إِنَّآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ لِلنَّاسِ بِٱلۡحَقِّۖ فَمَنِ ٱهۡتَدَىٰ فَلِنَفۡسِهِۦۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيۡهَاۖ وَمَآ أَنتَ عَلَيۡهِم بِوَكِيلٍ 41
৪১. হে রাসূল! আমি আপনার উপর এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি এর মাধ্যমে লোকদেরকে সতর্ক করতে পারেন। আসলে যে হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এতে করে সে নিজেই লাভবান হয়। এর দ্বারা আল্লাহর কোন লাভালাভ নেই। কারণ, তিনি এর মুখাপেক্ষী নন। অন্যদিকে যে পথভ্রষ্ট হয় এর অনিষ্টও তার উপরই বর্তায়। এতে আল্লাহর কোন ক্ষতি নেই। আপনি তাদেরকে হেদায়েত গ্রহণে বাধ্য করতে দায়িত্বশীল নন। বরং তাদের নিকট যা পৌঁছানোর জন্য আপনি আদিষ্ট শুধুমাত্র তা পৌঁছিয়ে দেয়াই আপনার দায়িত্ব।
ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلۡأَنفُسَ حِينَ مَوۡتِهَا وَٱلَّتِي لَمۡ تَمُتۡ فِي مَنَامِهَاۖ فَيُمۡسِكُ ٱلَّتِي قَضَىٰ عَلَيۡهَا ٱلۡمَوۡتَ وَيُرۡسِلُ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَتَفَكَّرُونَ 42
৪২. তিনিই আল্লাহ যিনি আয়ু শেষে আত্মাগুলো কবজ করেন। আবার ঘুমানোর সময় ওই সব আত্মাগুলোকে কবজ করেন যেগুলোর আয়ু শেষ হয় নি। অতঃপর যেগুলোর মৃত্যুর ফয়সালা করেন সেগুলোকে রেখে দেন। আর যেগুলোর মৃত্যুর ফয়সালা হয় নি সেগুলোকে তাঁর জ্ঞানে নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত অবকাশ দেন। এই কবজ করা, অবকাশ দেয়া, জীবন ও মৃত্যু দানের মধ্যে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যিনি এ সব কিছু করতে সক্ষম তিনি মানুষকে তাদের মৃত্যুর পর হিসাব ও প্রতিদানের জন্য পুনরুত্থানেও সক্ষম।
أَمِ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَۚ قُلۡ أَوَلَوۡ كَانُواْ لَا يَمۡلِكُونَ شَيۡٔٗا وَلَا يَعۡقِلُونَ 43
৪৩. মুশরিকরা তাদের দেবতাদের থেকে সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে। তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের নিকট উপকারের আশা পোষণ করে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: তোমরা তখনও কি তাদেরকে সুপারিশকারী হিসাবে গ্রহণ করবে যদিও তারা তোমাদের কিংবা তাদের জন্য কোন উপকার সাধন করতে অক্ষম। এমনকি তারা যদি হয় জ্ঞান-বুদ্ধিহীন জড়পদার্থ। যারা কথা বলে না, শুনে না, দেখে না এবং কারো উপকার কিংবা অপকারও করতে পারে না।
قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعٗاۖ لَّهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ 44
৪৪. হে রাসূল! আপনি এসব মুশরিকদেরকে বলে দিন যে, সুপারিশের সকল অধিকার একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। তাই তাঁর নিকট তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না এবং তিনি যার উপর সন্তুষ্ট সে ব্যতীত অন্য করো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। আসমান-জমিনের আধিপত্যও কেবল তাঁরই। অতঃপর যখন হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে কিয়ামত দিবসে তোমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে তখন তিনি তোমাদের আমলের প্রতিদান দিবেন।
وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحۡدَهُ ٱشۡمَأَزَّتۡ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِۖ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمۡ يَسۡتَبۡشِرُونَ 45
৪৫. যখন আল্লাহকে এককভাবে স্মরণ করা হয় তখন মুশরিকদের অন্তর অনীহা পোষণ করে। যারা পরকাল ও তাতে ঘটিতব্য পুনরুত্থান, হিসাব ও প্রতিদানকে বিশ্বাস করে না। পক্ষান্তরে যখন তাদের দেবতাদের কথা উল্লেখ করা হয় যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে পূজা করে তখন তারা আনান্দিত ও উৎফুল্ল হয়।
قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ عَٰلِمَ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ أَنتَ تَحۡكُمُ بَيۡنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُواْ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ 46
৪৬. হে রাসূল! আপনি বলুন: হে আল্লাহ! আপনি আসমান-জমিনকে কোনরূপ পূর্বের নমুনা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। আপনি উপস্থিত ও অনুপস্থিত সব কিছু সম্পর্কে জ্ঞাত। আপনার নিকট এ সবের কোন কিছু গোপন নয়। আপনি একাই আপনার বান্দাদের মধ্যকার বিতর্কিত বিষয়ে ফয়সালা করবেন। ফলে হক আর বাত্বিল পন্থী এবং সৌভাগ্যবান আর হতভাগার মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
وَلَوۡ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُواْ مَا فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗا وَمِثۡلَهُۥ مَعَهُۥ لَٱفۡتَدَوۡاْ بِهِۦ مِن سُوٓءِ ٱلۡعَذَابِ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَبَدَا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مَا لَمۡ يَكُونُواْ يَحۡتَسِبُونَ 47
৪৭. যারা শিরক ও পাপাচারের মাধ্যমে স্বীয় আত্মার উপর অত্যাচার করেছে তারা পৃথিবীর সকল মূল্যবান বস্তু, অর্থকড়ি ইত্যাদি এবং এর দিগুণ সম্পদের মালিক হলেও পুনরুত্থানের পর সব কিছু মুক্তিপণ হিসাবে প্রদান করেও প্রত্যক্ষ করা কঠিন শাস্তি হতে মুক্তি পাবে না। আর তারা এসবের মালিক বলে ধরে নেয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। বরং তাদের সামনে আল্লাহর পক্ষ হতে ধারণাতীত বহু ধরনের শাস্তি প্রকাশ পাবে।
ক. ঘুম ও গাত্রোত্থান দৈনন্দিনের এমন দু‘টি শিক্ষা যা মৃত্যু ও পুনরুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
খ. কাফিরদের নিকট আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে তারা সংকীর্ণমনা ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কেননা তখন তাদের মনে তাঁর আদেশ-নিষেধের কথা স্মরণ হয়। যেগুলোর বাস্তবায়নে তারা বিমুখ।
গ. কাফির দুনিয়াতে কৃপণ হওয়া সত্ত্বেও পরকালে তার মালিকানাধীন সব কিছু দিয়ে সে মুক্তিপণ পেশ করতে চাবে। কিন্তু তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।