أَمۡ تَأۡمُرُهُمۡ أَحۡلَٰمُهُم بِهَٰذَآۚ أَمۡ هُمۡ قَوۡمٞ طَاغُونَ 32
৩২. তাদের বিবেক কি তাদেরকে এ নির্দেশ করে যে, তারা তাঁকে গণক ও পাগল বলবে?! এতে করে তারা একই ব্যক্তির মাঝে এমন সব বৈশিষ্ট্যের সমাহার ঘটায় যা আদৌ সম্ভব নয়। বরং এ সব জাতি হলো সীমালঙ্ঘনকারী। ফলে তারা না বিবেকের শরণাপন্ন হয়। না শরীয়তের।
أَمۡ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُۥۚ بَل لَّا يُؤۡمِنُونَ 33
৩৩. না কি তারা বলে যে, মুহাম্মাদ এই কুরআন নিজে বানিয়েছেন। এটি তাঁর উপর ওহী করা হয়নি?! আসলে তিনি তা বানান নি। বরং তারা তাঁর উপর ঈমান আনয়নে অহংকারী। তাই তারা বলে যে, তিনি এটি বানিয়েছেন।
فَلۡيَأۡتُواْ بِحَدِيثٖ مِّثۡلِهِۦٓ إِن كَانُواْ صَٰدِقِينَ 34
৩৪. তারা যে দাবি করে যে, এটি তাঁর বানানো। উক্ত দাবিতে তারা সত্যবাদী হয়ে থাকলে তারা যেন এমন একটি বাণী নিয়ে আসে।
أَمۡ خُلِقُواْ مِنۡ غَيۡرِ شَيۡءٍ أَمۡ هُمُ ٱلۡخَٰلِقُونَ 35
৩৫. তারা কি কোনরূপ সৃষ্টিকারী স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্ট?! না কি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?! বস্তুতঃ কোন সৃষ্টির অস্তিত্ব স্রষ্টা ব্যতীত অসম্ভব। আর না কোন মাখলুক নিজকে সৃষ্টি করতে পারে। তাই তারা কেন নিজেদের স্রষ্টার ইবাদত করে না?!
أَمۡ خَلَقُواْ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۚ بَل لَّا يُوقِنُونَ 36
৩৬. না কি তারা আসমান ও জমিনসমূহ সৃষ্টি করেছে?! বরং তারা এ কথারই বিশ্বাস রাখে না যে, আল্লাহই তাদের স্রষ্টা। কেননা, তারা যদি এ কথার বিশ্বাস রাখতো তাহলে তারা অবশ্যই তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস করতো এবং তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনতো।
أَمۡ عِندَهُمۡ خَزَآئِنُ رَبِّكَ أَمۡ هُمُ ٱلۡمُصَۜيۡطِرُونَ 37
৩৭. না কি তাদের নিকট তোমার রবের রিযিকের ভাণ্ডার রয়েছে, ফলে তারা যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করবে, এবং নবুওয়ত প্রদানের ক্ষমতা আছে, যাকে ইচ্ছা তা দান করবে আর যার থেকে ইচ্ছা তা বারণ করবে?! না কি তারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ও তসরুপকারী?!
أَمۡ لَهُمۡ سُلَّمٞ يَسۡتَمِعُونَ فِيهِۖ فَلۡيَأۡتِ مُسۡتَمِعُهُم بِسُلۡطَٰنٖ مُّبِينٍ 38
৩৮. না কি তাদের এমন কোন সিঁড়ি রয়েছে যাতে আরোহন করে তারা আল্লাহর এমন ওহী শ্রবণ করে যে, তারা হকের উপর রয়েছে?! অতএব, যে এ জাতীয় ওহী শ্রবণ করেছে সে যেন এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসে যদ্বারা তাদের হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কথা সাব্যস্ত হয়।
أَمۡ لَهُ ٱلۡبَنَٰتُ وَلَكُمُ ٱلۡبَنُونَ 39
৩৯. না কি আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান। যাদেরকে তোমরা নিজেদের জন্য অপছন্দ করো। আর তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান। যাদেরকে তোমরা নিজেদের জন্য পছন্দ করো?!
أَمۡ تَسَۡٔلُهُمۡ أَجۡرٗا فَهُم مِّن مَّغۡرَمٖ مُّثۡقَلُونَ 40
৪০. না কি হে রাসূল! আপনি নিজ রবের বার্তা পৌঁছে দেয়ার ভিত্তিতে তাদের নিকট প্রতিদান কামনা করেন?! যার ফলে তাদের উপর অসহনীয় বোঝা চেপে বসে।
أَمۡ عِندَهُمُ ٱلۡغَيۡبُ فَهُمۡ يَكۡتُبُونَ 41
৪১. না কি তাদের নিকট গায়েবের জ্ঞান রয়েছে, ফলে তারা মানুষের জন্য গায়েবের বিষয়ে অবগত কথাগুলো লিপিবদ্ধ করে এবং তাদেরকে তা থেকে যা ইচ্ছা সে ব্যাপারে সংবাদ পরিবেশন করে?!
