وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنۡهَا مِن ثَمَرَةٖ رِّزۡقٗا قَالُواْ هَٰذَا ٱلَّذِي رُزِقۡنَا مِن قَبۡلُۖ وَأُتُواْ بِهِۦ مُتَشَٰبِهٗاۖ وَلَهُمۡ فِيهَآ أَزۡوَٰجٞ مُّطَهَّرَةٞۖ وَهُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ 25
২৫. পূর্ববর্তী আয়াতে কাফিরদের প্রতি ধমক ও শাস্তির বর্ণনার পর এখানে মু’মিনদের পুরস্কারের ঘোষণা দিতে গিয়ে বলা হলো: হে নবী! আপনি সুসংবাদ দিন সেই মু’মিনদেরকে যারা নেক আমল করে। তাদেরকে এমন জান্নাত দিয়ে খুশি করানো হবে যার গাছ ও অট্টালিকার তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত হয়। যখন তাদেরকে সেখানকার পবিত্র ফলগুলো থেকে কিছু রিযিক হিসেবে দেয়া হবে তখন তারা দুনিয়ার ফলের সাথে অতি সাদৃশ্যের দরুন এ কথা বলে উঠবে: এগুলো তো সেগুলোর ন্যায় যেগুলো আমাদেরকে ইতোপূর্বে রিযিক হিসেবে দেয়া হয়েছে। বস্তুতঃ তাদেরকে সেই ফলগুলোই দেয়া হয়েছে যেগুলোর সাথে দুনিয়ার ফলগুলোর নাম ও বর্ণে হুবহু মিল রয়েছে। যাতে তারা পূর্ব থেকে চিনেই সেগুলো গ্রহণ করতে পারে। তবে সেগুলোর স্বাদ ও মজা ভিন্ন হবে। উপরন্তু তাদের জন্য জান্নাতে রয়েছে পূতপবিত্র স্ত্রীগণ। যারা এমন সকল দোষ থেকে পবিত্র যেগুলোকে মানুষ এমনিতেই ঘৃণা করে এবং দুনিয়ার স্ত্রীদের মাঝে যেগুলোকে বিশ্রী বলেই ধারণা করা হয়। তারা সেখানে চিরস্থায়ী নিয়ামতের মাঝে থাকবে; যা কখনো শেষ হবে না। তা দুনিয়ার নিয়ামতের মতো নয়, যা একদিন ফুরিয়ে যাবে।
۞إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَسۡتَحۡيِۦٓ أَن يَضۡرِبَ مَثَلٗا مَّا بَعُوضَةٗ فَمَا فَوۡقَهَاۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ فَيَعۡلَمُونَ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّهِمۡۖ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فَيَقُولُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلٗاۘ يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرٗا وَيَهۡدِي بِهِۦ كَثِيرٗاۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلۡفَٰسِقِينَ 26
২৬. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা যে কোন ধরনের দৃষ্টান্ত দিতে লজ্জাবোধ করেন না। তিনি কখনো মশার দৃষ্টান্তও দেন। তেমনিভাবে তার চেয়ে আরো বড় কিংবা ছোট কোন কিছুর। আর মানুষজন এ ব্যাপারে দু’ প্রকার: কেউ মু’মিন আবার কেউ কাফির। যারা মু’মিন তারা বিশ্বাস করে এবং এ কথা বলে যে, এ দৃষ্টান্তের পেছনে অবশ্যই আল্লাহর কিছু হিকমত রয়েছে। আর কাফিররা ঠাট্টাচ্ছলে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করে যে, আল্লাহ তা‘আলার এ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণীগুলো যেমন: মশা, মাছি, মাকড়শা ইত্যাদি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেয়ার মানে কী? তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর আসে। এ দৃষ্টান্তগুলোর মাঝে অনেক ধরনের হিদায়েত ও উপদেশ বাণী নিহিত রয়েছে। উপরন্তু তাতে রয়েছে মানুষের জন্য পরীক্ষা। বস্তুতঃ তাদের মাঝে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এ দৃষ্টান্তগুলোর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করেন। কারণ, তারা এগুলোকে নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করা থেকে নিজেদের মুখ ফিরিয়ে নেয়। মূলতঃ তাদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আবার মানুষের মাঝে এমন কিছু লোকও রয়েছে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এগুলোর মাধ্যমে হিদায়েত দিয়ে থাকেন। কারণ, তারা এগুলোর মাধ্যমে সঠিক উপদেশটি গ্রহণ করে থাকে। তারাও সংখ্যায় কম নয়। তবে আল্লাহ তা‘আলা এগুলোর মাধ্যমে তাদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন যারা এর উপযুক্ত। আর তারা হলো যারা তাঁর আনুগত্যের বাইরে। যেমন: মুনাফিকরা।
ٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهۡدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعۡدِ مِيثَٰقِهِۦ وَيَقۡطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ 27
২৭. যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সুদৃঢ় করার পর ভঙ্গ করে। যেমন: একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং সে রাসূলের অনুসরণ করা যার সংবাদ ইতোপূর্বে অন্যান্য রাসূলগণ দিয়েছেন। আর যারা এমন সম্পর্ককে নষ্ট করে যা রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা আদেশ করেছেন। যেমন: আত্মীয়তার বন্ধন। আর যারা অন্যায়-অবিচারের মাধ্যমে জমিনে ফাসাদ বিস্তারের প্রচেষ্টা চালায়। মূলতঃ তারাই দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভাগা।
كَيۡفَ تَكۡفُرُونَ بِٱللَّهِ وَكُنتُمۡ أَمۡوَٰتٗا فَأَحۡيَٰكُمۡۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمۡ ثُمَّ يُحۡيِيكُمۡ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ 28
২৮. হে কাফিররা! তোমাদের ব্যাপারটি খুবই আশ্চর্যজনক। তোমরা কীভাবে আল্লাহর সাথে কুফরি করছো? অথচ তোমরা তাঁর শক্তিমত্তার নিশানাসমূহ তোমাদের নিজেদের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছো। তোমরা তো একদা কিছুই ছিলে না। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। এরপর তিনি আবারো তোমাদেরকে মৃত্যু দিবেন। অতঃপর তিনি আবারো তোমাদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি তোমাদের কর্মকাণ্ড হিসাব নেয়ার জন্য তোমাদেরকে অবশেষে তাঁর কাছেই ফিরিয়ে আনবেন।
هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗا ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّىٰهُنَّ سَبۡعَ سَمَٰوَٰتٖۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ 29
২৯. আল্লাহ তা‘আলা এককভাবেই তোমাদের জন্য দুনিয়ার সবকিছু তৈরি করেছেন। যেমন: নদ-নদী, গাছপালা ইত্যাদি। যা কখনো গুনে শেষ করা যাবে না। এসবকিছু দ্বারা তোমরা সর্বদা উপকৃত হচ্ছো। বস্তুতঃ তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন। ফলে তোমরা সেসব নিজেদের কাজে লাগাতে পারছো। অতঃপর তিনি আকাশ সৃষ্টির ইচ্ছা পোষণ করে সেখানে সুদৃঢ় সাতটি আকাশ সৃষ্টি করলেন। উপরন্তু তাঁর জ্ঞান সবকিছুকেই বেষ্টন করে আছে।
ক. জান্নাতের নিয়ামতের পরিপূর্ণতা হলো এর স্বাদগুলোকে কোন কিছু বিস্বাদ করে দিতে পারে না এবং এতে কষ্টদায়ক কিছুই থাকবে না।
খ. আল্লাহ তা‘আলা যে দৃষ্টান্তগুলো উপস্থাপন করেছেন তা দ্বারা কেবল মু’মিনরাই লাভবান হবে। কারণ, তারাই সত্যিকারভাবে হিদায়েত কামনা করে এবং সত্যিকারার্থে তারাই তা অনুসন্ধান করে।
গ. ফাসিকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর সৃষ্টির সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করা। আল্লাহ তা‘আলা যাদের সাথে সম্পর্ক করার আদেশ করেছেন তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। উপরন্তু দুনিয়াতে ফাসাদ সৃষ্টির সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো।
ঘ. যে কোন বস্তুর মূল বিধান হলো তা হালাল ও পবিত্র হওয়া। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে এ বলে তাঁর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি তাদের জন্যই দুনিয়ার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।