ٱلَّذِيٓ أَنقَضَ ظَهۡرَكَ 3
৩. যা আপনাকে এতোটা ক্লান্ত করলো যে, আপনার মেরুদণ্ডকে ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম হয়েছে।
وَرَفَعۡنَا لَكَ ذِكۡرَكَ 4
৪. আমি আপনার খ্যাতিকে সুউচ্চ করেছি। যার ফলে আপনার নাম আযান, ইকামত ইত্যাদিতে উল্লেখ হয়ে থাকে।
فَإِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرًا 5
৫. নিশ্চয়ই কাঠিন্য ও সঙ্কীর্ণতার সাথে রয়েছে সহজতা, প্রশস্ততা ও মুক্তি।
إِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرٗا 6
৬. নিশ্চয়ই কাঠিন্য ও সঙ্কীর্ণতার সাথে রয়েছে সহজতা, প্রশস্ততা ও মুক্তি।
فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ 7
যখন এ কথা জানা হয়ে গেলো তখন আপনার সম্প্রদায়ের কষ্ট দেয়া যেন আর আপনাকে ঘাবড়িয়ে না তোলে এবং আপনাকে নিজ প্রতিপালকের দ্বীনের দাওয়াত থেকে যেন বারণ না করে।
وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب 8
৭. অতঃপর যখন আপনি নিজ কাজ থেকে অবসর হবেন তখন আপনার প্রতিপালকের ইবাদতে নিমগ্ন হোন।
سورة মাক্কী
মানুষের সহজাত স্বভাব ও তার সৃষ্টিকে সঠিক বানানো ও সর্বশেষ রিসালাতের পরিপূর্ণতা দানের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহের বিবরণ।
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيۡتُونِ 1
১. আল্লাহ শপথ করলেন ডুমুর ও তা উৎপন্ন হওয়ার স্থানের। আরো শপথ করলেন যায়তুন ও তা উৎপন্ন হওয়ার স্থানের। যা ফিলিস্তিনের ভূমিতে। যথায় আবির্ভূত হয়েছেন ঈসা (আলাইহিস-সালাম)।
وَطُورِ سِينِينَ 2
২. তিনি শপথ করলেন সাইনা পাহাড়ের। যথায় তিনি তাঁর নবী মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে সংলাপ করেন।
وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ 3
৩. তিনি শপথ করলেন সম্মানিত নগরী মক্কার। যথায় কেউ প্রবেশ করলে সে নিরাপদ হয়ে যায়। যথায় আবির্ভূত হয়েছেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
لَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ فِيٓ أَحۡسَنِ تَقۡوِيمٖ 4
৪. নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মানানসই গঠনে ও সুন্দরতম সৌষ্ঠবে।
ثُمَّ رَدَدۡنَٰهُ أَسۡفَلَ سَٰفِلِينَ 5
৫. অতঃপর আমি তাকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দিয়েছি বার্ধক্য ও হীনতার দিকে। ফলে সে তার শরীর দিয়ে কোনরূপ উপকার লাভ করতে পারে না। তেমনিভাবে তার স্বভাব বিকৃত হয়ে গেলে এবং সে জাহান্নামে চলে গেলেও তা দিয়ে কোনরূপ উপকার লাভ করতে পারবে না।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَلَهُمۡ أَجۡرٌ غَيۡرُ مَمۡنُونٖ 6
৬. তবে যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারা যদিও বৃদ্ধ হয় তবুও তাদের জন্য রয়েছে অবারিত প্রতিদান তথা জান্নাত। কেননা, তারা নিজেদের আত্মাকে পরিচ্ছন্ন করেছে।
فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعۡدُ بِٱلدِّينِ 7
৭. হে মানুষ! তুমি তাঁর এতো সব ক্ষমতার নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করার পরও কোন্ বস্তু তোমাকে প্রতিদান দিবস সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে?!
أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِأَحۡكَمِ ٱلۡحَٰكِمِينَ 8
৮. আল্লাহ কি কিয়ামত দিবসকে প্রতিদান দিবস হিসাবে নির্ধারণ করে সর্বাপেক্ষা বড় প্রজ্ঞাবান ও ইনসাফপরায়ণের কাজ করেননি?! এ কথা কি বিবেক সম্মত যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে কোনরূপ বিচার ব্যতিরেকেই অযথা ছেড়ে দিবেন?! ফলে তিনি উত্তম আমলকারীকে উত্তম প্রতিদান আর মন্দ আমলকারীকে মন্দ প্রতিদান দিবেন না?!
سورة মাক্কী
ওহীর মাধ্যমেই মানুষের হিদায়েত এবং অহঙ্কার ও মূর্খতার মাঝেই তার ভ্রষ্টতা।
ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ 1
১. হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক আপনার প্রতি যা ওহী করেন আপনি তা পাঠ করুন সেই রবের নামে শুরু করার মাধ্যমে যিনি কুল মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন।
خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ مِنۡ عَلَقٍ 2
২. তিনি মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন যা একদা বীর্য ছিলো।
ٱقۡرَأۡ وَرَبُّكَ ٱلۡأَكۡرَمُ 3
৩. হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক আপনার প্রতি যা ওহী করেন আপনি তা পাঠ করুন। বস্তুতঃ আপনার প্রতিপালক মহা দানবীর; যাঁর বদান্যতার সাথে কোন বদান্যের বদান্যতার তুলনা হয় না। তিনি পর্যাপ্ত উদার ও অনুগ্রহশীল।
ٱلَّذِي عَلَّمَ بِٱلۡقَلَمِ 4
৪. তিনি কলমের সাহায্যে অঙ্কন ও লিখা শিখিয়েছেন।
عَلَّمَ ٱلۡإِنسَٰنَ مَا لَمۡ يَعۡلَمۡ 5
৫. তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানতো না।
كَلَّآ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَيَطۡغَىٰٓ 6
৬. নিশ্চয়ই পাপিষ্ঠ মানুষ যেমন আবু জাহল আল্লাহর সীমালঙ্ঘনে সীমাহীন।
أَن رَّءَاهُ ٱسۡتَغۡنَىٰٓ 7
৭. কারণ এই যে, সে তার সম্পদ ও মর্যাদা দেখে নিজেকে বেপরওয়া মনে করে।
إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلرُّجۡعَىٰٓ 8
৮. হে মানুষ! নিশ্চয়ই তুমি নিজ প্রতিপালকের দিকে কিয়ামত দিবসে প্রত্যাবর্তিত হবে। তখন তিনি সবাইকে যার যার আমলের উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন।
أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يَنۡهَىٰ 9
৯. তুমি কি আবু জাহলের কর্মকাণ্ড অপেক্ষা কোন আশ্চর্যজনক কিছু দেখেছো? যে বারণ করে।
عَبۡدًا إِذَا صَلَّىٰٓ 10
১০. আমার বান্দা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নামায থেকে। সে বারণ করে যখন তিনি কাবার পাদদেশে নামায পড়তে শুরু করেন।
أَرَءَيۡتَ إِن كَانَ عَلَى ٱلۡهُدَىٰٓ 11
১১. তুমি কি লক্ষ্য করেছো, যদি এ বারণকৃত তাঁর রব কর্তৃক হিদায়েত ও সম্যক জ্ঞানের উপর থাকে?!
أَوۡ أَمَرَ بِٱلتَّقۡوَىٰٓ 12
১২. কিংবা মানুষকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে তাক্বওয়ার নির্দেশ দেয় তাহলে কি এমন আদর্শের মানুষকে বারণ করা যায়?!
ক. আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্মরণকে উঁচু করার মাধ্যমেই তাঁকে সম্মানিত করেন।
খ. আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো সর্বাপেক্ষা মহৎ উদ্দেশ্য।
গ. ইসলামে পড়া-লেখার গুরুত্ব।
ঘ. যে ধনাঢ্যতা অহঙ্কার শিখায় ও সত্য থেকে বারণ করে তা ভয়াবহ।
ঙ. ন্যায়ের পথে বাধা দেয়া একটি কুফরি কাজ।