وَٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيۡكُمۡ وَيُرِيدُ ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلشَّهَوَٰتِ أَن تَمِيلُواْ مَيۡلًا عَظِيمٗا 27
২৭. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের তাওবা কবুল ও তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে চান। আর যারা নিজেদের ভোগ-বিলাসের পেছনে ঘুরে বেড়ায় তারা চায় তোমরা যেন সঠিকতার পথ ছেড়ে অনেক দূরে সরে যাও।
يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُخَفِّفَ عَنكُمۡۚ وَخُلِقَ ٱلۡإِنسَٰنُ ضَعِيفٗا 28
২৮. আল্লাহ তা‘আলা শরীয়তের বিধানাবলীকে তোমাদের উপর হালকা করতে চান। তাই তিনি তোমাদেরকে তোমাদের সাধ্যাতীত কোন কিছু করতে বাধ্য করেন না। কারণ, তিনি মানুষের গঠন ও চরিত্রের দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا 29
২৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমাদের কেউ যেন বাতিল পন্থায় অন্যের সম্পদ গ্রাস না করে। যেমন: ঘুষ, চুরি, অপহরণ ইত্যাদি। তবে চুক্তিবদ্ধ উভয় পক্ষের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে অর্জিত ব্যবসার সম্পদ তোমাদের জন্য খাওয়া ও খরচ করা বৈধ। তোমাদের কেউ যেন অন্যকে হত্যা না করে আর না সে আত্মহত্যা ও নিজকে ধ্বংসের সম্মুখীন করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের প্রতি দয়াশীল। তাঁর দয়ার কারণেই তিনি তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত অন্যের উপর হারাম করে দিয়েছেন।
وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ عُدۡوَٰنٗا وَظُلۡمٗا فَسَوۡفَ نُصۡلِيهِ نَارٗاۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرًا 30
৩০. যে ব্যক্তি উক্ত নিষিদ্ধ কর্মগুলো করে তথা অবৈধভাবে অন্যের সম্পদ খায় অথবা হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে তার উপর অত্যাচার করে জেনেশুনে ও অত্যাচারবশত, মূর্খতা কিংবা ভুলবশত নয়, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে কিয়ামতের দিন অচিরেই ভয়ানক আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে তার উত্তপ্ততা অনুভব ও তার শাস্তির কঠোরতা ভোগ করবে। আল্লাহর জন্য এটি খুবই সহজ। কারণ, তিনি এতোই শক্তিশালী যে, কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।
إِن تَجۡتَنِبُواْ كَبَآئِرَ مَا تُنۡهَوۡنَ عَنۡهُ نُكَفِّرۡ عَنكُمۡ سَئَِّاتِكُمۡ وَنُدۡخِلۡكُم مُّدۡخَلٗا كَرِيمٗا 31
৩১. হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা ও সুদ খাওয়ার মতো বড় বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকলে আমি তোমাদের সম্পাদিত ছোট ছোট গুনাহগুলো মুছে ও লুকিয়ে ক্ষমা করে দেবো। উপরন্তু তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট সম্মানজনক জায়গায় প্রবেশ করাবো যা হবে জান্নাত।
وَلَا تَتَمَنَّوۡاْ مَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بِهِۦ بَعۡضَكُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٞ مِّمَّا ٱكۡتَسَبُواْۖ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٞ مِّمَّا ٱكۡتَسَبۡنَۚ وَسَۡٔلُواْ ٱللَّهَ مِن فَضۡلِهِۦٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٗا 32
৩২. হে মু’মিনরা! তোমরা একের উপর অন্যের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারগুলোর আশা ও আকাঙ্ক্ষা করো না। কারণ, তা রাগ ও হিংসার দিকে নিয়ে যায়। তাই কোন মহিলার জন্য উচিত নয় আল্লাহ তা‘আলা পুরুষকে যে বিশেষত্ব দিয়েছেন তার আশা করা। কারণ, প্রত্যেক শ্রেণীর জন্যই তার উপযুক্ত প্রতিদান রয়েছে। বরং তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর বেশি বেশি দান-খয়রাত কামনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুই জানেন। তাই তিনি প্রত্যেক শ্রেণীকে তার উপযুক্ত প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
وَلِكُلّٖ جَعَلۡنَا مَوَٰلِيَ مِمَّا تَرَكَ ٱلۡوَٰلِدَانِ وَٱلۡأَقۡرَبُونَۚ وَٱلَّذِينَ عَقَدَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡ فََٔاتُوهُمۡ نَصِيبَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدًا 33
৩৩. তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি আসাবাহ বা ওয়ারিশ বানিয়েছি। যারা তাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যে মিরাস রেখে গেছে তার ওয়ারিশ হবে। আর যাদের সাথে তোমরা শক্ত অঙ্গীকার করেছো জোটবদ্ধ থাকা ও সহযোগিতার উপর তাদেরকে তাদের মিরাসের অংশটুকু দিয়ে দিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ে সাক্ষী। তোমাদের কসম ও অঙ্গীকারের উপর সাক্ষী থাকা তারই অন্যতম। কারো সাথে জোটবদ্ধ থাকার ভিত্তিতে মিরাস পাওয়া এটি ইসলামের শুরু যুগে ছিলো যা পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে।
ক. আল্লাহর রহমত তাঁর বান্দাদের প্রতি অপরিসীম। তাই তিনি তাদের তাওবা ও তাদের বিধানাবলী হালকা করা পছন্দ করেন। আর কুপ্রবৃত্তির অনুসারীরা তাদেরকে হিদায়েতের পথ থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
খ. মূলতঃ শরীয়ত মানুষের অধিকারসমূহ রক্ষা করেছে। তাই এটি মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের উপর আক্রমণ করা হারাম করে দিয়েছে এবং তার উপর কঠিন শাস্তিও আরোপ করেছে।
গ. বড় বড় পাপ থেকে দূরে থাকা জান্নাতে প্রবেশ ও ছোট ছোট গুনাহগুলো ক্ষমার কারণ হয়ে থাকে।
ঘ. আল্লাহর বন্টনে সন্তুষ্ট থাকা এবং মানুষের হাতে থাকা সম্পদের প্রতি লালায়িত না হওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আল্লাহর তাকদীরের উপর অসন্তুষ্টি ও হিংসা থেকে দূরে রাখে।