ذَٰلِكَ مِمَّآ أَوۡحَىٰٓ إِلَيۡكَ رَبُّكَ مِنَ ٱلۡحِكۡمَةِۗ وَلَا تَجۡعَلۡ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتُلۡقَىٰ فِي جَهَنَّمَ مَلُومٗا مَّدۡحُورًا 39
৩৯. যে আদেশ, নিষেধ ও বিধানাবলী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা এমন এক প্রজ্ঞা যা আপনার প্রতিপালকই আপনার নিকট ওহী করেছেন। আর হে মানুষ! তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা’বূদ গ্রহণ করো না। ফলে তুমি তিরস্কৃত ও সকল কল্যাণ থেকে বিতাড়িত হয়ে কিয়ামতের দিন জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তোমার অন্তরই তোমাকে তিরস্কার করবে এবং অন্য মানুষও।
أَفَأَصۡفَىٰكُمۡ رَبُّكُم بِٱلۡبَنِينَ وَٱتَّخَذَ مِنَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ إِنَٰثًاۚ إِنَّكُمۡ لَتَقُولُونَ قَوۡلًا عَظِيمٗا 40
৪০. হে মুশরিকরা! তোমরা যারা দাবি করছো যে, ফিরিশতাগণ আল্লাহর মেয়ে। তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদের জন্য ছেলে সন্তান নির্বাচন করেছেন আর নিজের জন্য ফিরিশতাগণকে মেয়ে বানিয়েছেন? আল্লাহ তা‘আলা তাদের দাবি থেকে পূত-পবিত্র। নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে খুবই নিকৃষ্ট কথা বলেছো। কারণ, তোমরা তাঁর সাথে সন্তানকে সম্পৃক্ত করেছো আর কুফরির গভীরে গিয়ে তাঁর ব্যাপারে এ ধারণাও করছো যে, তাঁর কন্যা সন্তান রয়েছে।
وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَا فِي هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ لِيَذَّكَّرُواْ وَمَا يَزِيدُهُمۡ إِلَّا نُفُورٗا 41
৪১. আমি এ কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ধরনের বিধান, উপদেশ ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি যাতে মানুষ সেগুলো দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করে নিজেদের জন্য যা লাভজনক সে পথে চলতে ও ক্ষতিকর পথ পরিত্যাগ করতে পারে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো এই যে, যাদের মূল মানবপ্রকৃতি নষ্ট হয়ে গেছে তারা সেটিকে অপছন্দ করছে এবং সত্য থেকে আরো বহু দূরে সরে যাচ্ছে।
قُل لَّوۡ كَانَ مَعَهُۥٓ ءَالِهَةٞ كَمَا يَقُولُونَ إِذٗا لَّٱبۡتَغَوۡاْ إِلَىٰ ذِي ٱلۡعَرۡشِ سَبِيلٗا 42
৪২. হে রাসূল! আপনি এ মুশরিকদেরকে বলে দিন: যদি আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা’বূদ থাকতো -যেমনিভাবে তারা তাঁর উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে- তাহলে সেই তথাকথিত মা’বূদগুলো আরশের মালিক আল্লাহর ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য যে কোন পথ বের করে সে ব্যাপারে তাঁর সাথে ঝগড়া করতো।
سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوّٗا كَبِيرٗا 43
৪৩. মুশরিকরা যা দ্বারা আল্লাহকে বিশেষিত করছে তিনি তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র এবং তারা তাঁর ব্যাপারে যা বলছে তা থেকেও তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
تُسَبِّحُ لَهُ ٱلسَّمَٰوَٰتُ ٱلسَّبۡعُ وَٱلۡأَرۡضُ وَمَن فِيهِنَّۚ وَإِن مِّن شَيۡءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمۡدِهِۦ وَلَٰكِن لَّا تَفۡقَهُونَ تَسۡبِيحَهُمۡۚ إِنَّهُۥ كَانَ حَلِيمًا غَفُورٗا 44
৪৪. আকাশ, জমিন ও সেগুলোর মাঝে যে সৃষ্টিরাজি রয়েছে তারা সবাই আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে। এমনকি দুনিয়ার সবকিছুই তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে। তবে তোমরা তাদের পবিত্রতা বর্ণনার ধরন সম্পর্কে কিছুই বুঝো না। তোমরা শুধু নিজেদের ভাষায় পবিত্রতা বর্ণনার ধরন বুঝো। বস্তুতঃ তিনি পরম ধৈর্যশীল। তিনি দ্রুত কাউকে শাস্তি দেন না এবং তাওবাকারীদের প্রতি তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
