قَالَ يَٰبُنَيَّ لَا تَقۡصُصۡ رُءۡيَاكَ عَلَىٰٓ إِخۡوَتِكَ فَيَكِيدُواْ لَكَ كَيۡدًاۖ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لِلۡإِنسَٰنِ عَدُوّٞ مُّبِينٞ 5
৫. ইয়াকূব (আলাইহিস-সালাম) তাঁর পুত্র ইউসুফ (আলাইহিস-সালাম) কে বললেন: হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করো না। কেননা তারা সে স্বপ্নের মর্ম উপলব্ধি করে হিংসাবশতঃ তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে। শয়তান অবশ্যই মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।
وَكَذَٰلِكَ يَجۡتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِن تَأۡوِيلِ ٱلۡأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعۡمَتَهُۥ عَلَيۡكَ وَعَلَىٰٓ ءَالِ يَعۡقُوبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلَىٰٓ أَبَوَيۡكَ مِن قَبۡلُ إِبۡرَٰهِيمَ وَإِسۡحَٰقَۚ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٞ 6
৬. হে ইউসুফ! তুমি যেমন ওই স্বপ্ন দেখেছ, তোমার রব সেভাবেই তোমাকে মনোনীত করবেন। তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন। তিনি তোমাকে নবুওয়াত দান করে তাঁর নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করবেন। যেমন তোমার পূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ: ইব্রাহীম ও ইসহাকের উপর তাঁর অনুগ্রহকে পরিপূর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই তোমার রব তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বজ্ঞ এবং ব্যবস্থাপনায় বড়ই প্রজ্ঞাবান।
۞لَّقَدۡ كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخۡوَتِهِۦٓ ءَايَٰتٞ لِّلسَّآئِلِينَ 7
৭. নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনার মধ্যে তাদের খবরাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসুদের জন্য রয়েছে বহু শিক্ষা ও উপদেশ।
إِذۡ قَالُواْ لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰٓ أَبِينَا مِنَّا وَنَحۡنُ عُصۡبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ 8
৮. যখন ইউসুফের ভাইয়েরা তাদের মধ্যে বলাবলি করছিল, নিশ্চয়ই ইউসুফ ও তাঁর সহোদর ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়। অথচ আমরা বৃহৎ সংখ্যার একটি দল; সুতরাং কিভাবে তিনি শুধু তাদের দু’ জনকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিচ্ছেন? যখন তিনি অজ্ঞাত কারণে তাদের দু’ জনকে অযৌক্তিকভাবে আমাদের উপর অগ্রাধিকার দেন তখন আমরা দেখছি যে, তিনি সুস্পষ্ট ভুলের মধ্যে আছেন।
ٱقۡتُلُواْ يُوسُفَ أَوِ ٱطۡرَحُوهُ أَرۡضٗا يَخۡلُ لَكُمۡ وَجۡهُ أَبِيكُمۡ وَتَكُونُواْ مِنۢ بَعۡدِهِۦ قَوۡمٗا صَٰلِحِينَ 9
৯. তোমরা ইউসুফকে হত্যা করে ফেল বা তাকে একটি দূর ভূমিতে গুম করে দাও, তাহলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি তোমাদের প্রতিই নিবদ্ধ হবে, তখন তিনি তোমাদেরকেই পরিপূর্ণরূপে ভালোবাসবেন। আর তাকে হত্যা বা গুমের ঘটনা ঘটানোর পর তোমরা সৎ লোকদেরই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে যখন তোমরা নিজেদের পাপ থেকে তওবা করে নিবে।
