু’ অঙ্গুলীর মাঝে অবস্থিত। তাই বান্দাহ তাঁর নিকট ঈমানের উপর অটল থাকার তাওফীক কামনা করবে।
খ. যুদ্ধে লিপ্ত কাফির ও চুক্তিবদ্ধ কাফিরের মাঝে বিধানগত পার্থক্য রয়েছে।
গ. আহলে কিতাব (ইহুদী-খৃষ্টান) নয় এরকম কাফির নারীর সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সাময়িক ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ। তেমনিভাবে মুসলিম নারীর জন্য যে কোন কাফির পুরুষের সাথে বিয়ে সাময়িক ও স্থায়ী সর্বাবস্থায় হারাম।