مَا تَسۡبِقُ مِنۡ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسۡتَٔۡخِرُونَ 43
৪৩. এ মিথ্যারোপকারী জাতিসমূহের কোন জাতি তার ধ্বংস আসার নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেও যেতে পারবে না, তা থেকে কিছু পরেও থাকতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাদের যতো উপায়-উপকরণই থাক না কেন।
ثُمَّ أَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا تَتۡرَاۖ كُلَّ مَا جَآءَ أُمَّةٗ رَّسُولُهَا كَذَّبُوهُۖ فَأَتۡبَعۡنَا بَعۡضَهُم بَعۡضٗا وَجَعَلۡنَٰهُمۡ أَحَادِيثَۚ فَبُعۡدٗا لِّقَوۡمٖ لَّا يُؤۡمِنُونَ 44
৪৪. অতঃপর আমি আমার রাসূলদেরকে ধারাবাহিকভাবে এক এক জন করে পাঠিয়েছি। যখনই সে জাতিসমূহের কোন জাতির নিকট তাদের জন্য প্রেরিত রাসূল এসেছেন তখনই তারা তাঁকে মিথ্যুক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই আমি তাদেরকে একের পর এক ধ্বংস করে দিয়েছি। ফলে মানুষের মুখের কাহিনী ছাড়া তাদের কোন অস্তিত্বই আর বাকি থাকেনি। রাসূলগণ তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যে বিধানসমূহ নিয়ে এসেছেন সেগুলোর প্রতি অবিশ্বাসী জাতি ধ্বংস হোক।
ثُمَّ أَرۡسَلۡنَا مُوسَىٰ وَأَخَاهُ هَٰرُونَ بَِٔايَٰتِنَا وَسُلۡطَٰنٖ مُّبِينٍ 45
৪৫. এরপর আমি মূসা ও তাঁর ভাই হারূনকে নয়টি নিদর্শন তথা লাঠি, উজ্জ্বল হাত, পঙ্গপাল, উকুন, বেঙ, রক্ত, তুফান, দুর্ভিক্ষ ও ফলমূলের ঘাটতি ইত্যাদি সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছি।
إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَإِيْهِۦ فَٱسۡتَكۡبَرُواْ وَكَانُواْ قَوۡمًا عَالِينَ 46
৪৬. আমি তাঁদেরকে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের সুধীজনদের নিকট পাঠালে তারা অহঙ্কার করে তাঁদের উপর ঈমান আনতে অস্বীকৃতি জানায়। বস্তুতঃ তারা যুলুম ও প্রতিপত্তির মাধ্যমে মানুষের উপর এক উদ্ধত জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলো।
فَقَالُوٓاْ أَنُؤۡمِنُ لِبَشَرَيۡنِ مِثۡلِنَا وَقَوۡمُهُمَا لَنَا عَٰبِدُونَ 47
৪৭. তারা বললো: আমরা কি আমাদের ন্যায় এমন দু’টি মানুষের উপর ঈমান আনবো, আমাদের উপর যাদের কোন বিশেষত্বই নেই। আর তাদের সম্প্রদায় বনূ ইসরাঈল তো আমাদের অনুগত ও আমাদের সামনে সদা বিনয়ী?!
