وَلَوۡ أَنَّ لِكُلِّ نَفۡسٖ ظَلَمَتۡ مَا فِي ٱلۡأَرۡضِ لَٱفۡتَدَتۡ بِهِۦۗ وَأَسَرُّواْ ٱلنَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُاْ ٱلۡعَذَابَۖ وَقُضِيَ بَيۡنَهُم بِٱلۡقِسۡطِ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ 54
৫৪. যদি আল্লাহর সাথে শিরককারী প্রত্যেকেই দুনিয়ার সকল মূল্যবান সম্পদের মালিক হতো তাহলে সে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য ফিদিয়া হিসেবে তার সবই বিলিয়ে দিতো। যদি ফিদিয়া দেয়ার কোন ব্যবস্থা থাকতো। মুশরিকরা কিয়ামতের দিন যখন আযাব দেখতে পাবে তখন তারা নিজেদের কুফরির লজ্জা ঢাকতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তখন তাদের মাঝে ইনসাফের ফয়সালা করবেন। তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে না। বরং তখন শুধু তাদের আমলগুলোরই প্রতিদান দেয়া হবে।
أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ أَلَآ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ 55
৫৫. কেবল আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনের সবকিছুর মালিকানা। কাফিরদেরকে শাস্তি দেয়ার আল্লাহর কৃত ওয়াদা অবশ্যম্ভাবী। তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে তাদের অধিকাংশই তা জানে না। বরং তারা তা নিয়ে সন্দেহ করে।
هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ 56
৫৬. আল্লাহ তা‘আলা মৃতের পুনরুত্থান করেন এবং জীবিতকে মৃত্যু দেন। কেবল তাঁর কাছেই কিয়ামতের দিন ফিরে যেতে হবে। অতঃপর তিনি তোমাদের কর্মসমূহের প্রতিদান দিবেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡكُم مَّوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَشِفَآءٞ لِّمَا فِي ٱلصُّدُورِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ 57
৫৭. হে মানুষ! তোমাদের নিকট কুরআন এসেছে। তাতে রয়েছে তোমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা এবং আশা ও ভীতি প্রদর্শন। সেটি অন্তরে থাকা সকল প্রকারের সন্দেহ ও সংশয়ের চিকিৎসা এবং সত্য পথের দিশারী। তেমনিভাবে তাতে রয়েছে মু’মিনদের জন্য রহমত। তারাই মূলতঃ এ থেকে লাভবান হবে।
قُلۡ بِفَضۡلِ ٱللَّهِ وَبِرَحۡمَتِهِۦ فَبِذَٰلِكَ فَلۡيَفۡرَحُواْ هُوَ خَيۡرٞ مِّمَّا يَجۡمَعُونَ 58
৫৮. হে রাসূল! আপনি মানুষদেরকে বলে দিন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে কুরআন তোমাদের নিকট নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ মাত্র। তাই তোমরা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ তথা এ কুরআনের নাযিল হওয়ার ব্যাপারটিকে নিয়ে খুশি হও; অন্য কিছুকে নিয়ে নয়। বস্তুতঃ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনা জিনিস দুনিয়ার এ নশ্বর ধনসম্পদ সংগ্রহের চেয়ে অনেক উত্তম।
قُلۡ أَرَءَيۡتُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ لَكُم مِّن رِّزۡقٖ فَجَعَلۡتُم مِّنۡهُ حَرَامٗا وَحَلَٰلٗا قُلۡ ءَآللَّهُ أَذِنَ لَكُمۡۖ أَمۡ عَلَى ٱللَّهِ تَفۡتَرُونَ 59
৫৯. হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: আল্লাহ তা‘আলা নিজ দয়ায় তোমাদের উপর যে রিযিক নাযিল করেছেন অতঃপর তোমরা তাতে নিজেদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কিছু হালাল করেছো আবার কিছু হারাম। তোমরা কেন এমন করেছো তার ব্যাখ্যা দাও। আপনি তাদেরকে বলুন: আল্লাহ তা‘আলা কি তোমরা যা হালাল করেছো তা হালাল করার এবং তোমরা যা হারাম করেছো তা হারাম করার অনুমতি দিয়েছেন। না কি তোমরা তাঁর ব্যাপারে মিথ্যা বানিয়ে বলো?!
وَمَا ظَنُّ ٱلَّذِينَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَشۡكُرُونَ 60
৬০. যারা তাঁর ব্যাপারে মিথ্যা বানিয়ে বলছে কিয়ামতের দিন তাদের উপর কী পতিত হবে তারা কি তা ভেবে দেখেছে?! তারা কি মনে করছে যে, তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। না কখনোই না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর দয়া করছেন তাদেরকে শুধরানোর সময় দিয়ে ও দ্রুত শাস্তি না দিয়ে। অথচ তাদের অধিকাংশই আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে অস্বীকার করছে এবং সেগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করছে না।
وَمَا تَكُونُ فِي شَأۡنٖ وَمَا تَتۡلُواْ مِنۡهُ مِن قُرۡءَانٖ وَلَا تَعۡمَلُونَ مِنۡ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيۡكُمۡ شُهُودًا إِذۡ تُفِيضُونَ فِيهِۚ وَمَا يَعۡزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثۡقَالِ ذَرَّةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَلَآ أَصۡغَرَ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكۡبَرَ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٍ 61
৬১. হে রাসূল! আপনি যে অবস্থাতেই থাকেন না কেন এবং যতটুকু কুরআনই আপনি পড়েন না কেন উপরন্তু হে মু’মিনরা! তোমরা যতো কাজই করো না কেন তা সবই আমি দেখি ও জানি। তোমরা যখন সোৎসাহে কাজ শুরু করো তখনো আমি তা শুনি। বস্তুতঃ আকাশ ও জমিনে তোমার প্রতিপালকের জ্ঞান থেকে এক অণু পরিমাণও গোপন নয়। না এর চেয়ে ছোট না বড়ো। বরং তা সবই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। সে ছোট-বড় কোন কিছুই সংরক্ষণ না করে ছাড়েনি।
ক. মুশরিকদের জন্য অপেক্ষমাণ আযাব সত্যিই ভয়াবহ। বিধায় তারা দুনিয়ার সব কিছুর বিনিময়ে তা প্রতিহত করার আশা পোষণ করবে। অথচ তাদের পক্ষ থেকে কখনোই তা গ্রহণ করা হবে না।
খ. বস্তুতঃ কুরআন মু’মিনদের জন্য সকল প্রকারের কুপ্রবৃত্তি ও সন্দেহ জনক রোগের চিকিৎসা। কারণ, তাতে রয়েছে বুদ্ধিগত ও বর্ণিত সকল প্রকারের দলীল ও হিদায়েতসমূহ।
গ. মু’মিনের উচিত ইসলাম ও ঈমানের নিয়ামতকে নিয়ে খুশি হওয়া; দুনিয়ার কোন সম্পদকে নিয়ে নয়।
ঘ. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল আমল, নিয়্যাত ও চিন্তার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক।