لِيَوۡمٍ عَظِيمٖ 5
৫. হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে। এক মহা দিবসে যা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিভীষিকাময়।
يَوۡمَ يَقُومُ ٱلنَّاسُ لِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 6
৬. সে দিন মানুষ সৃষ্টিকুলের রবের উদ্দেশ্যে হিসাবের জন্য দণ্ডায়মান হবে।
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلۡفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٖ 7
৭. ব্যাপারটি তোমাদের ধারণা অনুযায়ী নয় যে, মৃত্যুর পর আর কোন পুনরুত্থান নেই। বরং পাপীষ্ঠ কাফির ও মুনাফিকদের আমলনামা থাকবে মাটির সর্বনিম্নে অবস্থিত সিজ্জীনে তথা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا سِجِّينٞ 8
৮. হে রাসূল! আপনি কি জানেন, সিজ্জীন কী?
كِتَٰبٞ مَّرۡقُومٞ 9
৯. তাদের আমলনামা লিপিবদ্ধ থাকবে। যা নষ্ট হবে না। না তাতে কোন কিছু কম-বেশি করা হবে।
وَيۡلٞ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُكَذِّبِينَ 10
১০. সে দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য রয়েছে ধ্বংস ও দুর্ভোগ।
ٱلَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوۡمِ ٱلدِّينِ 11
১১. যারা সেই প্রতিদান দিবসের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। যে দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দুনিয়ার কৃত আমলের প্রতিদান দিবেন।
وَمَا يُكَذِّبُ بِهِۦٓ إِلَّا كُلُّ مُعۡتَدٍ أَثِيمٍ 12
১২. বস্তুতঃ এ দিবসকে কেবল আল্লাহর সীমালঙ্ঘনকারী মহা পাপীষ্ঠ ব্যতীত অন্য কেউ অস্বীকার করে না।
إِذَا تُتۡلَىٰ عَلَيۡهِ ءَايَٰتُنَا قَالَ أَسَٰطِيرُ ٱلۡأَوَّلِينَ 13
১৩. তার সামনে আমার রাসূলের উপর নাযিলকৃত আয়াতগুলো পাঠ করা হলে সে বলে: এ সব হলো পূর্বেকার জাতিদের কিংবদন্তী; আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।
كَلَّاۖ بَلۡۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ 14
১৪. ব্যাপারটি এ সব মিথ্যারোপকারীর ধারণা অনুযায়ী নয়। বরং তাদের বিবেককে পরাভূত করে ঢেকে রেখেছে তাদের অর্জিত পাপসমূহ। ফলে তারা নিজেদের অন্তর দিয়ে সত্যকে দেখতে পায় না।
كَلَّآ إِنَّهُمۡ عَن رَّبِّهِمۡ يَوۡمَئِذٖ لَّمَحۡجُوبُونَ 15
১৫. নিশ্চয়ই তারা কিয়ামত দিবসে স্বীয় প্রতিপালকের দর্শন থেকে বঞ্চিত হবে।
ثُمَّ إِنَّهُمۡ لَصَالُواْ ٱلۡجَحِيمِ 16
১৬. অতঃপর তারা জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে। তারা এর উত্তাপ আস্বাদন করবে।
ثُمَّ يُقَالُ هَٰذَا ٱلَّذِي كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ 17
১৭. অতঃপর তাদেরকে কিয়ামত দিবসে ধমকের স্বরে বলা হবে, তোমরা যে শাস্তি ভোগ করছো সে ব্যাপারে দুনিয়ার জীবনে তোমাদের রাসূল তোমাদেরকে সংবাদ দিলে তা তোমরা অবিশ্বাস করতে।
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلۡأَبۡرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ 18
১৮. ব্যাপারটি তোমাদের ধারণা অনুযায়ী নয় যে, কোন হিসাব ও শাস্তি নেই। বরং আনুগত্যশীলদের আমলনামা ঈল্লীনে তথা ঊর্ধ্বদেশে রয়েছে।
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ 19
১৯. হে রাসূল! আপনি কি জানেন, ঈল্লীন বা ঊর্ধ্বদেশ কী?
