لِيَكۡفُرُواْ بِمَآ ءَاتَيۡنَٰهُمۡۚ فَتَمَتَّعُواْ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُونَ 55
৫৫. আল্লাহর সাথে শিরক করা মূলতঃ তাদেরকে তাঁর নিয়ামতের সাথে কুফরি করা শিখিয়েছে। আর তাঁর নিয়ামতগুলোর একটি হলো দুঃখ-দুর্দশা দূর করা। এজন্য তাদেরকে বলা হলো, তোমরা নিজেদের নিয়ামতগুলো ভোগ করো যতক্ষণ না আল্লাহর তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী শাস্তি তোমাদের উপর নেমে আসে।
وَيَجۡعَلُونَ لِمَا لَا يَعۡلَمُونَ نَصِيبٗا مِّمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡۗ تَٱللَّهِ لَتُسَۡٔلُنَّ عَمَّا كُنتُمۡ تَفۡتَرُونَ 56
৫৬. মুশরিকরা নিজেদের কিছু অক্ষম ও অজ্ঞ মূর্তিগুলোর জন্য তাদের নৈকট্য লাভের আশায় আমার দেয়া সম্পদে ভাগ বসিয়েছে। অথচ সেগুলো জড়ো বস্তু। না কোন উপকার করতে পারে, না কোন ক্ষতি। হে মুশরিকরা! আল্লাহর কসম! কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে সে মূর্তিগুলো সম্পর্কে যেগুলোকে তোমরা ইলাহ মনে করতে। আর এটাও মনে করতে যে, তোমাদের সম্পদে তাদের ভাগ রয়েছে।
وَيَجۡعَلُونَ لِلَّهِ ٱلۡبَنَٰتِ سُبۡحَٰنَهُۥ وَلَهُم مَّا يَشۡتَهُونَ 57
৫৭. মুশরিকরা আল্লাহর সাথে কন্যা সন্তানকে সম্পৃক্ত করে থাকে। তারা বিশ্বাস করে যে, ফিরিশতাগণ হলেন কন্যা সন্তান। এ মুশরিকরা তাঁর সাথে সন্তান থাকার বিষয়টি সম্পৃক্ত করেছে। অথচ তিনি এ থেকে একেবারেই পূত-পবিত্র। কী আশ্চর্য ব্যাপার! তারা তাঁর সাথে কন্যা সন্তানকেই সম্পৃক্ত করেছে। কিন্তু নিজেদের জন্য তা অপছন্দ করে। পক্ষান্তরে তারা নিজেদের জন্য নিজেদের পছন্দনীয় ছেলে সন্তানদেরকে নির্ধারণ করছে। এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কি হতে পারে?!
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِٱلۡأُنثَىٰ ظَلَّ وَجۡهُهُۥ مُسۡوَدّٗا وَهُوَ كَظِيمٞ 58
৫৮. যখন এ মুশরিকদের কাউকে মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ার সংবাদ দেয়া হয় তখন সে এটাকে কঠিন দুঃসংবাদ ভাবে। ফলে তার চেহারা কালো এবং মন চিন্তা ও বিষণ্ণতায় ভরে যায়। এতদসত্ত্বেও সে যা নিজের জন্য পছন্দ করে না তাই আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে!
يَتَوَٰرَىٰ مِنَ ٱلۡقَوۡمِ مِن سُوٓءِ مَا بُشِّرَ بِهِۦٓۚ أَيُمۡسِكُهُۥ عَلَىٰ هُونٍ أَمۡ يَدُسُّهُۥ فِي ٱلتُّرَابِۗ أَلَا سَآءَ مَا يَحۡكُمُونَ 59
৫৯. তাকে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ার বিষয়ে সংবাদ দেয়া হলে সে এর অনিষ্টতা থেকে বাঁচার জন্য নিজেকে স্বজাতীয় লোকসমাজ থেকে লুকিয়ে রাখতে চায়। সে মনে মনে বলে: এই কন্যা সন্তানকে সকল অপমান ও গ্লানির সাথেই গ্রহণ করবে, না কি তাকে জীবন্ত কবর দিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখবে? বস্তুতঃ মুশরিকদের ফয়সালা কতোই না নিকৃষ্ট। তারা নিজেদের প্রতিপালকের জন্য তাই ফয়সালা করেছে যা তারা নিজেদের জন্য অপছন্দ করে।
لِلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ مَثَلُ ٱلسَّوۡءِۖ وَلِلَّهِ ٱلۡمَثَلُ ٱلۡأَعۡلَىٰۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ 60
৬০. যে কাফিররা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে রয়েছে কিছু নিকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য তথা ছেলে সন্তানের প্রয়োজনীয়তা, মূর্খতা ও কুফরি। আর আল্লাহর জন্য রয়েছে প্রশংসনীয় কিছু উঁচু মানের বৈশিষ্ট্যাবলী তথা মহিমা, পরিপূর্ণতা, সচ্ছলতা ও জ্ঞান। তিনি নিজ ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। যিনি তাঁর সৃষ্টি, পরিকল্পনা ও আইন রচনায় অতি প্রজ্ঞাময়।
وَلَوۡ يُؤَاخِذُ ٱللَّهُ ٱلنَّاسَ بِظُلۡمِهِم مَّا تَرَكَ عَلَيۡهَا مِن دَآبَّةٖ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمۡ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمّٗىۖ فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمۡ لَا يَسۡتَٔۡخِرُونَ سَاعَةٗ وَلَا يَسۡتَقۡدِمُونَ 61
