أَفَمَن شَرَحَ ٱللَّهُ صَدۡرَهُۥ لِلۡإِسۡلَٰمِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٖ مِّن رَّبِّهِۦۚ فَوَيۡلٞ لِّلۡقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكۡرِ ٱللَّهِۚ أُوْلَٰٓئِكَ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ 22
২২. আল্লাহ যার অন্তঃকরণকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করেছেন যার ফলে সে তার সন্ধান লাভ করেছে সে স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সম্যক জ্ঞানের উপর রয়েছে সে কি ওই ব্যক্তির ন্যায় যার অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরূপ হয়েছে?! উভয় ব্যক্তি আদৌ সমান নয়। তাই হেদায়েতপ্রাপ্তদের জন্যই মুক্তি। পক্ষান্তরে ক্ষতি তাদের জন্য যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে রুক্ষ হয়েছে। এরা হলো সত্য থেকে সুস্পষ্ট ভ্রষ্ট।
ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحۡسَنَ ٱلۡحَدِيثِ كِتَٰبٗا مُّتَشَٰبِهٗا مَّثَانِيَ تَقۡشَعِرُّ مِنۡهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخۡشَوۡنَ رَبَّهُمۡ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمۡ وَقُلُوبُهُمۡ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ يَهۡدِي بِهِۦ مَن يَشَآءُۚ وَمَن يُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنۡ هَادٍ 23
২৩. আল্লাহ তদীয় রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর সর্বোত্তম বাণী কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। তিনি একে সত্য, সৌন্দর্য ও সঙ্গতি আর অসঙ্গতি থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন। যা কাহিনী, বিধি-বিধান, সুসংবাদ, দুঃসংবাদ ও হকপন্থী আর বাতিলপন্থী ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রসঙ্গ নিয়ে বক্তব্য পেশ করে। যদ্বারা আল্লাহভীরুদের শরীর শিউরে ওঠে যখন তারা তাতে উল্লেখিত দুঃসংবাদ ও ধমকির কথা শ্রবণ করে। অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয় যখন তাতে বিদ্যমান আশাব্যঞ্জক ও সুসংবাদবাহী কথা শ্রবণ করে। উপরোল্লেখিত কুরআন ও তার প্রভাবের কথা এসব হলো আল্লাহ প্রদত্ত হেদায়েত। যদ্বারা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। পক্ষান্তরে যাকে আল্লাহ অপমান করেন এবং হেদায়েতের তাওফীক থেকে বঞ্চিত রাখেন তার পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই।
أَفَمَن يَتَّقِي بِوَجۡهِهِۦ سُوٓءَ ٱلۡعَذَابِ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَقِيلَ لِلظَّٰلِمِينَ ذُوقُواْ مَا كُنتُمۡ تَكۡسِبُونَ 24
২৪. যাকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছেন এবং দুনিয়াতে তাকে তাওফীক প্রদান ও পরকালে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন সে কি ওই ব্যক্তির ন্যায় যে কুফরীতে লিপ্ত এবং কুফরীর উপরই সে মৃত্যুবরণ করল ফলে তাকে হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি লাগিয়ে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করানো হলো। তখন জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে গেলে সে তার ওই মুখ ব্যতীত আর কিছুই পাবে না যে মুখের উপর তাকে উল্টো করে নিক্ষেপ করা হয়েছে?! আর যারা স্বীয় নফসের উপর কুফরী ও পাপাচারের মাধ্যমে জুলুম করেছে তাদেরকে ধমকির স্বরে বলা হবে, তোমরা নিজেদের কুফরী ও পাপের স্বাদ আস্বাদন করো। এটিই তোমাদের প্রতিদান।
كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ فَأَتَىٰهُمُ ٱلۡعَذَابُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَشۡعُرُونَ 25
২৫. এসব মুশরিকের পূর্বে যে সব জাতি ছিলো তারা মিথ্যারোপ করেছিলো। ফলে আকস্মিকভাবে তাদের নিকট শাস্তি এসে পড়ে যা তারা বুঝতে সক্ষম হয় নি। আর না তারা তাওবার প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হয়েছিলো।
فَأَذَاقَهُمُ ٱللَّهُ ٱلۡخِزۡيَ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَعَذَابُ ٱلۡأٓخِرَةِ أَكۡبَرُۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ 26
২৬. এই শাস্তির মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে অপমান, অপদস্ত এবং গ্লানির স্বাদ আস্বাদন করান। তারা যদি জানতো তবে বুঝতে পারতো যে, পরকালের যে শাস্তি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তা অপেক্ষাকৃত বড় ও কঠোর ।
وَلَقَدۡ ضَرَبۡنَا لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٖ لَّعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ 27
২৭. আর আমি মানুষের উদ্দেশ্যে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর অবতীর্ণ কুরআনে ভাল-মন্দ, সত্য-মিথ্যা এবং ঈমান ও কুফরী ইত্যাদি বিষয়ের উদাহরণ পেশ করেছি এ জন্য যে, তারা এ সব উদাহরণের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে বাতিলকে বর্জন করবে।
قُرۡءَانًا عَرَبِيًّا غَيۡرَ ذِي عِوَجٖ لَّعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ 28
২৮. আমি কুরআনকে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি। যাতে কোনরূপ বক্রতা, বিকৃতি ও অস্পষ্টতা নেই। যেন তারা আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করে।
ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلٗا رَّجُلٗا فِيهِ شُرَكَآءُ مُتَشَٰكِسُونَ وَرَجُلٗا سَلَمٗا لِّرَجُلٍ هَلۡ يَسۡتَوِيَانِ مَثَلًاۚ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ 29
২৯. আল্লাহ মুশরিক ও একত্ববাদীর উদাহরণ পেশ করেছেন এমন এক দাসের মাধ্যমে যাকে নিয়ে একাধিক মনিব ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে। সে একজনকে সন্তুষ্ট করলে অপরজন অসন্তুষ্ট হয়। ফলে সে হয়রান-পেরেশান অবস্থায় থাকে। পক্ষান্তরে অপর ব্যক্তি হলো কেবল এক ব্যক্তির দাস। সে মাত্র একজনেরই অধীন। যে তার উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম। ফলে সে শান্তি ও আরামের মধ্যে রয়েছে। উভয় ব্যক্তি আদৌ সমান হতে পারে না। সকল প্রশংসা আল্লাহর। তবে অধিকাংশ লোকই তা জানে না। তাই তারা আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করে।
إِنَّكَ مَيِّتٞ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ 30
৩০. হে রাসূল! আপনি মরণশীল। আর তারাও অবশ্যই মরণশীল।
ثُمَّ إِنَّكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ عِندَ رَبِّكُمۡ تَخۡتَصِمُونَ 31
৩১. হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট কিয়ামত দিবসে তোমাদের মধ্যকার বিতর্কিত বিষয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে। ফলে হকপন্থী আর বাতিলপন্থীর মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে পড়বে।
ক. ঈমান ও তাকওয়ার অধিকারীরাই কুরআন শ্রবণে বিনম্রচিত্ত হয়। পক্ষান্তরে অপরাধী ও হীন প্রকৃতির লোক তা থেকে উপকার গ্রহণ করে না।
খ. রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তাকে মিথ্যারোপ করা দুনিয়া কিংবা পরকাল অথবা উভয় জগতে শাস্তির কারণ।
গ. কুরআন দুনিয়া ও আখেরাতের কোন বিষয়ে বিশদ কিংবা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে ও উদাহরণ পেশ করতে বাদ রাখে নি।