كِتَٰبٞ مَّرۡقُومٞ 20
২০. তাদের আমলনামা এতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। যা নষ্ট হবে না। আর না এতে কোন কিছু কম-বেশী করা হবে।
يَشۡهَدُهُ ٱلۡمُقَرَّبُونَ 21
২১. উক্ত আমলনামা আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত আসমানসমূহের সকল ফিরিশতা প্রত্যক্ষ করবেন।
إِنَّ ٱلۡأَبۡرَارَ لَفِي نَعِيمٍ 22
২২. নিশ্চয়ই বেশী বেশী আনুগত্যের কাজ সম্পাদনকারীরা কিয়ামত দিবসে স্থায়ী নিয়ামতের মধ্যে অবস্থান করবে।
عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ 23
২৩. তারা সুসজ্জিত আসনে বসে স্বীয় প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে এবং তাদের চাহিদা মাফিক তারা আরো অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দৃশ্য দেখতে থাকবে।
تَعۡرِفُ فِي وُجُوهِهِمۡ نَضۡرَةَ ٱلنَّعِيمِ 24
২৪. আপনি যখন তাদেরকে দেখবেন তখন তাদের চেহারায় স্বাচ্ছন্দ্যের নিদর্শন হিসেবে সৌন্দর্য ও লাবণ্য দেখতে পাবেন।
يُسۡقَوۡنَ مِن رَّحِيقٖ مَّخۡتُومٍ 25
২৫. তাদেরকে নিজেদের সেবকরা মোহরকৃত সুরা পান করাবে।
خِتَٰمُهُۥ مِسۡكٞۚ وَفِي ذَٰلِكَ فَلۡيَتَنَافَسِ ٱلۡمُتَنَٰفِسُونَ 26
২৬. এর মোহর হলো কস্তূরীর। যার সুগন্ধি শেষ সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে। বস্তুতঃ এ সম্মানজনক প্রতিদান পাওয়ার জন্য যেন প্রতিযোগীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ করে এবং অসন্তুষ্টির কাজ থেকে বিরত থেকে প্রতিযোগিতা করে।
وَمِزَاجُهُۥ مِن تَسۡنِيمٍ 27
২৭. এর সাথে রয়েছে “তাসনীম” নামক প্রস্রবণের মিশ্রণ।
عَيۡنٗا يَشۡرَبُ بِهَا ٱلۡمُقَرَّبُونَ 28
২৮. এটি হলো জান্নাতের উঁচু স্তরের একটি ঝর্ণাধারা। যা থেকে নৈকট্যশীল বান্দারা স্বচ্ছ ও খাঁটি পানীয় পান করবে এবং সকল মুমিনও অন্য উপাদানের সাথে মিলিয়ে তা পান করবে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجۡرَمُواْ كَانُواْ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يَضۡحَكُونَ 29
২৯. নিশ্চয়ই যারা কুফরির মাধ্যমে অপরাধ করেছে তারা ঠাট্টার ছলে মুমিনদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করে।
وَإِذَا مَرُّواْ بِهِمۡ يَتَغَامَزُونَ 30
৩০. তারা মুমিনদের নিকট দিয়ে গমন করলে ঠাট্টা ও বিদ্রূপের ছলে পরস্পর চোখ টিপা-টিপি করে।
وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓاْ إِلَىٰٓ أَهۡلِهِمُ ٱنقَلَبُواْ فَكِهِينَ 31
৩১. আবার যখন তারা নিজেদের পরিজনের নিকট ফিরে যায় তখন তারা আনন্দ চিত্তে ফিরে এ কারণে যে, তারা কুফরির উপর রয়েছে এবং মুমিনদেরকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছে।
وَإِذَا رَأَوۡهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ 32
৩২. আর যখন মুসলমানদেরকে দেখে তখন বলে, এরা মূলতঃ সত্য থেকে পথভ্রষ্ট। কেননা, এরা নিজেদের বাপ-দাদার ধর্ম পরিহার করেছে।
وَمَآ أُرۡسِلُواْ عَلَيۡهِمۡ حَٰفِظِينَ 33
৩৩. বস্তুতঃ আল্লাহ তাদেরকে এদের আমল সংরক্ষণের দায়িত্ব দেন নি। যার ফলে তারা এ কথা বলতে পারে।
ক. অন্তরের উপর পাপাচারের ভয়ানক প্রভাব।
খ. কিয়ামত দিবসে আল্লাহর দর্শন থেকে কাফিররা বঞ্চিত থাকবে।
গ. ধার্মিকদের নিয়ে ঠাট্টা করা কাফিরদেরই স্বভাব।