أَمۡ يُرِيدُونَ كَيۡدٗاۖ فَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ هُمُ ٱلۡمَكِيدُونَ 42
৪২. না কি এসব মিথ্যারোপকারী আপনার ও আপনার দ্বীনের সাথে প্রতারণা করতে চায়?! অতএব, আপনি আল্লাহর উপর এ ব্যাপারে আস্থা রাখুন যে, যারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের সাথে কুফরী করে তারাই মূলতঃ প্রতারণার বদলার শিকার; আপনি নন।
أَمۡ لَهُمۡ إِلَٰهٌ غَيۡرُ ٱللَّهِۚ سُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشۡرِكُونَ 43
৪৩. না কি আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সত্যিকার মাবূদ রয়েছে?! আল্লাহ তাদের কর্তৃক তাঁর প্রতি অংশীদারের সম্বন্ধ থেকে পূত-পবিত্র। বস্তুতঃ উপরোক্ত কোন কিছুই সংঘটিত হয়নি। আর না এ সবের কোন চিন্তা করা যায়।
وَإِن يَرَوۡاْ كِسۡفٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ سَاقِطٗا يَقُولُواْ سَحَابٞ مَّرۡكُومٞ 44
৪৪. তারা যদি আসমান থেকে কোন টুকরো পড়তে দেখে তবুও তারা এ সম্পর্কে বলবে যে, এটি বরাবরের মতো উপর-নিচ হয়ে ঘনীভূত মেঘমালা। ফলে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে না। আর না তারা ঈমান আনয়ন করবে।
فَذَرۡهُمۡ حَتَّىٰ يُلَٰقُواْ يَوۡمَهُمُ ٱلَّذِي فِيهِ يُصۡعَقُونَ 45
৪৫. অতএব, হে রাসূল! আপনি তাদেরকে নিজেদের গোঁড়ামী ও অস্বীকারের মধ্যে ফেলে রাখুন। অবশেষে তারা নিজেদের শাস্তির দিনে মিলিত হবে। যা হলো কিয়ামতের দিন।
يَوۡمَ لَا يُغۡنِي عَنۡهُمۡ كَيۡدُهُمۡ شَيۡٔٗا وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ 46
৪৬. যে দিন তাদের কোন দুরভিসন্ধি কাজে আসবে না। না কম, না বেশী। আর না তাদেরকে শাস্তি থেকে মুক্তি প্রদানের মাধ্যমে কোন সাহায্য করা হবে।
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُواْ عَذَابٗا دُونَ ذَٰلِكَ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ 47
৪৭. যারা শিরক ও কুফরীর মাধ্যমে নিজেদের নফসের উপর অবিচার করেছে তাদের জন্য পরকালের পূর্বে দুনিয়াতেই হত্যা ও বন্দি হওয়ার মাধ্যমে শাস্তি রয়েছে। আর বারযাখে রয়েছে কবরের শাস্তি। তবে বেশীর ভাগ মানুষই তা জানে না। ফলে তারা নিজেদের কুফরীর উপর অটল থাকে।
আল্লাহ যখন মুশরিকদের মতাদর্শ বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন তখন তিনি তাঁর রাসূলকে তাদের ব্যাপারে বেপরওয়া থাকার ও তাদের মিথ্যারোপে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ প্রদান করে বলেন:
وَٱصۡبِرۡ لِحُكۡمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعۡيُنِنَاۖ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ 48
৪৮. হে রাসূল! আপনি নিজ প্রতিপালকের ফয়সালা ও তাঁর শরয়ী বিধানের উপর ধৈর্য ধারণ করুন। কেননা, আপনি আমার পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণে রয়েছেন। আর আপনি নিজ ঘুম থেকে গাত্রোত্থানের সময় নিজ প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করুন।
وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَسَبِّحۡهُ وَإِدۡبَٰرَ ٱلنُّجُومِ 49
৪৯. আর রাতের কিছু অংশে আপনি নিজ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন। আর দিবস আগমনের সময় তারকারাজির অবসানের পর ফজরের নামায পড়ুন।
ক. অবাধ্যতা ভ্রষ্টতার এটি কারণ।
খ. দ্বীনের প্রকৃত রূপ সাব্যস্ত করতে বিবেক ভিত্তিক বাক-বিতণ্ডা।
গ. কবরের শাস্তি সুসাব্যস্ত।