وَوَهَبۡنَا لَهُۥٓ أَهۡلَهُۥ وَمِثۡلَهُم مَّعَهُمۡ رَحۡمَةٗ مِّنَّا وَذِكۡرَىٰ لِأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ 43
৪৩. আমি তাঁর দু‘আ কবুল করে তাঁর কষ্ট দূর করলাম এবং তাঁকে তাঁর পরিজন ফেরত দিলাম। এমনকি আমার পক্ষ থেকে রহমত ও তাঁর ধৈর্যের প্রতিদান স্বরূপ আরো রহমত তথা পূর্বের অনুরূপ সন্তানাদি ও নাতী-নাতীদের বাড়িয়ে দিলাম। প্রবল বিবেকবান ব্যক্তিরা যেন স্মরণ রাখে যে, ধৈর্যের প্রতিদান হলো বিপদমুক্তি ও পারিতোষিক।
وَخُذۡ بِيَدِكَ ضِغۡثٗا فَٱضۡرِب بِّهِۦ وَلَا تَحۡنَثۡۗ إِنَّا وَجَدۡنَٰهُ صَابِرٗاۚ نِّعۡمَ ٱلۡعَبۡدُ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٞ 44
৪৪. আইয়ুব (আলাইহিস-সালাম) স্বীয় স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হয়ে শপথ করলেন যে, তিনি তাকে এক শত বেত্রাঘাত করবেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: হে আইয়ুব! আপনি নিজ হাতে কিছু ডালপালা নিন এবং সেগুলো দিয়ে আপনার শপথ পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে আঘাত করুন। আপনি যে শপথ করেছেন সেটা ভঙ্গ করবেন না। তখন তিনি কিছু ডালপালার একটি বান্ডিল নিলেন এবং সেগুলো দ্বারা তাকে আঘাত করলেন। আমি তাঁকে যে বিষয়েই পরীক্ষা করেছি তাতেই তাঁকে ধৈর্য ধারণকারী হিসাবে পেয়েছি। তিনি কতোইনা উত্তম বান্দাহ। তিনি আল্লাহর দিকে অনেক বেশী প্রত্যাবর্তনকারী।
وَٱذۡكُرۡ عِبَٰدَنَآ إِبۡرَٰهِيمَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ أُوْلِي ٱلۡأَيۡدِي وَٱلۡأَبۡصَٰرِ 45
৪৫. হে রাসূল! আপনি আমার নির্বাচিত বান্দাহ ও আমার প্রেরিত রাসূলদের কথা স্মরণ করুন। যথা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূব (আলাইহিমুস-সালাম)। তাঁরা আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর সন্তুষ্টি কামনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। তাঁরা ছিলেন সত্য অনুসন্ধানে বড়ই দূরদর্শী।
إِنَّآ أَخۡلَصۡنَٰهُم بِخَالِصَةٖ ذِكۡرَى ٱلدَّارِ 46
৪৬. অবশ্যই আমি তাঁদের উপর আমার প্রদত্ত বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছি। যাতে করে তাঁদের অন্তঃকরণ পরকালের স্মরণ এবং সৎকর্ম সম্পাদন করতে পারে এবং তার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে আর মানুষকে তাঁর উদ্দেশ্যে আমল করতে উদ্বুদ্ধ করা যায়।
وَإِنَّهُمۡ عِندَنَا لَمِنَ ٱلۡمُصۡطَفَيۡنَ ٱلۡأَخۡيَارِ 47
৪৭. তাঁরা আমার নিকট আমার সেসব বান্দার অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আমি আমার ইবাদত, আনুগত্য, বার্তা বহন ও মানুষের নিকট তা পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্বাচন করেছি।
وَٱذۡكُرۡ إِسۡمَٰعِيلَ وَٱلۡيَسَعَ وَذَا ٱلۡكِفۡلِۖ وَكُلّٞ مِّنَ ٱلۡأَخۡيَارِ 48
৪৮. হে নবী! আপনি ইবরাহীমপুত্র ইসমাঈলকে স্মরণ করুন। আরো স্মরণ করুন আল-ইয়াসা’ এর কথা। সেই সাথে যুল-কিফল এর কথা এবং তাদের ভূয়সী প্রশংসা করুন। যেহেতু তাঁরা এর যোগ্য। আর এসব ব্যক্তিগণ আল্লাহর নিকট নির্বাচিত ও মনোনীত।
هَٰذَا ذِكۡرٞۚ وَإِنَّ لِلۡمُتَّقِينَ لَحُسۡنَ مََٔابٖ 49
৪৯. এটি হলো কুরআনে এসব মনোনীত ব্যক্তিদের সুনাম। আর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে পরকালে উৎকৃষ্ট ঠিকানা।
جَنَّٰتِ عَدۡنٖ مُّفَتَّحَةٗ لَّهُمُ ٱلۡأَبۡوَٰبُ 50
৫০. সেই উৎকৃষ্ট ঠিকানা হলো অবস্থানের উদ্যানসমূহ। যাতে তাঁরা কিয়ামত দিবসে প্রবেশ করবেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে যেগুলোর দ্বারসমূহ সেদিন খুলে দেয়া হবে।
مُتَّكِِٔينَ فِيهَا يَدۡعُونَ فِيهَا بِفَٰكِهَةٖ كَثِيرَةٖ وَشَرَابٖ 51
৫১. তারা তাঁদের উদ্দেশ্যে সজ্জিত কেদারায় হেলান দিয়ে উপবিষ্ট থাকবেন। তাঁরা নিজেদের সেবকদেরকে তাঁদের পছন্দের পর্যাপ্ত ফলমূল ও মদজাতীয় পানীয় ইত্যাদি প্রদানের আদেশ করবেন।
