দীর্ঘ কাল অবিবাহিত থাকা যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার একটি বিশেষ কারণ তখন আল্লাহ তা‘আলা সংশ্লিষ্টদেরকে অবিবাহিতদের বিবাহের কাজে সহযোগিতা করার আদেশ দিয়ে বলেন:
وَأَنكِحُواْ ٱلۡأَيَٰمَىٰ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰلِحِينَ مِنۡ عِبَادِكُمۡ وَإِمَآئِكُمۡۚ إِن يَكُونُواْ فُقَرَآءَ يُغۡنِهِمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ 32
৩২. হে মু’মিনরা! তোমরা এমন পুরুষদের বিবাহের ব্যবস্থা করো যাদের স্ত্রী নেই এবং এমন স্বাধীন মেয়েদেরও বিবাহের ব্যবস্থা করো যাদের স্বামী নেই। উপরন্তু তোমাদের মধ্যকার মু’মিন গোলাম-বান্দীদেরও বিবাহের ব্যবস্থা করো। তারা যদি গরিব হয় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা নিজ বিস্তর অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়ে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা প্রচুর রিযিকদাতা। তাঁর রিযিক কাউকে স্বচ্ছল না করে পারে না। তিনি তাঁর বান্দাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানেন।
যখন আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে অবিবাহিতদের বিবাহের ব্যবস্থা করার আদেশ করেছেন তখন তিনি খোদ অবিবাহিতদেরকেও যদি তার নিকট বিবাহের কোন সরঞ্জাম না থাকে সংযম অবলম্বনের আদেশ করেন। তিনি বলেন:
وَلۡيَسۡتَعۡفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغۡنِيَهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦۗ وَٱلَّذِينَ يَبۡتَغُونَ ٱلۡكِتَٰبَ مِمَّا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡ فَكَاتِبُوهُمۡ إِنۡ عَلِمۡتُمۡ فِيهِمۡ خَيۡرٗاۖ وَءَاتُوهُم مِّن مَّالِ ٱللَّهِ ٱلَّذِيٓ ءَاتَىٰكُمۡۚ وَلَا تُكۡرِهُواْ فَتَيَٰتِكُمۡ عَلَى ٱلۡبِغَآءِ إِنۡ أَرَدۡنَ تَحَصُّنٗا لِّتَبۡتَغُواْ عَرَضَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۚ وَمَن يُكۡرِههُّنَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ مِنۢ بَعۡدِ إِكۡرَٰهِهِنَّ غَفُورٞ رَّحِيمٞ 33
৩৩. যারা দরিদ্রতার দরুন বিবাহ করতে অক্ষম তারা যেন ব্যভিচারের ক্ষেত্রে সংযম অবলম্বন করে যতক্ষণ না আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজ বিস্তর দয়ায় তাকে স্বচ্ছল করেন। আর যে গোলামরা তাদের মনিবদের সাথে স্বাধীনতার জন্য সম্পদ হস্তার্পণের লিখিত চুক্তির আবেদন করে তাদের মনিবদের উচিত তাদের এ প্রস্তাব গ্রহণ করা। যদি তারা গোলামদের মাঝে সম্পদ আদায়ের সক্ষমতা এবং ধার্মিকতা দেখতে পায়। আর মনিবরা যেন তাদেরকে আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে দেয় তথা তাদের সাথে কৃত চুক্তির কিয়দংশ যেন তারা ছাড় দেয়। উপরন্তু তোমরা নিজেদের বান্দিদেরকে তাদের লজ্জাস্থানের মাধ্যমে সম্পদ কামানোর জন্য ব্যভিচারে বাধ্য করো না -যা আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই তার দু’ বান্দির সাথে করেছে- যখন তারা অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকতে ও সংযম অবলম্বনের আশা পোষণ করে। তোমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি তাদেরকে এ কাজে বাধ্য করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা এ জবরদস্তির পর তাদের গুনাহগুলো ক্ষমাকারী এবং তাদের প্রতি দয়ালু। কারণ, তারা ছিলো তখন বাধ্য। আর গুনাহ হবে তাদেরকে বাধ্যকারীর উপর।
وَلَقَدۡ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكُمۡ ءَايَٰتٖ مُّبَيِّنَٰتٖ وَمَثَلٗا مِّنَ ٱلَّذِينَ خَلَوۡاْ مِن قَبۡلِكُمۡ وَمَوۡعِظَةٗ لِّلۡمُتَّقِينَ 34
