وَيَسۡتَعۡجِلُونَكَ بِٱلۡعَذَابِ وَلَن يُخۡلِفَ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥۚ وَإِنَّ يَوۡمًا عِندَ رَبِّكَ كَأَلۡفِ سَنَةٖ مِّمَّا تَعُدُّونَ 47
৪৭. হে রাসূল! আপনার সম্প্রদায়ের কাফিররা দুনিয়ার নগদ ও আখিরাতের বাকি শাস্তি দ্রুত পেতে চায় যখন তাদেরকে এ দু’টির ভয় দেখানো হয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদের সাথে কৃত ওয়াদার খিলাফ করবেন না। তাদের দ্রুত শাস্তি হলো যা বদরের দিন পতিত হয়েছে। আর আখিরাতে প্রচুর শাস্তি থাকার দরুন তার শাস্তির একদিন দুনিয়ার বছরের হিসেবে এক হাজার বছরের ন্যায়।
وَكَأَيِّن مِّن قَرۡيَةٍ أَمۡلَيۡتُ لَهَا وَهِيَ ظَالِمَةٞ ثُمَّ أَخَذۡتُهَا وَإِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ 48
৪৮. অনেক জনপদকেই আমি আযাব না দিয়ে তাদেরকে আমি অবকাশ দিয়েছি। অথচ তারা কুফরির মাধ্যমে অনেক যুলুম করেছে। আমি তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেইনি তাদেরকে আরো অপরাধপ্রবণ করার জন্য। তবে পরিশেষে আমি তাদেরকে মূলোৎপাটনকারী আযাবের মাধ্যমে পাকড়াও করেছি। কিয়ামতের দিন কেবল আমার দিকেই তাদের প্রত্যাবর্তন হবে। ফলে আমি তাদেরকে তাদের কুফরির দরুন স্থায়ী শাস্তি দেবো।
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَآ أَنَا۠ لَكُمۡ نَذِيرٞ مُّبِينٞ 49
৪৯. হে রাসূল! আপনি বলে দিন, হে মানুষ! আমি তোমাদের জন্য ভীতি প্রদর্শনকারীমাত্র। আমার নিকট যা পাঠানো হয় তাই কেবল আমি প্রচার করি। বস্তুতঃ আমি সুস্পষ্ট ভীতি প্রদর্শনকারী।
فَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُم مَّغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ 50
৫০. অতএব, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে গুনাহর ক্ষমা এবং জান্নাতে তাদের জন্য সম্মানজনক রিযিক রয়েছে যা কখনো শেষ হওয়ার নয়।
وَٱلَّذِينَ سَعَوۡاْ فِيٓ ءَايَٰتِنَا مُعَٰجِزِينَ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَحِيمِ 51
৫১. আর যারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে এ মনে করে যে, নিশ্চয়ই তারা অচিরেই আল্লাহ তা‘আলাকে অক্ষম করে একদা তাঁর হাতছাড়া হয়ে যাবে। ফলে তিনি তাদেরকে আর শাস্তি দিতে পারবেন না। মূলতঃ তারাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী। যার সাথে তারা অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত ও সম্পৃক্ত থাকবে যেভাবে একজন বন্ধু তার বন্ধুর থাকে সবসময়ের জন্য সম্পৃক্ত থাকে।
وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٖ وَلَا نَبِيٍّ إِلَّآ إِذَا تَمَنَّىٰٓ أَلۡقَى ٱلشَّيۡطَٰنُ فِيٓ أُمۡنِيَّتِهِۦ فَيَنسَخُ ٱللَّهُ مَا يُلۡقِي ٱلشَّيۡطَٰنُ ثُمَّ يُحۡكِمُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ 52
৫২. হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে যে রাসূল বা নবীই পাঠিয়েছি যখন তিনি আল্লাহর কিতাব পড়তেন তখন শয়তান তাঁর পড়ার মধ্যে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিতো যা মানুষ ওহী বলেই মনে করতো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা শয়তানের ঢুকিয়ে দেয়া বস্তুকে বাতিল করে নিজের আয়াতগুলোকে চূড়ান্ত করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুই জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তিনি তাঁর সৃষ্টি, নির্ধারণ ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
لِّيَجۡعَلَ مَا يُلۡقِي ٱلشَّيۡطَٰنُ فِتۡنَةٗ لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ وَٱلۡقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمۡۗ وَإِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَفِي شِقَاقِۢ بَعِيدٖ 53
৫৩. শয়তান নবীর পড়ার মধ্যে নিজ পক্ষ থেকে কিছু ঢুকিয়ে দিতো যাতে আল্লাহ তা‘আলা তার ঢুকিয়ে দেয়া বস্তুকে মুনাফিক ও কঠিন হৃদয়ের মুশরিকদের জন্য পরীক্ষার বস্তু বানাতে পারেন। বস্তুতঃ যালিম মুনাফিক ও মুশরিকরা সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুতায় ব্যস্ত এবং তারা সত্য ও হিদায়েতের পথ থেকে দূরে রয়েছে।
وَلِيَعۡلَمَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡعِلۡمَ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤۡمِنُواْ بِهِۦ فَتُخۡبِتَ لَهُۥ قُلُوبُهُمۡۗ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ 54
৫৪. আর যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান দিয়েছেন তারা যেন এ কথায় দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃত কুরআনই হলো মূল সত্য যা আল্লাহ তা‘আলা আপনার নিকট ওহী করেছেন হে রাসূল! ফলে তাদের ঈমান এর প্রতি আরো বেড়ে যায় এবং তাদের অন্তরাত্মা এর জন্য নম্র ও বিনয়ী হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সত্যের এমন সরল পথ দেখান যাতে কোন ধরনের বক্রতা নেই। যা মূলতঃ তাঁর প্রতি তাদের বিনয়ের প্রতিদান।
وَلَا يَزَالُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فِي مِرۡيَةٖ مِّنۡهُ حَتَّىٰ تَأۡتِيَهُمُ ٱلسَّاعَةُ بَغۡتَةً أَوۡ يَأۡتِيَهُمۡ عَذَابُ يَوۡمٍ عَقِيمٍ 55
৫৫. এদিকে যারা আল্লাহর সাথে কুফরি ও রাসূলকে অস্বীকার করেছে তারা সর্বদা আপনার প্রতি নাযিলকৃত কুরআনের ব্যাপারে সন্দিহান রয়েছে যতক্ষণ না কিয়ামত হঠাৎ তাদের উপর এসে পড়ে; অথচ তারা এর উপরই রয়েছে অথবা তাদের উপর আযাব নেমে আসে; যেদিন তাদের জন্য কোন রহমত ও কল্যাণ থাকবে না। এটি মূলতঃ তাদের জন্য কিয়ামতের দিন।
ক. যালিমকে সুযোগ দেয়া যাতে সে যুলুমে আরো অগ্রসর হতে পারে এটি হলো মূলতঃ একটি ঐশী নিয়ম।
খ. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবকে পরিবর্তন ও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এমনকি তিনি তার উপর থেকে শয়তানের সকল সাঙ্গপাঙ্গের ষড়যন্ত্রসমূহ প্রতিরোধ করেন।
গ. মুনাফিকি ও অন্তরের কাঠিন্য দু’টি সত্যিই মারাত্মক রোগ।
ঘ. ঈমান হলো জ্ঞানের সুফল। আর আল্লাহর আদেশসমূহের প্রতি বিনয় ও নম্রতা মূলতঃ ঈমানের ফল।