وَيَسۡتَعۡجِلُونَكَ بِٱلسَّيِّئَةِ قَبۡلَ ٱلۡحَسَنَةِ وَقَدۡ خَلَتۡ مِن قَبۡلِهِمُ ٱلۡمَثُلَٰتُۗ وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغۡفِرَةٖ لِّلنَّاسِ عَلَىٰ ظُلۡمِهِمۡۖ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ 6
৬. হে রাসূল! মুশরিকরা আপনার নিকট দ্রুত শাস্তি কামনা করছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য যে নিয়ামতগুলো বরাদ্দ করেছেন তা পরিপূর্ণরূপে পাওয়ার আগেই তারা নিজেদের প্রতি শাস্তি নাযিল হওয়াকে দূরে ভাবছে। অথচ তাদের আগে তাদের মতো মিথ্যারোপকারী জাতির শাস্তি এসে গিয়েছে। কিন্তু তারা সেগুলো থেকে কেন শিক্ষা গ্রহণ করছে না? হে রাসূল! নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক মানুষের অত্যাচার সত্ত্বেও তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। তিনি তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেন না। যেন তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারে। তবে কুফরির উপর অটল ব্যক্তিদের জন্য যদি তারা তাওবা না করে তাহলে তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও বটে।
وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَوۡلَآ أُنزِلَ عَلَيۡهِ ءَايَةٞ مِّن رَّبِّهِۦٓۗ إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرٞۖ وَلِكُلِّ قَوۡمٍ هَادٍ 7
৭. যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তারা আরো বেশি হঠকারিতা দেখিয়ে এবং আল্লাহর পথে আরো বেশি বাধা সৃষ্টি করে বলে: কেন মুহাম্মাদের উপর তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল হয়নি। যেমনিভাবে তা নাযিল করা হয়েছে মূসা এবং ‘ঈসা (আলাইহিমাস-সালাম) এর উপর। হে রাসূল! আপনি কেবল ভীতি প্রদর্শনকারী। আপনি মানুষকে আল্লাহর শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। আপনি সেই নিদর্শনেরই অধিকারী হবেন যা আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে দিবেন। আর প্রত্যেক জাতিরই একজন নবী রয়েছেন যিনি তাদেরকে সত্যের পথ প্রদর্শন করবেন।
ٱللَّهُ يَعۡلَمُ مَا تَحۡمِلُ كُلُّ أُنثَىٰ وَمَا تَغِيضُ ٱلۡأَرۡحَامُ وَمَا تَزۡدَادُۚ وَكُلُّ شَيۡءٍ عِندَهُۥ بِمِقۡدَارٍ 8
৮. আল্লাহই ভালো জানেন প্রত্যেক মহিলা তার পেটে কী ধারণ করছে। তিনি সে ব্যাপারে সবকিছুই জানেন। তিনি আরো জানেন জরায়ুগুলোতে কী বেশ-কম এবং সুস্থতা ও অসুস্থতা ঘটছে। প্রতিটি বস্তু আল্লাহর নিকট এমনভাবে পরিমিত যা থেকে তিনি কম-বেশ করেন না।
عَٰلِمُ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ ٱلۡكَبِيرُ ٱلۡمُتَعَالِ 9
৯. কেননা, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির ইন্দ্রিয়ের বাইরে যা আছে এবং তাদের ইন্দ্রিয়গুলো যা অনুভব করছে তা সবই তিনি জানেন। তিনি তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কর্মসমূহে মহান। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁর সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে।
سَوَآءٞ مِّنكُم مَّنۡ أَسَرَّ ٱلۡقَوۡلَ وَمَن جَهَرَ بِهِۦ وَمَنۡ هُوَ مُسۡتَخۡفِۢ بِٱلَّيۡلِ وَسَارِبُۢ بِٱلنَّهَارِ 10
১০. তিনি গোপন ও অতি গোপন সবকিছুই জানেন। হে মানুষ! তোমরা যে কথা লুকিয়ে বলো এবং যে কথা প্রকাশ্যে বলো তা সবই তাঁর জ্ঞানে সমান। তেমনিভাবে তাঁর জ্ঞানে সমান যে মানুষের চোখের আড়ালে রাতের অন্ধকারে গোপনে আর যে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে আমলকারী।
