وَٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِأَعۡدَآئِكُمۡۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَلِيّٗا وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ نَصِيرٗا 45
৪৫. হে মু’মিনরা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে তোমাদের চাইতে বেশি অবগত। তাই তিনি তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন এবং তাদের শত্রুতার ব্যাপারটিও তোমাদের সামনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন। তাই অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তোমাদেরকে তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন। তেমনিভাবে সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তোমাদেরকে তাদের ষড়যন্ত্র ও কষ্ট দেয়া থেকে রক্ষা করবেন। উপরন্তু তিনি তোমাদেরকে তাদের উপর জয়ী করবেন।
مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْ يُحَرِّفُونَ ٱلۡكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِۦ وَيَقُولُونَ سَمِعۡنَا وَعَصَيۡنَا وَٱسۡمَعۡ غَيۡرَ مُسۡمَعٖ وَرَٰعِنَا لَيَّۢا بِأَلۡسِنَتِهِمۡ وَطَعۡنٗا فِي ٱلدِّينِۚ وَلَوۡ أَنَّهُمۡ قَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَا وَٱسۡمَعۡ وَٱنظُرۡنَا لَكَانَ خَيۡرٗا لَّهُمۡ وَأَقۡوَمَ وَلَٰكِن لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفۡرِهِمۡ فَلَا يُؤۡمِنُونَ إِلَّا قَلِيلٗا 46
৪৬. ইহুদিদের মাঝে একটি নিকৃষ্ট সম্প্রদায় রয়েছে যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বাণীকে পরিবর্তন করে। তারা আল্লাহর নাযিলকৃত উদ্দেশ্যের বিপরীতে তার ব্যাখ্যা দেয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাদেরকে কোন কিছুর আদেশ করেন তখন তারা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলে: আমরা আপনার কথা শুনেছি ও আপনার আদেশ অমান্য করেছি। তারা ঠাট্টাচ্ছলে আরো বলে: আপনি আমাদের কথা শুনুন। আপনি যেন না শুনেন! তারা رَاعِنَا “রা-য়িনা” বলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ ধারণা দিতে চাচ্ছে যে, তারা বুঝাচ্ছে আপনি আমাদের কথা শুনুন। অথচ তারা এর মাধ্যমে রুক্ষতার অর্থই বুঝাচ্ছে। তারা এ শব্দটি বলতে গিয়ে নিজেদের জিহ্বাগুলোকে একটু বাঁকা করে বলে। তারা এর মাধ্যমে মূলতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর বদদু‘আ করে এবং ধর্মকে আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ করে। তারা যদি এ কথা তথা “আমরা আপনার কথা শুনেছি ও আপনার বিরুদ্ধাচরণ করেছি” এর পরিবর্তে বলতো: “আমরা আপনার কথা শুনেছি এবং আপনার আদেশ মেনে নিয়েছি”। তেমনিভাবে এ কথা তথা “আপনি শুনুন, আপনি যেন না শুনেন!” এর পরিবর্তে বলতো: “আপনি আমাদের কথা শুনুন”। অনুরূপভাবে এ কথা তথা “আপনি আমাদের সাথে রুক্ষতার আচরণ করুন” এর পরিবর্তে “আপনি একটু অপেক্ষা করুন; আমরা যেন আপনার কথাটুকু বুঝতে পারি” তাহলে তা তাদের পূর্বের কথা থেকে তাদের জন্য অনেক ইনসাফপূর্ণ ও কল্যাণকর হতো। কারণ, তাতে রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সম্মানের উপযুক্ত উত্তম শিষ্টাচার। তবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে লা’নত করেছেন এবং তাদের কুফরির দরুন তাদেরকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন। তাই তারা তাদের জন্য লাভজনক এমন কোন ঈমান আনেনি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ ءَامِنُواْ بِمَا نَزَّلۡنَا مُصَدِّقٗا لِّمَا مَعَكُم مِّن قَبۡلِ أَن نَّطۡمِسَ وُجُوهٗا فَنَرُدَّهَا عَلَىٰٓ أَدۡبَارِهَآ أَوۡ نَلۡعَنَهُمۡ كَمَا لَعَنَّآ أَصۡحَٰبَ ٱلسَّبۡتِۚ وَكَانَ أَمۡرُ ٱللَّهِ مَفۡعُولًا 47
