وَعۡدَ ٱللَّهِۖ لَا يُخۡلِفُ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ 6
৬. এহেন সাহায্যের কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে অঙ্গিকার স্বরূপ এসেছে। আর আল্লাহ কখনো তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। এর বাস্তবায়নে আল্লাহর অঙ্গিকারে মুমিনগণের বিশ্বাস দৃঢ়তর হয়। পক্ষান্তরে বেশীরভাগ মানুষ কুফুরিতে লিপ্ত থাকার কারণে তা বুঝতে পারে না।
يَعۡلَمُونَ ظَٰهِرٗا مِّنَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَهُمۡ عَنِ ٱلۡأٓخِرَةِ هُمۡ غَٰفِلُونَ 7
৭. তারা ঈমান ও শরীয়তের বিধান জানে না। তারা কেবল পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয়াদি বুঝতে চায়, যা উপভোগ ও বস্তুগত সভ্যতা রচনা করে মাত্র। তারা পরকাল সম্পর্কে তথা প্রকৃত জীবনের দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে মুখ ফিরিয়ে রাখে।
أَوَ لَمۡ يَتَفَكَّرُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۗ مَّا خَلَقَ ٱللَّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَآ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَأَجَلٖ مُّسَمّٗىۗ وَإِنَّ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِ بِلِقَآيِٕ رَبِّهِمۡ لَكَٰفِرُونَ 8
৮. মিথ্যারোপকারী মুশরিকরা কি তাদের নিজেদের নফসকে নিয়ে এতটুকুও চিন্তা করে না যে, আল্লাহ তা কীভাবে সৃষ্টি ও বিন্যস্ত করলেন? আল্লাহ তা‘আলা আসমান-জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যকার সবকিছুই সত্য সহকারে সৃষ্টি করেছেন; অনর্থক নয়। তেমনিভাবে তিনি উভয়ের জন্য স্থায়ীত্বের একটি মেয়াদও নির্ধারণ করেছেন। অথচ বহু মানুষ ক্বিয়ামত দিবসে স্বীয় প্রতিপালকের সাক্ষাতে অবিশ্বাসী। ফলে তারা পুনরুত্থানের জন্য স্বীয় প্রতিপালকের পছন্দসই আমল নিয়ে প্রস্তুতি নেয় না।
أَوَ لَمۡ يَسِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَيَنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۚ كَانُوٓاْ أَشَدَّ مِنۡهُمۡ قُوَّةٗ وَأَثَارُواْ ٱلۡأَرۡضَ وَعَمَرُوهَآ أَكۡثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَآءَتۡهُمۡ رُسُلُهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِۖ فَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيَظۡلِمَهُمۡ وَلَٰكِن كَانُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ 9
৯. এরা কেন জমিনে ভ্রমণ করে না, যাতে পূর্বসূরী মিথ্যাচারকারীদের পরিণাম নিয়ে ভাবতে পারে? যারা তাদের অপেক্ষা আরো শক্তিশালী ছিল, জমিনকে শস্যাদি ও আবাসন দ্বারা তারা অনেক বেশী আবাদ ও পরিবর্ধন করেছিল। তাদের নিকট আল্লাহর একত্ববাদের সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণাদি নিয়ে তাদের রাসূলগণ আগমন করেছিলেন। তারা তাদেরকে মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধংস করে আদৌ জুলুম করেন নি। বরং তারা কুফুরী করার মাধ্যমে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজেদের উপর নিজেরাই জুলুম করেছে।
ثُمَّ كَانَ عَٰقِبَةَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔواْ ٱلسُّوٓأَىٰٓ أَن كَذَّبُواْ بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَكَانُواْ بِهَا يَسۡتَهۡزِءُونَ 10
১০. আতঃপর যারা শিরক ও পাপের মাধ্যমে মন্দ আমল করেছিল তাদের পরিণামও চূড়ান্ত পর্যায়ের মন্দ হয়েছে। কেননা, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করেছিল, সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করেছিল।
ٱللَّهُ يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ 11
১১. আল্লাহ পাক কোনরূপ নমুনা ব্যতিরেকেই প্রথমবার সৃষ্টি করেন। অতঃপর তাকে নস্যাত করে পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আর ক্বিয়ামত দিবসে শুধু তাঁরই নিকট হিসাব ও প্রতিদান নেয়ার জন্য তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يُبۡلِسُ ٱلۡمُجۡرِمُونَ 12
১২. যে দিন ক্বিয়ামত কায়েম হবে সেদিন আপরাধীরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে এবং তাদের আশা ভঙ্গ হবে। কেননা, আল্লাহর সাথে কুফরি করার পক্ষে তাদের দলীল সেদিন শেষ হয়ে যাবে।
وَلَمۡ يَكُن لَّهُم مِّن شُرَكَآئِهِمۡ شُفَعَٰٓؤُاْ وَكَانُواْ بِشُرَكَآئِهِمۡ كَٰفِرِينَ 13
১৩. দুনিয়াতে তারা যাদের ইবাদত করতো তাদের সেইসব অংশীদাররা সুপারিশ করে তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা দেয়ার জন্যও এগিয়ে আসবে না। বরং তারা এদেরকে অস্বীকার করবে। এমনকি একান্ত প্রয়োজনের সময় তারা তাদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবে। কেননা, তারা সবাই সমানভাবে ধ্বংস হবে।
وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ يَوۡمَئِذٖ يَتَفَرَّقُونَ 14
১৪. আর যেদিন ক্বিয়ামত কায়েম হবে সেদিন পৃথিবীতে মানুষের আমলের ভিন্নতার দরুন ফলাফলেও তারা ভিন্ন হবে। তাদের কেউ ইল্লিঈনে উন্নিত হবে। আবার কেউ সর্বাধিক নিচে সিজ্জীনে অবস্থান করবে।
فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَهُمۡ فِي رَوۡضَةٖ يُحۡبَرُونَ 15
১৫. যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনবে ও তাঁর নিকট সন্তোষজনক নেক আমল করবে তারা জন্নাতে অশেষ ও আবারিত নি‘আমত লাভে সানন্দে বসবাস করবে।
ক. পরকালে কাজে লাগবে এমন শিক্ষা বাদ রেখে শুধু দুনিয়ার উপযোগী শিক্ষা কোন উপকারে আসবে না।
খ. নিজের মধ্যে ও দিগন্তে প্রকাশমান নিদর্শনাদি আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
গ. পূর্বকালের জাতিদের ধ্বংসের মূল কারণ ছিল অন্যায়-অত্যাচার।
ঘ. ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক মুমিনদেরকে সমুন্নত করবেন আর কাফিরদেরকে অবনমিত করবেন।