وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ إِلَّا رِجَالٗا نُّوحِيٓ إِلَيۡهِمۡۖ فَسَۡٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ 43
৪৩. হে রাসূল! আমি আপনার পূর্বে পুরুষ মানুষদের নিকটই ওহী পাঠিয়েছি। আমি ইতিপূর্বে কোন ফিরিশতা রাসূল পাঠাইনি। এটিই হলো আমার সাধারণ নিয়ম। যদি তোমরা এটিকে অস্বীকার করো তাহলে পূর্ববর্তী কিতাবধারীদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারো। তারা তোমাদেরকে এ সংবাদ দিবে যে, রাসূলগণ মূলতঃ মানুষই ছিলেন। তাঁরা কখনো ফিরিশতা ছিলেন না।
بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِۗ وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ 44
৪৪. আমি এ মানুষ রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নাযিলকৃত কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছি। আর হে রাসূল! আপনার উপর কুরআন নাযিল করেছি। যাতে আপনি মানুষের সামনে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সুস্পষ্টভাবে বলতে পারেন এবং তারা নিজেদের বুদ্ধি খাটিয়ে তার বিষয়বস্তু থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
أَفَأَمِنَ ٱلَّذِينَ مَكَرُواْ ٱلسَّئَِّاتِ أَن يَخۡسِفَ ٱللَّهُ بِهِمُ ٱلۡأَرۡضَ أَوۡ يَأۡتِيَهُمُ ٱلۡعَذَابُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَشۡعُرُونَ 45
৪৫. যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেছে তারা কি এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিবেন না যেমনিভাবে ধ্বসিয়ে দিয়েছেন কারূনকে অথবা তাদের নিকট এমন জায়গা থেকে শাস্তি আসবে না তারা যেখান থেকে আসার অপেক্ষায় ছিলো না।
أَوۡ يَأۡخُذَهُمۡ فِي تَقَلُّبِهِمۡ فَمَا هُم بِمُعۡجِزِينَ 46
৪৬. অথবা তাদের সফররত অবস্থা ও কর্মব্যস্ত অবস্থায় তাদের নিকট আযাব আসবে না। সুতরাং তারা হাতছাড়াও হবে না এবং রক্ষাও পাবে না।
أَوۡ يَأۡخُذَهُمۡ عَلَىٰ تَخَوُّفٖ فَإِنَّ رَبَّكُمۡ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٌ 47
৪৭. না কি তারা এ ব্যাপারে নিরাপদ যে, তাদের ভীতি অবস্থায় তাদের উপর আল্লাহর আযাব আসবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সর্বাবস্থায় শাস্তি দিতে সক্ষম। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক অতি দয়ালু ও অত্যন্ত মেহেরবান। তিনি দ্রুত শাস্তি দেন না। যেন তাঁর বান্দারা তাওবার সুযোগ পায়।
أَوَ لَمۡ يَرَوۡاْ إِلَىٰ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ مِن شَيۡءٖ يَتَفَيَّؤُاْ ظِلَٰلُهُۥ عَنِ ٱلۡيَمِينِ وَٱلشَّمَآئِلِ سُجَّدٗا لِّلَّهِ وَهُمۡ دَٰخِرُونَ 48
৪৮. এ মিথ্যারোপকারীরা কি তাঁর সৃষ্টিজগতের দিকে একটু চিন্তাশীল দৃষ্টি দিয়ে দেখে না যে, সেগুলোর ছায়া দিনের বেলায় সূর্যের এবং রাতের বেলায় চন্দ্রের গতি ও নড়াচড়া অনুযায়ী নিজেদের প্রতিপালকের সামনে একান্ত অনুগত ও সাজদাবনত হয়ে ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়ে। বস্তুতঃ সেগুলো হলো আল্লাহর ক্ষমতা ও নির্দেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও বাধ্যগত।
وَلِلَّهِۤ يَسۡجُدُۤ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ مِن دَآبَّةٖ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَهُمۡ لَا يَسۡتَكۡبِرُونَ 49