لَهُۥ مُعَقِّبَٰتٞ مِّنۢ بَيۡنِ يَدَيۡهِ وَمِنۡ خَلۡفِهِۦ يَحۡفَظُونَهُۥ مِنۡ أَمۡرِ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ وَإِذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِقَوۡمٖ سُوٓءٗا فَلَا مَرَدَّ لَهُۥۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَالٍ 11
১১. তাঁর এমন কিছু ফিরিশতা রয়েছে যারা মানুষের নিকট একের পর এক আসে। তাদের কেউ রাতে আর কেউ দিনে। যারা মানুষকে আল্লাহর আদেশে এমন কিছু তাকদীরের ফয়সালা থেকে হিফাযত করে যা থেকে তাকে রক্ষা করা আল্লাহ তা‘আলা লিখে রেখেছেন। তেমনিভাবে তারা তার কথা এবং আমলগুলোও লিখে রাখে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির ভালো অবস্থাকে তাদের অপছন্দীয় অবস্থায় পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের কৃতকর্মের অবস্থার পরিবর্তন করে। যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির ধ্বংস চান তখন তাঁর ইচ্ছার প্রতিরোধ কেউ করতে পারে না। হে মানুষ! আল্লাহ ছাড়া তোমাদের এমন কোন অভিভাবক নেই, যে তোমাদের বিষয়গুলোর দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারে এবং আপতিত বিপদকে প্রতিরোধ করার জন্য তোমরা যার আশ্রয় গ্রহণ করতে পারো।
هُوَ ٱلَّذِي يُرِيكُمُ ٱلۡبَرۡقَ خَوۡفٗا وَطَمَعٗا وَيُنشِئُ ٱلسَّحَابَ ٱلثِّقَالَ 12
১২. হে মানুষ! তিনিই তোমাদেরকে বিদ্যুৎ চমকানো দেখান এবং তারই মাধ্যমে বজ্রপাতের ভয় ও বৃষ্টির আশা একত্রিত করেন। আর তিনিই প্রচুর বৃষ্টির পানি বোঝাই মেঘমালা সৃষ্টি করেন।
وَيُسَبِّحُ ٱلرَّعۡدُ بِحَمۡدِهِۦ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ مِنۡ خِيفَتِهِۦ وَيُرۡسِلُ ٱلصَّوَٰعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَآءُ وَهُمۡ يُجَٰدِلُونَ فِي ٱللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ ٱلۡمِحَالِ 13
১৩. বজ্রনিনাদ তার প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ফিরিশতারাও তাদের প্রতিপালকের ভয়, সম্মান ও মহত্ত্বের দিকে লক্ষ্য করে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে। তিনি তাঁর সৃষ্টির যার উপরই চান দহনকারী বজ্র পাঠিয়ে তাকে ধ্বংস করেন। কাফিররা আল্লাহর এককত্ব নিয়ে ঝগড়া করে; অথচ আল্লাহ তা‘আলা কঠিন ক্ষমতাধর ও শক্তিশালী। ফলে তিনি যা চান তাই করতে পারেন।
ক. আদম সন্তানের গুনাহের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা মহা ধৈর্য ও ক্ষমাশীল। তারা অহঙ্কার করে তাঁর নবী ও রাসূলদের সাথে চ্যালেঞ্জ করে। এতদসত্ত্বেও তিনি তাদেরকে রিযিক দেন, সুস্থ রাখেন ও তাদের প্রতি ধৈর্য ধরেন।
খ. জরায়ুর অন্ধকারে গোপনীয় বস্তুর প্রতিও আল্লাহর জ্ঞান বিস্তৃত। তিনি জানেন জরায়ুতে পতিত বীর্যের ব্যাপার এবং তা ছেলে বা মেয়েতে রূপান্তরিত হওয়া। উপরন্তু তার সুস্থতা ও অসুস্থতা এবং তার রিযিক ও বয়স এমনকি সে দুর্ভাগা হবে না সৌভাগ্যবান, এ সব ব্যাপারে তাঁর জ্ঞান ব্যাপক ও বিস্তৃত।
গ. এখানে আদম সন্তানের প্রতি আল্লাহর মহা যত্নশীলতা এবং ফিরিশতাদের অস্তিত্বের প্রমাণ আছে। যেমন: হিফাযতকারী ফিরিশতাগণ তার হিফাযত ও পাহারাদারি করেন।
ঘ. আল্লাহ তা‘আলা বান্দার অবস্থা ভালোর দিকে পরিবর্তন করেন যখন তিনি তাকে হিদায়েতের উপকরণগুলোর অনুসরণ করতে দেখেন। সুতরাং তাওফীকের হিদায়েত মূলতঃ বয়ানের হিদায়েতের অনুসরণের সাথেই সম্পৃক্ত।