قُلۡ سِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلُۚ كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّشۡرِكِينَ 42
৪২. হে রাসূল! আপনি এসব মুশরিকদেরকে বলুন! তোমরা জমিনে চলে দেখ, মিথ্যারোপকারী জাতির কী পরিণতি হয়েছিল। তাদের পরিণতি খুবই মন্দ ছিল। তাদের বেশীরভাগ আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত ছিল। তারা আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদত করত। আল্লাহর সাথে শরীক করার কারণে তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছে।
فَأَقِمۡ وَجۡهَكَ لِلدِّينِ ٱلۡقَيِّمِ مِن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَ يَوۡمٞ لَّا مَرَدَّ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِۖ يَوۡمَئِذٖ يَصَّدَّعُونَ 43
৪৩. হে রাসূল! ক্বিয়ামত আসার পূর্বে তুমি তোমার চেহারাকে সরল ইসলাম ধর্মের উদ্দেশ্যে স্থির করো। যাতে কোনরূপ বক্রতা নেই। যেদিন উপস্থিত হলে তাকে রুখে দেয়ার কেউ থাকবে না, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। কেউ হবে জান্নাতের অধিবাসী। আর কেউ হবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগকারী।
مَن كَفَرَ فَعَلَيۡهِ كُفۡرُهُۥۖ وَمَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا فَلِأَنفُسِهِمۡ يَمۡهَدُونَ 44
৪৪. যে আল্লাহর সাথে কুফুরি করলো তার কুফুরির অনিষ্ট তাকেই পাবে। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনান্তে নেক আমল করলো তারা এর মাধ্যমে নিজেদের জন্য জান্নাতের পথ সুগম করলো। তারা সেখানে উপভোগের মধ্যে চিরদিন থাকবে।
لِيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِن فَضۡلِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡكَٰفِرِينَ 45
৪৫. যাতে আল্লাহ ঈমানদার ও আল্লাহকে সন্তুষ্টকারী নেক আমলকারীদেরকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের প্রতিদান দিতে পারেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তাঁর ও তাঁর রাসূলদের অস্বীকারকারীদেরকে ভালোবাসেন না। বরং তাদেরকে সর্বাপেক্ষা বেশী ঘৃণা করেন এবং অচিরেই ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে তিনি শাস্তি প্রদান করবেন।
وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَن يُرۡسِلَ ٱلرِّيَاحَ مُبَشِّرَٰتٖ وَلِيُذِيقَكُم مِّن رَّحۡمَتِهِۦ وَلِتَجۡرِيَ ٱلۡفُلۡكُ بِأَمۡرِهِۦ وَلِتَبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِهِۦ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ 46
৪৬. তাঁর ক্ষমতা ও একত্ববাদের উপর বড় ধরনের প্রমাণবহনকারী বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি বায়ুকে বৃষ্টি বর্ষণের সময় নিকটবর্তী হওয়ার সুসংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রেরণ করেন। যেন বারি বর্ষণের পর তদ্বারা উর্বরতা ও সাবলম্বিতা অর্জন হয়। তাছাড়া বায়ুর মাধ্যমে যেন তাঁর ইচ্ছায় জাহাজ চলতে থাকে। যাতে করে সমুদ্রে ব্যবসার মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ করে তাঁর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারো। এতে করে তিনি তোমাদের উদ্দেশ্যে তা বৃদ্ধি করে দিবেন।
وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ رُسُلًا إِلَىٰ قَوۡمِهِمۡ فَجَآءُوهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَٱنتَقَمۡنَا مِنَ ٱلَّذِينَ أَجۡرَمُواْۖ وَكَانَ حَقًّا عَلَيۡنَا نَصۡرُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ 47
৪৭. হে রাসূল! আমি তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকট রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের নিকট তাঁদের সত্যতার প্রমাণবাহী দলীলসমূহ নিয়ে আগমন করেছেন। কিন্তু তারা রাসূলদের সাথে নিয়ে আসা সত্যকে অস্বীকার করলো। ফলে আমি মন্দ কাজের জন্য অপরাধীদের বদলা নিলাম এবং তাদেরকে আমার শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করলাম। আর রাসূলদেরকে ও তাঁদের উপর ঈমান আনয়নকারীদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম। বস্তুতঃ মুমিনদেরকে রক্ষা ও সাহায্য করা আমার নিজস্ব কর্তব্য।
ٱللَّهُ ٱلَّذِي يُرۡسِلُ ٱلرِّيَٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابٗا فَيَبۡسُطُهُۥ فِي ٱلسَّمَآءِ كَيۡفَ يَشَآءُ وَيَجۡعَلُهُۥ كِسَفٗا فَتَرَى ٱلۡوَدۡقَ يَخۡرُجُ مِنۡ خِلَٰلِهِۦۖ فَإِذَآ أَصَابَ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦٓ إِذَا هُمۡ يَسۡتَبۡشِرُونَ 48
৪৮. আল্লাহই বায়ুকে প্রেরণ করেন। ফলে সে মেঘমালাকে আন্দোলিত করে এবং আসমানে সেগুলোকে কম-বেশী যেভাবে ইচ্ছা প্রসারিত ও খণ্ড বিখণ্ড করে। তাই তুমি দেখতে পাও সেই মেঘ থেকেই বৃষ্টি পড়ে। ফলে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যারা তাঁর রহমতের বৃষ্টি পায় তারা এতে আনন্দিত হয়। কেননা, এর ফলে উদ্ভিদ উৎপাদিত হয়। যার প্রতি তারা ও তাদের পশু-পক্ষি মুখাপেক্ষী।
وَإِن كَانُواْ مِن قَبۡلِ أَن يُنَزَّلَ عَلَيۡهِم مِّن قَبۡلِهِۦ لَمُبۡلِسِينَ 49
৪৯. অথচ তারা ইতিপূর্বে আল্লাহ তাদের উপর বারি বর্ষণ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তা থেকে নিরাশ হয়ে পড়েছিল।
فَٱنظُرۡ إِلَىٰٓ ءَاثَٰرِ رَحۡمَتِ ٱللَّهِ كَيۡفَ يُحۡيِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَآۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ 50
৫০. অতএব হে রাসূল! আপনি বান্দাদের জন্য বৃষ্টি নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতের প্রতিচ্ছবির প্রতি লক্ষ্য করুন। তদ্বারা তিনি জমিনকে কিভাবে খরা ও শুকিয়ে যাওয়ার পর শস্যাদির মাধ্যমে জীবিত করেছেন। নিশ্চয়ই যিনি এহেন শুকনো জমিনকে জীবিত করেছেন তিনি মৃতদেরকে পুনরুত্থান দানকারী। তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান; তাঁকে অপারগ করতে পারে এমন কোন কিছুই নেই।
ক. বায়ু প্রেরণ, বারি বর্ষণ ও সমুদ্রপথে জাহাজ চালনা এসব এমন নি‘আমত যা আবশ্যিকভাবে শুকরিয়া আদায়ের দাবি রাখে।
খ. পাপীদের ধ্বংস করা ও মুমিনদের সাহয্য করা আল্লাহর অমোঘ বিধান।
গ. খরার পর জমিনে শস্য উদ্গত করা পুনরুত্থানেরই প্রমাণ।