৪৭. হে কিতাবধারী ইহুদি ও খ্রিস্টানরা! আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর যা নাযিল করেছি তার উপর তোমরা ঈমান আনো। যা তোমাদের নিকটে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জীলের সত্যায়নকারী হিসেবে এসেছে। সে সময় আসার আগে যখন আমি চেহারায় থাকা ইন্দ্রীয়গুলোকে মুছে সেগুলোকে তাদের পেছন দিকে দিয়ে দেবো অথবা তাদেরকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত করবো যেমনিভাবে আমি তা থেকে বিতাড়িত করেছি শনিবার ওয়ালাদেরকে, যাদেরকে শনিবারে শিকার করতে নিষেধ করার পরও তাতে তারা শিকার করে হঠকারিতা দেখিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বানররূপে বিকৃত করেছেন। বস্তুতঃ তাঁর আদেশ ও তাকদীর অবশ্যম্ভাবী।
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَغۡفِرُ أَن يُشۡرَكَ بِهِۦ وَيَغۡفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَآءُۚ وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱفۡتَرَىٰٓ إِثۡمًا عَظِيمًا 48
৪৮. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টিসমূহের কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করবেন না। তবে তিনি শিরক ও কুফরির নিচের গুনাহসমূহ যার জন্য চান তাঁর অনুগ্রহে ক্ষমা করবেন অথবা তাদের মধ্যকার যাদেরকে চান তাঁর ইনসাফ অনুযায়ী তাদের গুনাহসমূহের সমপরিমাণ শাস্তি দিবেন। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করবে সে যেন এক মহা পাপ রচনা করলো যার উপর মারা গেলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।
أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُمۚ بَلِ ٱللَّهُ يُزَكِّي مَن يَشَآءُ وَلَا يُظۡلَمُونَ فَتِيلًا 49
৪৯. হে রাসূল! আপনি কি ওদের ব্যাপারে অবহিত নন যারা নিজেদের ও নিজেদের কর্মের পরিশুদ্ধতার প্রশংসা করে? বরং একমাত্র আল্লাহই তাঁর বান্দাদের যাদেরকে চান তাদের প্রশংসা করেন ও তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন। কারণ, তিনি নিশ্চয়ই অন্তরের লুক্কায়িত ব্যাপারসমূহ জানেন। বস্তুতঃ তাদের আমলসমূহের সাওয়াব কখনো কোন কিছুতেই ঘাটতি করা হবে না। যদিও তা খেজুরের দানার মধ্যকার সুতার সমপরিমাণ হোক না কেন।
ٱنظُرۡ كَيۡفَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَۖ وَكَفَىٰ بِهِۦٓ إِثۡمٗا مُّبِينًا 50
৫০. হে রাসূল! আপনি দেখুন, কিভাবে তারা নিজেদের ব্যাপারে প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করে! এটিই তাদের ভ্রষ্টতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট পাপ হিসেবে যথেষ্ট।
أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُواْ نَصِيبٗا مِّنَ ٱلۡكِتَٰبِ يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡجِبۡتِ وَٱلطَّٰغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ هَٰٓؤُلَآءِ أَهۡدَىٰ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ سَبِيلًا 51
৫১. হে রাসূল! আপনি কি অবগত নন এবং ইহুদিদের অবস্থা দেখে আশ্চর্য হন না যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কিছুটা জ্ঞান দিয়েছেন। অথচ তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের বানানো মা’বূদগুলোর উপর ঈমান আনে ও মুশরিকদের সাথে তাল মিলিয়ে বলে: নিশ্চয়ই তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথীদের চাইতেও বেশি সঠিক পথপ্রাপ্ত?!
ক. আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের সাহায্যের জন্য যথেষ্ট। যা তাদেরকে অন্যের প্রতি অমুখাপেক্ষী করে তোলে।
খ. ইহুদিদের অপরাধসমূহের বর্ণনা। যেমন: আল্লাহর বাণীকে বিকৃত করা, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে তাদের বেআদবী এবং আল্লাহর শরীয়ত ছাড়া অন্য কিছুর নিকট তাদের বিচার প্রার্থনা।
গ. শিরক ও কুফরির ভয়ানকতার বর্ণনা। এতদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা নিয়ে মারা গেলে তাকে নিশ্চয়ই ক্ষমা করা হবে না। আর এর নিচের সব কিছু আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।