فَكَذَّبُوهُمَا فَكَانُواْ مِنَ ٱلۡمُهۡلَكِينَ 48
৪৮. অতঃপর তারা এই দু’জন আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। ফলে তাদের মিথ্যারোপের দরুন তারা পানিতে ডুবে ধ্বংস হয়েছে।
وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَى ٱلۡكِتَٰبَ لَعَلَّهُمۡ يَهۡتَدُونَ 49
৪৯. আমি মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে তাওরাত দিয়েছে। যাতে তাঁর সম্প্রদায় এরই মাধ্যমে সত্যের দিশা পায় ও তার উপর আমল করে।
وَجَعَلۡنَا ٱبۡنَ مَرۡيَمَ وَأُمَّهُۥٓ ءَايَةٗ وَءَاوَيۡنَٰهُمَآ إِلَىٰ رَبۡوَةٖ ذَاتِ قَرَارٖ وَمَعِينٖ 50
৫০. আর আমি ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম ও তাঁর মা মারইয়ামকে আমার অসীম ক্ষমতা বুঝায় এমন নিদর্শন বানিয়েছি। মারইয়াম তার কোন পিতা ছাড়াই তাকে গর্ভে ধারণ করেছে। আমি তাদেরকে জমিনের একটি উঁচু জায়গায় আশ্রয় দিয়েছি যা ছিলো সমতল ও অবস্থানের উপযুক্ত। উপরন্তু তাতে ছিলো চলমান নতুন পানি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُواْ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعۡمَلُواْ صَٰلِحًاۖ إِنِّي بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيمٞ 51
৫১. হে রাসূলগণ! আপনারা আমার হালালকৃত পবিত্র খাদ্য থেকে খান এবং শরীয়ত মাফিক নেক আমল করুন। আপনারা যে আমলগুলো করছেন তা আমি সবই জানি। আপনাদের কোন আমলই আমার নিকট গোপন নয়।
وَإِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمۡ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ وَأَنَا۠ رَبُّكُمۡ فَٱتَّقُونِ 52
৫২. হে রাসূলগণ! নিশ্চয়ই আপনাদের ধর্ম তো একই ধর্ম। তা হলো ইসলাম। আর আমি আপনাদের প্রতিপালক। আমি ছাড়া আপনাদের আর কোন প্রতিপালক নেই। তাই আপনারা আমার আদেশ ও নিষেধ মেনে একমাত্র আমাকেই ভয় করুন।
فَتَقَطَّعُوٓاْ أَمۡرَهُم بَيۡنَهُمۡ زُبُرٗاۖ كُلُّ حِزۡبِۢ بِمَا لَدَيۡهِمۡ فَرِحُونَ 53
৫৩. অতঃপর তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের মৃত্যুর পর ধর্মকে নিয়ে বিভক্ত হয়েছে। ফলে তারা বিভিন্ন দল ও অনুসারী গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেক দলই তার এ বিশ্বাস নিয়ে খুশি যে, আল্লাহর নিকট তার অনুসরণীয় দ্বীনই কেবল পছন্দনীয়। তাই সে অন্যের কাছে থাকা ধর্মের দিকে সামান্যটুকুও ভ্রূক্ষেপ করে না।
فَذَرۡهُمۡ فِي غَمۡرَتِهِمۡ حَتَّىٰ حِينٍ 54
৫৪. হে রাসূল! আপনি তাদেরকে তাদের উপর আযাব নাযিল হওয়া পর্যন্ত মূর্খতা ও অস্থিরতায় ছেড়ে দিন।
أَيَحۡسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِۦ مِن مَّالٖ وَبَنِينَ 55
৫৫-৫৬. নিজেদের তন্ত্রের উপর খুশি থাকা দলগুলো কি ভাবছে যে, আমি তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে যে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি তা তাদের উপযুক্ত অগ্রিম কল্যাণ?! ব্যাপারটি তেমন নয় যা তারা ধারণা করেছে। বরং আমি তাদেরকে অবকাশ ও প্রচুর সময় দিচ্ছি। কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারছে না।
نُسَارِعُ لَهُمۡ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِۚ بَل لَّا يَشۡعُرُونَ 56
৫৫-৫৬. নিজেদের তন্ত্রের উপর খুশি থাকা দলগুলো কি ভাবছে যে, আমি তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে যে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি তা তাদের উপযুক্ত অগ্রিম কল্যাণ?! ব্যাপারটি তেমন নয় যা তারা ধারণা করেছে। বরং আমি তাদেরকে অবকাশ ও প্রচুর সময় দিচ্ছি। কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারছে না।
إِنَّ ٱلَّذِينَ هُم مِّنۡ خَشۡيَةِ رَبِّهِم مُّشۡفِقُونَ 57
৫৭. নিশ্চয়ই যারা ঈমান ও সৎকর্মশীলতা সত্ত্বেও নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে।
وَٱلَّذِينَ هُم بَِٔايَٰتِ رَبِّهِمۡ يُؤۡمِنُونَ 58
৫৮. আর যারা তাঁর কিতাবের আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনে।
وَٱلَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمۡ لَا يُشۡرِكُونَ 59
৫৯. আর যারা নিজেদের প্রতিপালককে এক ও অদ্বিতীয় বলে গণ্য করে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকেই শরীক করে না।
ক. অহঙ্কার সত্য লাভের পথে বিশেষ বাধা।
খ. অন্তর ও আমলের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে পবিত্র খাদ্যের বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
গ. তাওহীদ হলো সকল নবীর ধর্ম ও দা’ওয়াত।
ঘ. অপরাধীকে নিয়ামত দেয়া মানে তাকে সম্মান করা নয়। বরং তার মানে হলো তাকে কিছুটা অবকাশ দেয়া।