৪৯. আকাশ ও জমিনের সকল প্রাণী কেবল আল্লাহর জন্য সাজদাহ করে। তেমনিভাবে ফিরিশতারাও কেবল তাঁরই জন্য সাজদাহ করে। তারা আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য থেকে অহঙ্কারবশত সামান্যও মুখ ফিরিয়ে নেয় না।
يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوۡقِهِمۡ وَيَفۡعَلُونَ مَا يُؤۡمَرُونَ۩ 50
৫০. তারা সর্বদা তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে। যিনি নিজ সত্তা, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতায় তাদের সবার উপরে। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে আনুগত্যের যে আদেশ করেন তারা তাই করে।
۞وَقَالَ ٱللَّهُ لَا تَتَّخِذُوٓاْ إِلَٰهَيۡنِ ٱثۡنَيۡنِۖ إِنَّمَا هُوَ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞ فَإِيَّٰيَ فَٱرۡهَبُونِ 51
৫১. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সকল বান্দাদেরকে বলেন: তোমরা একাধিক মা’বূদ গ্রহণ করো না। নিশ্চয়ই সত্য মা’বূদ কেবল এক একক ও অদ্বিতীয়। যাঁর কোন শরীক নেই। তাই আমাকেই তোমরা ভয় করো। অন্য কাউকে ভয় করো না।
وَلَهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَهُ ٱلدِّينُ وَاصِبًاۚ أَفَغَيۡرَ ٱللَّهِ تَتَّقُونَ 52
৫২. আকাশ ও জমিনের সবকিছুর স্রষ্টা, মালিক ও পরিকল্পনাকারী কেবল তিনিই। তাই তাঁর জন্যই কেবল আনুগত্য, বিনয় ও নিষ্ঠা অবধারিত। তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করছো?! না, তা হয় না। বরং তোমরা কেবল তাঁকেই ভয় করো।
وَمَا بِكُم مِّن نِّعۡمَةٖ فَمِنَ ٱللَّهِۖ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ ٱلضُّرُّ فَإِلَيۡهِ تَجَۡٔرُونَ 53
৫৩. হে মানুষ! তোমাদের নিকট দুনিয়ার ও ধর্মীয় যে নিয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; অন্য কারো পক্ষ থেকে নয়। অতঃপর তোমরা যখন কোন বিপদ, রোগ কিংবা দরিদ্রতার সম্মুখীন হও তখন কেবল দু‘আর মাধ্যমে তাঁরই নিকট ব্যাকুলতা প্রকাশ করে থাকো। যাতে তিনি তোমাদের বিপদ দূর করে দেন। অতএব, যিনি নিয়ামত দেন ও বিপদ দূর করেন কেবল তাঁরই ইবাদত করা আবশ্যক।
ثُمَّ إِذَا كَشَفَ ٱلضُّرَّ عَنكُمۡ إِذَا فَرِيقٞ مِّنكُم بِرَبِّهِمۡ يُشۡرِكُونَ 54
৫৪. অতঃপর যখন তিনি তোমাদের দু‘আ কবুল করে তোমাদের কষ্ট দূর করে দেন তখন তোমাদের এক দল তাদের প্রতিপালকের সাথে শিরক করে। তথা তাঁর সাথে অন্যের ইবাদত করে। এটি কী ধরনের হীনমন্যতা?!
ক. একজন অপরাধীর নিজ প্রতিপালককে অবশ্যই লজ্জা পাওয়া উচিত এই ভেবে যে, আল্লাহর নিয়ামত তার উপর অনবরত নাযিল হচ্ছে। আর অন্যদিকে সদা-সর্বদা তার গুনাহসমূহ তার প্রতিপালকের নিকট উঠে যাচ্ছে।
খ. কাফির, মিথ্যারোপকারী এবং হরেক রকমের পাপীদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা। যেন তিনি তাদেরকে তাদের অজান্তেই হঠাৎ শাস্তি দিয়ে পাকড়াও না করেন।
গ. সকল নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে। চাই তা বস্তুগত হোক যেমন: রিযিক, সুস্থতা ও বিপদমুক্তি কিংবা অবস্তুগত যেমন: নিরাপত্তা, পদ, মর্যাদা ইত্যাদি।
ঘ. বিপদের সময় আল্লাহ ছাড়া দুঃখ-কষ্ট দূর করার জন্য মানুষ আর কোন আশ্রয়স্থল খুঁজে পায় না। তাই সে তখন দু‘আর মাধ্যমে তাঁর দিকেই ধাবিত হয়। কারণ, সে জানে তিনি ছাড়া আর কেউ বিপদ দূর করার ক্ষমতা রাখে না।