۞وَعِندَهُمۡ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرۡفِ أَتۡرَابٌ 52
৫২. আর তাঁদের জন্য থাকবে এমনসব নারী যারা শুধু আপন স্বামীদের প্রতিই স্বীয় দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখে। তাদেরকে ছাড়িয়ে অন্যদের পর্যন্ত তাদের দৃষ্টি গড়ায় না। আর তারা হবে বয়সেও সমান।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوۡمِ ٱلۡحِسَابِ 53
৫৩. হে মুত্তাকীরা! এটি তোমাদেরকে দেয়া ওয়াদাকৃত বস্তু। যা ছিলো তোমাদের পার্থিব জীবনে কৃত সৎ কর্মের উপর পরকালে প্রদত্ত উত্তম প্রতিদান।
إِنَّ هَٰذَا لَرِزۡقُنَا مَا لَهُۥ مِن نَّفَادٍ 54
৫৪. উল্লেখিত প্রতিদান হলো আমার সেই জীবিকা যা আমি মুত্তাকীদের জন্য পরকালে প্রদান করবো। এটি হবে স্থায়ী জীবিকা। যা ছিন্ন কিংবা শেষ হওয়ার নয়।
هَٰذَاۚ وَإِنَّ لِلطَّٰغِينَ لَشَرَّ مََٔابٖ 55
৫৫. উল্লেখিত প্রতিদান হচ্ছে মুত্তাকীদের জন্য। পক্ষান্তরে কুফরী ও পাপের মাধ্যমে আল্লাহর সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে মুত্তাকীদের বিপরীত প্রতিদান। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ ঠিকানা। যেখানে তারা কিয়ামত দিবসে প্রত্যাবর্তন করবে।
جَهَنَّمَ يَصۡلَوۡنَهَا فَبِئۡسَ ٱلۡمِهَادُ 56
৫৬. এই প্রতিদান হলো সেই জাহান্নাম যা তাদেরকে ঘিরে রাখবে এবং তারা তার উত্তাপ ও প্রদাহ পোহাতে থাকবে। তাদের জন্য থাকবে তদ্বারা প্রস্তুত বিছানা। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট বিছানা।
هَٰذَا فَلۡيَذُوقُوهُ حَمِيمٞ وَغَسَّاقٞ 57
৫৭. এ শাস্তি হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের ফুটন্ত পানি, শাস্তিপ্রাপ্ত জাহান্নামীদের থেকে নির্গত পুঁজ। তারা তাই পান করবে। এটি এমন এক পানীয় যা তৃঞ্চা নিবারণে ব্যর্থ।
وَءَاخَرُ مِن شَكۡلِهِۦٓ أَزۡوَٰجٌ 58
৫৮. তাদের জন্য রয়েছে উক্ত প্রকারের অপর আরেক শাস্তি। অর্থাৎ তাদেরকে পরকালে রকমারি শাস্তি প্রদান করা হবে।
هَٰذَا فَوۡجٞ مُّقۡتَحِمٞ مَّعَكُمۡ لَا مَرۡحَبَۢا بِهِمۡۚ إِنَّهُمۡ صَالُواْ ٱلنَّارِ 59
৫৯. জাহান্নামীরা আগুনে প্রবেশ করার সময় পরস্পর বিবাদকারীদের মত গালাগালি শুরু করবে এবং একজন অপরজন থেকে পৃথক হয়ে গিয়ে বলবে: এই জাহান্নামী দলটি তোমাদের সাথে আগুনে প্রবেশ করবে। তখন প্রতিউত্তরে এরা বলবে: তাদের জন্য কোন স্বাগতম নেই বরং তারা আমাদের মত জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করবে।
قَالُواْ بَلۡ أَنتُمۡ لَا مَرۡحَبَۢا بِكُمۡۖ أَنتُمۡ قَدَّمۡتُمُوهُ لَنَاۖ فَبِئۡسَ ٱلۡقَرَارُ 60
৬০. অনুসারীরা অনুসরণীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলবে: হে নেতারা! তোমাদের জন্য কোন স্বাগতম নেই। কেননা, তোমরাই আমাদেরকে ভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তিতে নিপতিত করে এ কঠিন শাস্তির কারণ হয়েছো। বস্তুতঃ তা কতই না নিকৃষ্ট অবস্থান। তথা জাহান্নামের আগুন তাদের সবারই ঠিকানা।
قَالُواْ رَبَّنَا مَن قَدَّمَ لَنَا هَٰذَا فَزِدۡهُ عَذَابٗا ضِعۡفٗا فِي ٱلنَّارِ 61
৬১. অনুসারীরা বললো: হে আমাদের প্রতিপালক! যে ব্যক্তি হিদায়েত আসার পর তা থেকে আমাদেরকে বিচ্যুত করেছে তাকে আপনি দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন।
ক. যে ব্যক্তি কষ্টের উপর ধৈর্য ধারণ করবে আল্লাহ তাকে বর্তমান ও ভবিষ্যতে প্রতিদান দিবেন এবং সে দো‘আ করলে তা তিনি কবুল করবেন।
খ. আয়াতে এ কথার প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে যে, স্বামী তার স্ত্রীকে আদব শিক্ষা দিতে গিয়ে হালকা প্রহার করতে পারে। যেমন আইয়ুব (আলাইহিস-সালাম) স্বীয় স্ত্রীকে প্রহার করার শপথ করে তা বাস্তবায়নও করেছেন।