قَالَ قَآئِلٞ مِّنۡهُمۡ لَا تَقۡتُلُواْ يُوسُفَ وَأَلۡقُوهُ فِي غَيَٰبَتِ ٱلۡجُبِّ يَلۡتَقِطۡهُ بَعۡضُ ٱلسَّيَّارَةِ إِن كُنتُمۡ فَٰعِلِينَ 10
১০. ভাইদের একজন বলল: তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর না, বরং তোমরা তাকে কুয়ার গভীরে ফেলে দাও, ফলে সেখান দিয়ে অতিবাহিত মুসাফিরদের কেউ তাকে নিয়ে যাবে; আর এটা তার হত্যার চেয়ে ক্ষতির দিক দিয়ে হালকা হবে, যদি তোমরা তার ব্যাপারে যা বলছ তার উপর দৃঢ়প্রত্যয়ী হও।
قَالُواْ يَٰٓأَبَانَا مَالَكَ لَا تَأۡمَ۬نَّا عَلَىٰ يُوسُفَ وَإِنَّا لَهُۥ لَنَٰصِحُونَ 11
১১. যখন তারা ইউসুফকে দূরে সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়ে গেল তখন তারা নিজেদের পিতা ইয়াকূব (আলাইহিস-সালাম) কে বলল: হে আমাদের পিতা! আপনার কী হল যে, আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদেরকে ভরসাস্থল মনে করছেন না? আমরা তার প্রতি অবশ্যই দয়ালু, যা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে আমরা তাকে তা থেকে রক্ষা করব, সে আপনার কাছে নিরাপদে ফিরে আসা পর্যন্ত তার হেফাজত ও যত্ন নেয়াসহ আমরা অবশ্যই তার কল্যাণকামী, সুতরাং কি এমন আছে যা তাকে আমাদের সাথে পাঠাতে বাধা দিচ্ছে?
أَرۡسِلۡهُ مَعَنَا غَدٗا يَرۡتَعۡ وَيَلۡعَبۡ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ 12
১২. আপনি আমাদেরকে আগামী কাল তাকে সাথে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন, সে আমোদ-ফুর্তি ও মজা করবে। আর আমরা তার কষ্ট হতে পারে এমন সবকিছু থেকে তাকে অবশ্যই রক্ষা করব।
قَالَ إِنِّي لَيَحۡزُنُنِيٓ أَن تَذۡهَبُواْ بِهِۦ وَأَخَافُ أَن يَأۡكُلَهُ ٱلذِّئۡبُ وَأَنتُمۡ عَنۡهُ غَٰفِلُونَ 13
১৩. ইয়াকূব (আলাইহিস-সালাম) তাঁর ছেলেদেরকে বললেন: তাকে তোমাদের নিয়ে যাওয়া আমাকে অবশ্যই চিন্তিত করছে। কেননা আমি তার বিচ্ছিন্নতা সহ্য করতে পারব না এবং আমি তার ব্যাপারে ভয় পাচ্ছি যে, তোমরা খেল-তামাশায় ব্যস্ত হয়ে তার থেকে গাফেল হয়ে যাবে তখন তাকে নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলবে।
قَالُواْ لَئِنۡ أَكَلَهُ ٱلذِّئۡبُ وَنَحۡنُ عُصۡبَةٌ إِنَّآ إِذٗا لَّخَٰسِرُونَ 14
১৪. তারা নিজেদের পিতাকে বলল: আমরা একদল লোক হওয়া সত্ত্বেও যদি ইউসুফকে বাঘে খায় তাহলে অবশ্যই আমাদের মাঝে কোন কল্যাণ নেই। যখন আমরা তাকে বাঘ থেকে রক্ষা করতে পারব না তখন অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্থদেরই অন্তর্ভুক্ত।
ক. শরীয়তে স্বপ্নের বিষয় সাব্যস্ত রয়েছে এবং তার ব্যাখ্যা করাও জায়েয।
খ. কোন কোন বাস্তবতাকে গোপন করা জায়েয, যদি তা প্রকাশ করা ক্ষতির কারণ হয়।
গ. এখানে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর বংশের সন্তানদের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সমস্ত মানুষের মধ্য থেকে নবুওয়াতের জন্য বাছাই করেছেন।
ঘ. পিতার পক্ষ থেকে কোন এক ছেলের প্রতি বেশি ভালোবাসা ভাইদের মাঝে শত্রুতা ও হিংসা সৃষ্টি করে।