وَقَٰرُونَ وَفِرۡعَوۡنَ وَهَٰمَٰنَۖ وَلَقَدۡ جَآءَهُم مُّوسَىٰ بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَٱسۡتَكۡبَرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا كَانُواْ سَٰبِقِينَ 39
৩৯. আমি কারূন ও তার ঘরকে ধ্বসিয়ে দিয়ে তাকে ধ্বংস করেছি যখন সে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার করেছে। আর ফিরআউন ও তার মন্ত্রী হামানকে সাগরে ডুবিয়ে মেরেছি। তাদের নিকট মূসা (আলাইহিস-সালাম) এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছেন যেগুলো তাঁর সত্যতা প্রমাণ করে। কিন্তু তারা মিশরের জমিনে অহঙ্কার করে তাঁর উপর ঈমান আনেনি। বস্তুতঃ আমাকে ফাঁকি দিয়ে আমার আযাব থেকে বাঁচার তাদের কোন সুযোগ ছিলো না।
فَكُلًّا أَخَذۡنَا بِذَنۢبِهِۦۖ فَمِنۡهُم مَّنۡ أَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِ حَاصِبٗا وَمِنۡهُم مَّنۡ أَخَذَتۡهُ ٱلصَّيۡحَةُ وَمِنۡهُم مَّنۡ خَسَفۡنَا بِهِ ٱلۡأَرۡضَ وَمِنۡهُم مَّنۡ أَغۡرَقۡنَاۚ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيَظۡلِمَهُمۡ وَلَٰكِن كَانُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ 40
৪০. ধ্বংসাত্মক শাস্তির মাধ্যমে আমি তাদের উপরোক্ত সবাইকে পাকড়াও করেছি। লুত সম্প্রদায়ের উপর আমি স্তরবিশিষ্ট শক্ত মাটির পাথর পাঠিয়েছি। সালিহ ও শুআইব (আলাইহিমাস-সালাম) এর সম্প্রদায়কে কঠিন বজ্র নিনাদ পাকড়াও করেছে। কারূন ও তার ঘরকে আমি জমিনে ধ্বসিয়ে দিয়েছি। নূহ, ফিরআউন ও হামান সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছি। কোন গুনাহ ছাড়া এমনিতেই তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর কোন যুলুম করেননি। বরং তারা গুনাহে লিপ্ত হয়ে নিজেদের উপর যুলুম করে নিজেরাই শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে।
مَثَلُ ٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَوۡلِيَآءَ كَمَثَلِ ٱلۡعَنكَبُوتِ ٱتَّخَذَتۡ بَيۡتٗاۖ وَإِنَّ أَوۡهَنَ ٱلۡبُيُوتِ لَبَيۡتُ ٱلۡعَنكَبُوتِۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ 41
৪১. যে মুশরিকরা নিজেদের উপকার ও সুপারিশের আশায় আল্লাহ ছাড়া অন্য মূর্তিদেরকে ইবাদতের জন্য গ্রহণ করেছে তাদের দৃষ্টান্ত হলো মাকড়সার মতো। যে নিজের জন্য ঘর বানিয়েছে অন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। অথচ মাকড়সার ঘরই সবচেয়ে দুর্বল ঘর। যে ঘর শত্রুকে প্রতিরোধ করতে পারে না। তেমনিভাবে তাদের মূর্তিগুলোও তাদের কোন লাভ-ক্ষতি কিংবা তাদের জন্য কোন সুপারিশ করতে পারবে না। যদি মুশরিকরা এ ব্যাপারটি জানতো তাহলে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মূর্তিকে ইবাদতের জন্য গ্রহণ করতো না।
إِنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا يَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ مِن شَيۡءٖۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ 42
৪২. আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে তারা যাদের পূজা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তা জানেন। এর কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। তিনি এক অপরাজেয় পরাক্রমশীল। তাঁর সৃষ্টি, পরিমাণ ও পরিচালনায় তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
وَتِلۡكَ ٱلۡأَمۡثَٰلُ نَضۡرِبُهَا لِلنَّاسِۖ وَمَا يَعۡقِلُهَآ إِلَّا ٱلۡعَٰلِمُونَ 43
৪৩. এ সকল দৃষ্টান্ত যা আমি মানুষকে সচেতন করা এবং তাদেরকে সত্য দেখিয়ে দেয়া ও এর প্রতি হিদায়েতের জন্য উল্লেখ করেছি সেগুলো বস্তুতঃ আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর হিকমতসমূহ সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ যথার্থভাবে বুঝতে পারে না।
خَلَقَ ٱللَّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ بِٱلۡحَقِّۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ 44
৪৪. আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিনকে একটি সত্য উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেগুলোকে বাতিল কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কিংবা এমনিতেই তিনি সৃষ্টি করেননি। এ সৃষ্টির মাঝে নিশ্চয়ই মু’মিনদের জন্য আল্লাহর কুদরতের প্রতি একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ, তারাই একমাত্র আল্লাহর সৃষ্টি কর্তৃক স্রষ্টার ব্যাপারে প্রমাণ গ্রহণ করে থাকে। আর কাফিররা নিজেদের মাঝে ও দুনিয়ার আনাচে-কানাচে থাকা অনেক নিদর্শনের পাশ দিয়েই তারা যায় তবে সেগুলো স্রষ্টার মহত্ত্ব ও তাঁর কুদরতের দিকে তাদের দৃষ্টিটুকু আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় না।
ٱتۡلُ مَآ أُوحِيَ إِلَيۡكَ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَۖ إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ تَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِۗ وَلَذِكۡرُ ٱللَّهِ أَكۡبَرُۗ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُونَ 45
৪৫. হে রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা আপনার উপর যে কুরআনের ওহী পাঠিয়েছেন তা আপনি মানুষদেরকে পড়ে শুনান। আর আপনি পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় করুন। নিশ্চয়ই পরিপূর্ণরূপে আদায় করা সালাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গুনাহ ও মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা দেয়। কারণ, সালাত মানুষের অন্তরে এমন এক নূর সৃষ্টি করে যা তাকে গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা ও সৎ কাজের পরামর্শ দেয়। মূলতঃ আল্লাহর স্মরণই সবকিছুর চেয়ে বড় ও মহান। আর আল্লাহ তা‘আলা জানেন, তোমরা কী করছো। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন নয়। তিনি অচিরেই তোমাদেরকে নিজেদের আমলের প্রতিদান দিবেন। ভালো হলে ভালো আর খারাপ হলে খারাপ।
ক. দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের গুরুত্ব। যেমন: মাকড়সার দৃষ্টান্ত।
খ. দুনিয়াতে আযাবের বিভিন্ন ধরন।
গ. আল্লাহ তা‘আলা যুলুম থেকে পবিত্র।
ঘ. আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কোন কিছুর সাথে সম্পর্ক মূলতঃ সর্বাধিক দুর্বল কোন কিছুর সাথে সম্পর্ক।
ঙ. একজন মু’নিনের আচরণ সঠিক করার ক্ষেত্রে সালাতের গুরুত্ব।