وَإِذَا قَرَأۡتَ ٱلۡقُرۡءَانَ جَعَلۡنَا بَيۡنَكَ وَبَيۡنَ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ حِجَابٗا مَّسۡتُورٗا 45
৪৫. হে রাসূল! আপনি যখন কুরআন পড়েন এবং তারা তাতে থাকা উপদেশ ও ধমকের বাণী শুনতে পায় তখন আমি আপনার ও তাদের -কিয়ামতের দিবসে অবিশ্বাসীদের- মাঝে একটি গোপন পর্দা টেনে দেই যাতে তারা কুরআন বুঝতে না পারে। মূলতঃ তা তাদের সত্যবিমুখতার শাস্তিস্বরূপ।
وَجَعَلۡنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ أَكِنَّةً أَن يَفۡقَهُوهُ وَفِيٓ ءَاذَانِهِمۡ وَقۡرٗاۚ وَإِذَا ذَكَرۡتَ رَبَّكَ فِي ٱلۡقُرۡءَانِ وَحۡدَهُۥ وَلَّوۡاْ عَلَىٰٓ أَدۡبَٰرِهِمۡ نُفُورٗا 46
৪৬. আর তাদের অন্তরের উপর এক আবরণ দিয়ে দেই যাতে তারা কুরআন বুঝতে না পারে। উপরন্তু তাদের কানগুলোকে ভারী করে দেই যাতে তারা লাভজনক কোন কিছু শুনতে না পায়। আর আপনি যখন কুরআনে এককভাবে আপনার প্রতিপালকের কথা উল্লেখ করেন এবং তাদের তথাকথিত মা’বূদগুলোর কথা উল্লেখ করেন না তখন তারা আল্লাহর জন্য নির্ভেজাল তাওহীদ সাব্যস্ত না করে বরং পশ্চাতে ফিরে যায়।
نَّحۡنُ أَعۡلَمُ بِمَا يَسۡتَمِعُونَ بِهِۦٓ إِذۡ يَسۡتَمِعُونَ إِلَيۡكَ وَإِذۡ هُمۡ نَجۡوَىٰٓ إِذۡ يَقُولُ ٱلظَّٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلٗا مَّسۡحُورًا 47
৪৭. আমি জানি তাদের নেতৃস্থানীয়দের কুরআন শুনার পদ্ধতি। তারা মূলতঃ তা কর্তৃক হিদায়েত পেতে চায় না। বরং তারা আপনার পড়ার সময় অযথা কর্ম ও অবহেলা দেখাতে চায়। আমি জানি তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ ও তা থেকে মানুষকে দূরে সরানোর সলা-পরামর্শ করে। যখন এ যালিম কাফিররা বলে: হে মানুষ! তোমরা এ পাগল যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির অনুসরণ করো না।
ٱنظُرۡ كَيۡفَ ضَرَبُواْ لَكَ ٱلۡأَمۡثَالَ فَضَلُّواْ فَلَا يَسۡتَطِيعُونَ سَبِيلٗا 48
৪৮. হে রাসূল! আপনি একটু চিন্তা করলে সেই বিভিন্ন ধরনের নিন্দিত বিশেষণগুলো শুনে আশ্চর্য হবেন যেগুলো দ্বারা তারা আপনাকে বিশেষায়িত করছে। তারা মূলতঃ সত্যভ্রষ্ট হয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে। তাই তারা সত্য পথের দিশা পাচ্ছে না।
وَقَالُوٓاْ أَءِذَا كُنَّا عِظَٰمٗا وَرُفَٰتًا أَءِنَّا لَمَبۡعُوثُونَ خَلۡقٗا جَدِيدٗا 49
৪৯. মুশরিকরা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে বলে: আমরা যখন মরে হাড্ডিসার হয়ে যাবো এবং আমাদের শরীরগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখনো কি আমরা নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরোত্থিত হবো? এটি আসলেই অসম্ভব।
ক. ফিরিশতাগণ আল্লাহর মেয়ে বলে ধারণা করা সত্যিই একটি মারাত্মক অপবাদ। উপরন্তু তা আল্লাহর নিকট ক্ষমার অযোগ্য এক মহাপাপ।
খ. আল্লাহর আয়াতসমূহ অধিকাংশ মানুষকে আরো বেশি পলায়নপর করে। কারণ, তারা সত্যকে ঘৃণা করে এবং তাদের পুরনো বাতুলতাকেই পছন্দ করে।
গ. আকাশ ও জমিনের সকল সৃষ্টি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে। তাই একজন বান্দার উচিত অন্যান্য সৃষ্টি যেন পবিত্রতা বর্ণনার ক্ষেত্রে তার থেকে অগ্রগামী না হয়ে যায়।
ঘ. বান্দাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর ধৈর্যের একটি নমুনা এই যে, তিনি তাদের গাফিলতি ও অপকর্মের জন্য তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেন না। মূলতঃ তাঁর রহমত তাঁর গযবের চেয়ে অনেক অগ্রসর।