ٱلۡمُلۡكُ يَوۡمَئِذٖ لِّلَّهِ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فِي جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ 56
৫৬. যেদিন এদের সাথে ওয়াদাকৃত কঠিন শাস্তি চলে আসবে সেই কিয়ামতের দিনের মালিকানা কেবল আল্লাহর জন্য। এতে তাঁর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি সেদিন মু’মিন ও কাফিরদের মাঝে ফয়সালা করবেন। প্রত্যেকের জন্য তার উপযুক্ত ফয়সালাই করবেন। ফলে যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান। যা হলো স্থায়ী নিয়ামতের জান্নাত। যা কখনো নিঃশেষ হবে না।
وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بَِٔايَٰتِنَا فَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ عَذَابٞ مُّهِينٞ 57
৫৭. আর যারা আল্লাহর সাথে কুফরি ও আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃত আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নামে লাঞ্ছিত করবেন।
وَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوٓاْ أَوۡ مَاتُواْ لَيَرۡزُقَنَّهُمُ ٱللَّهُ رِزۡقًا حَسَنٗاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ خَيۡرُ ٱلرَّٰزِقِينَ 58
৫৮. এদিকে যারা আল্লাহর দ্বীনকে সম্মানিত ও তাঁর সন্তুষ্টির আশায় নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়েছে অতঃপর তাঁর পথে জিহাদ করতে গেলে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে অথবা তারা স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেছে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জান্নাতে সার্বক্ষণিক উত্তম রিযিক দিবেন। যা কখনো নিঃশেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
لَيُدۡخِلَنَّهُم مُّدۡخَلٗا يَرۡضَوۡنَهُۥۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٞ 59
৫৯. অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এমন এক সন্তোষজনক জায়গায় প্রবেশ করাবেন যা হবে জান্নাত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাদের কর্ম ও নিয়্যাত সম্পর্কে জানেন। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল। তাই তিনি তাদেরকে নিজেদের ত্রুটির জন্য দ্রুত শাস্তি দেননি।
۞ذَٰلِكَۖ وَمَنۡ عَاقَبَ بِمِثۡلِ مَا عُوقِبَ بِهِۦ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيۡهِ لَيَنصُرَنَّهُ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٞ 60
৬০. উক্ত আল্লাহর পথের মুহাজিরদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো এবং অত্যাচারীকে তার অত্যাচারের সমপর্যায়ের আচরণের মাধ্যমে মুকাবিলা করার অনুমতি যাতে কোন গুনাহ না হয়। যদি অত্যাচারী আবারো অত্যাচার করে তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারিতকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের গুনাহগুলো মার্জনাকারী এবং তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ يُولِجُ ٱلَّيۡلَ فِي ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِي ٱلَّيۡلِ وَأَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٞ 61
৬১. অত্যাচারিতকে উক্ত সাহায্য করা তাঁরই আয়ত্বাধীন। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা যাই চান তাই করতে সক্ষম। আর তাঁর কুদরতের একটি নমুনা হলো রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করানো অর্থাৎ একটিকে বাড়ানো এবং অন্যটিকে কমানো। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল কথা শুনেন এবং তাদের সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন। তাঁর নিকট এগুলোর কোন কিছুই গোপন নয়। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে এগুলোর প্রতিদান দিবেন।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ هُوَ ٱلۡبَٰطِلُ وَأَنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡكَبِيرُ 62
৬২. উক্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করানো এ জন্য যে, যেহেতু আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র সত্য। তাই তাঁর দ্বীনও সত্য এবং তাঁর ওয়াদাও সত্য। উপরন্তু মু’মিনদেরকে তাঁর সাহায্য করাও সত্য। আর মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া যে মূর্তিগুলোর পূজা করে তা বাতিল। যার কোন ভিত্তি নেই। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তা, তাকদীর ও প্রভাবে তাঁর সৃষ্টির সর্বোচ্চে। তিনি মহান। তাঁর জন্য রয়েছে বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও সম্মান।
أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَتُصۡبِحُ ٱلۡأَرۡضُ مُخۡضَرَّةًۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٞ 63
৬৩. হে রাসূল! আপনি কি দেখেননি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। ফলে বৃষ্টি নাযিলের পর উদ্ভিদ জন্মানোর দরুন জমিন সবুজ হয়ে যায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়াশীল। তাইতো তিনি তাদের জন্য বৃষ্টি নাযিল করেছেন এবং জমিনে উদ্ভিদ জন্মিয়েছেন। তিনি তাদের সুবিধা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। তাঁর নিকট এগুলোর কোন কিছুই গোপন নয়।
لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ ٱلۡغَنِيُّ ٱلۡحَمِيدُ 64
৬৪. একমাত্র তাঁর জন্যই আকাশ ও জমিনের সবকিছুর মালিকানা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই ধনী। তিনি তাঁর সৃষ্টির কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত।
ক. এখানে ইসলামে হিজরতের অবস্থান ও তার ফযীলতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
খ. সমপরিমাণের শাস্তি বৈধ।
গ. অত্যাচারিতকে আল্লাহর সাহায্য করা দুনিয়াতেও হতে পারে কিংবা আখিরাতে।
ঘ. আল্লাহর মর্যাদার সাথে মানায় এমন সকল সুউচ্চ গুণাবলী তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা। যেমন: জ্ঞান, শ্রবণ, দর্শন ও উপরে অবস্থান।