৬১. যদি আল্লাহ তা‘আলা মানুষদেরকে তাদের যুলুম ও কুফরির জন্য সর্বদা শাস্তি দিতেন তাহলে তিনি কোন মানুষ বা পশুকে জমিনের উপর বিচরণ করতে দিতেন না। তবে তিনি তাঁর জ্ঞান মুতাবিক তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুযোগ দিয়ে থাকেন। তাঁর জানা মতে সে নির্দিষ্ট সময় যখন চলে আসবে তখন তাদের মৃত্যুর সময়ের সামান্য কোন আগ-পিছ হবে না।
وَيَجۡعَلُونَ لِلَّهِ مَا يَكۡرَهُونَۚ وَتَصِفُ أَلۡسِنَتُهُمُ ٱلۡكَذِبَ أَنَّ لَهُمُ ٱلۡحُسۡنَىٰۚ لَا جَرَمَ أَنَّ لَهُمُ ٱلنَّارَ وَأَنَّهُم مُّفۡرَطُونَ 62
৬২. যে কন্যা সন্তানকে তারা নিজেদের সাথে সম্পৃক্ত করতে অপছন্দ করে তারা তাই আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করেছে। উপরন্তু তারা আরো মিথ্যা বলে যে, যদি তাদেরকে সত্যিই পুনরুত্থিত করা হয় যা তাদের ধারণা তাহলে আল্লাহর নিকট তাদের অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। মূলতঃ তাদের জন্য অবশ্যই জাহান্নাম রয়েছে। তাদেরকে সেখানে ছেড়ে দেয়া হবে। সেখান থেকে তাদেরকে কখনোই বের করা হবে না।
تَٱللَّهِ لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَآ إِلَىٰٓ أُمَمٖ مِّن قَبۡلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَعۡمَٰلَهُمۡ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ ٱلۡيَوۡمَ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ 63
৬৩. হে রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি আপনার পূর্বের জাতিসমূহের নিকট অনেক রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর শয়তান তাদের সামনে নিকৃষ্ট আমলগুলো তথা শিরক, কুফরি ও গুনাহকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। সে কিয়ামতের দিনে তাদের ধারণাকৃত সাহায্যকারী। অতএব, তারা যেন তার নিকট সাহায্য কামনা করে। তাদের জন্য রয়েছে কিয়ামতের দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
وَمَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِي ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ 64
৬৪. হে রাসূল! আমি আপনার উপর কুরআন নাযিল করেছি। যেন আপনি সকল মানুষের সামনে দ্বন্দ্বপূর্ণ বিষয়সমূহ তথা তাওহীদ, পুনরুত্থান ও শরীয়তের বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট বর্ণনা দিতে পারেন এবং কুরআন যেন হিদায়েত ও রহমত হয় সেই মু’মিনদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণ এবং কুরআন আনীত বিধি-বিধানকে বিশ্বাস করে। কারণ, তারাই তো সত্য দ্বারা উপকৃত হয়।
ক. মুশরিকদের মূর্খতার একটি নমুনা হলো আল্লাহর সাথে কন্যা সন্তানকে এবং নিজেদের সাথে ছেলে সন্তানকে সম্পৃক্ত করা। অথচ তারা কন্যা দেখলে নাক সিটকায় এবং তাদের চেহারাগুলো চিন্তা ও বিষণ্ণতায় বিবর্ণ হয়ে যায়। উপরন্তু তাদের কেউ কেউ মেয়ে সন্তান হওয়ার দরুন ভীষণ চিন্তা, নিকৃষ্ট লাঞ্ছনা ও লজ্জা-শরমে নিজ সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া থেকে লুকিয়ে তাদের চোখের অন্তরালে চলে যেতে চায়।
খ. আল্লাহর নিয়ম হলো কাফিরদেরকে দ্রুত শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে ঈমান ও তাওবার সুবিধা দেয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া।
গ. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বড় দায়িত্ব হলো ধর্ম ও বিধানাবলীর ব্যাপারে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও মতাদর্শের অনুসারীদের দ্বন্দ্বপূর্ণ বিষয়গুলো এবং কুরআন আনীত বিধানগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা। যেন তাঁর বর্ণনার মাধ্যমে তাদের উপর প্রামাণ্য দলীল সাব্যস্ত হয়ে যায়।