৩৪. হে মানুষ! আমি তোমাদের প্রতি নাযিল করেছি সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ। তেমনিভাবে আমি তোমাদের প্রতি তোমাদের পূর্ববর্তী মু’মিন ও কাফিরদের দৃষ্টান্তও নাযিল করেছি। আরো নাযিল করেছি এমন উপদেশ যা দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করবে এমন লোকেরা যারা নিজেদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করে।
۞ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ مَثَلُ نُورِهِۦ كَمِشۡكَوٰةٖ فِيهَا مِصۡبَاحٌۖ ٱلۡمِصۡبَاحُ فِي زُجَاجَةٍۖ ٱلزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوۡكَبٞ دُرِّيّٞ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٖ مُّبَٰرَكَةٖ زَيۡتُونَةٖ لَّا شَرۡقِيَّةٖ وَلَا غَرۡبِيَّةٖ يَكَادُ زَيۡتُهَا يُضِيٓءُ وَلَوۡ لَمۡ تَمۡسَسۡهُ نَارٞۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٖۚ يَهۡدِي ٱللَّهُ لِنُورِهِۦ مَن يَشَآءُۚ وَيَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡأَمۡثَٰلَ لِلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ 35
৩৫. আল্লাহ হচ্ছেন আকাশ ও জমিনের আলো এবং উভয়ের অধিবাসীদের জন্য পথপ্রদর্শক। একজন মু’মিনের অন্তরে তাঁর আলোর দৃষ্টান্ত হলো জানালাবিহীন দেয়ালের একটি তাক বা প্রদীপদানি। যার ভিতরে রয়েছে একটি প্রদীপ। আর প্রদীপটি হলো একটি চকচকে কাঁচের ভিতরে। কাঁচটি যেন মুক্তার ন্যায় একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। যা প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছে বরকতময় যাইতুন গাছের তেল দিয়ে। যে গাছকে সূর্য থেকে কোন কিছুই লুকিয়ে রাখেনি। না সকালে, না সন্ধ্যায়। যে গাছের তেল পরিচ্ছন্নতার দরুন যেন নিজেই জ্বলছে। যদিও আগুন এখনো তাকে স্পর্শ করেনি। আগুন স্পর্শ করলে তাহলে কেমন হতো?! কাঁচের আলোর উপর আবার প্রদীপের আলো। এভাবেই একজন মু’মিনের অন্তর যখন তাতে হিদায়েতের আলো জ্বলে উঠে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে চান তাকেই কুরআনের অনুসরণের তাওফীক দেন। আল্লাহ তা‘আলা বস্তুগুলোর সদৃশ তথা সেগুলোর দৃষ্টান্ত দিয়েই সেগুলোকে সুস্পষ্ট করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুই জানেন। তাঁর নিকট কোন জিনিস গোপন নয়।
فِي بُيُوتٍ أَذِنَ ٱللَّهُ أَن تُرۡفَعَ وَيُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُۥ يُسَبِّحُ لَهُۥ فِيهَا بِٱلۡغُدُوِّ وَٱلۡأٓصَالِ 36
৩৬. এ প্রদীপটি জ্বালানো হয় সেই মসজিদগুলোতে যেগুলোর নির্মাণ ও সম্মানকে সুউচ্চ করতে এবং সেখানে আযান, যিকির ও সালাতের মাধ্যমে তাঁর নামকে স্মরণ করতে তিনি আদেশ করেন। যেখানে দিনের শুরু ও শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা হয়।
ক. আল্লাহ তা‘আলা যুদ্ধের মাধ্যমে গোলামির উপকরণকে সীমিত পর্যায়ে রেখে স্বাধীনতার উপকরণগুলোকে বিস্তৃত ও তার প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করেছেন।
খ. লিখিত চুক্তির মাধ্যমে গোলামি থেকে মুক্তি এবং গোলামকে স্বাধীন করার জন্য সম্পদের মাধ্যমে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে গোলামরা এমন একটি নিকৃষ্ট শ্রেণীতে রূপান্তরিত না হয় যারা অশ্লীলতার পেশাই চালিয়ে যাবে।
গ. একজন মু’মিনের অন্তর ফিত্বরত তথা সহজাত আলো এবং প্রতিপালক প্রদত্ত হিদায়েতের আলোয় আলোকিত।
ঘ. মসজিদগুলো জমিনে আল্লাহর ঘর যেগুলোকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই সেগুলোকে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নাপাক থেকে দূরে রাখা বাধ্যতামূলক।
ঙ. আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর একটি হলো নূর। যা তাঁর আলোর গুণটিকেও শামিল করে।