يُبَشِّرُهُمۡ رَبُّهُم بِرَحۡمَةٖ مِّنۡهُ وَرِضۡوَٰنٖ وَجَنَّٰتٖ لَّهُمۡ فِيهَا نَعِيمٞ مُّقِيمٌ 21
২১. তাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি নাযিলের আনন্দময় সুসংবাদ দিবেন। তিনি আর কখনো তাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। তেমনিভাবে তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দিবেন। যাতে রয়েছে চিরস্থায়ী নিয়ামত যা কখনো শেষ হবে না।
خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥٓ أَجۡرٌ عَظِيمٞ 22
২২. তারা সে জান্নাতে অনন্ত কাল থাকবে। যা হবে দুনিয়াতে করা তাদের নেক আমলের প্রতিদান স্বরূপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার নিকট নিষ্ঠার সাথে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানা ব্যক্তির জন্য মহা প্রতিদান রয়েছে।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُوٓاْ ءَابَآءَكُمۡ وَإِخۡوَٰنَكُمۡ أَوۡلِيَآءَ إِنِ ٱسۡتَحَبُّواْ ٱلۡكُفۡرَ عَلَى ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ 23
২৩. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের আনীত বিধানের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা নিজেদের বংশের অমুসলিম পিতা, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়কে এমন অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাবে না যে, তোমরা তাদের নিকট মু’মিনদের গোপন কথা বলবে এবং সে ব্যাপারে তাদের পরামর্শ চাইবে যদি তারা কুফরিকে এক আল্লাহর ঈমানের উপর প্রাধান্য দেয়। যারা ওদেরকে কুফরির উপর অবিচল থাকার পরও বন্ধু বানিয়ে নিবে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবে তারা বস্তুতঃ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করলো এবং সে গুনাহের কারণে নিজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়ে নিজের উপরই যুলুম করলো।
قُلۡ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ وَإِخۡوَٰنُكُمۡ وَأَزۡوَٰجُكُمۡ وَعَشِيرَتُكُمۡ وَأَمۡوَٰلٌ ٱقۡتَرَفۡتُمُوهَا وَتِجَٰرَةٞ تَخۡشَوۡنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرۡضَوۡنَهَآ أَحَبَّ إِلَيۡكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٖ فِي سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّىٰ يَأۡتِيَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ 24
২৪. হে রাসূল! আপনি মু’মিনদেরকে বলে দিন: যদি তোমাদের বাপ-দাদা, সন্তানাদি, ভাই-বেরাদর, স্ত্রীগণ, আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের কামাই করা সম্পদ, যে ব্যবসায়ের তোমরা কাটতির আশা ও মন্দার আশঙ্কা করছো, যে ঘরে তোমরা অবস্থান করা পছন্দ করছো সেগুলো যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশি পছন্দীয় হয় তাহলে তোমরা আল্লাহর প্রেরিতব্য শাস্তি ও আযাবের অপেক্ষা করো। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া লোকদেরকে তাঁর পছন্দসই আমল করার তাওফীক দেন না।
لَقَدۡ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٖ وَيَوۡمَ حُنَيۡنٍ إِذۡ أَعۡجَبَتۡكُمۡ كَثۡرَتُكُمۡ فَلَمۡ تُغۡنِ عَنكُمۡ شَيۡٔٗا وَضَاقَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡأَرۡضُ بِمَا رَحُبَتۡ ثُمَّ وَلَّيۡتُم مُّدۡبِرِينَ 25
২৫. হে মু’মিনরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বহু যুদ্ধে তোমাদের সংখ্যা ও সরঞ্জাম কম থাকা সত্ত্বেও মুশরিক শত্রুদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন। যখন তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে দুনিয়ার উপকরণগুলো গ্রহণ করেছো। অন্যদিকে তোমরা কখনো সংখ্যাধিক্যের অহঙ্কার বোধ করোনি। বস্তুতঃ সংখ্যাধিক্য কখনো তাদের উপর তোমাদের বিজয়ের কারণই ছিলো না। তেমনিভাবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন হুনাইন যুদ্ধের দিন যখন তোমরা সংখ্যাধিক্যের অহঙ্কার করে বললে: আজ আমাদেরকে সংখ্যায় স্বল্পতাজনিত পরাজয় বরণ করতে হবে না। তখন তোমাদের গর্ব করা সেই সংখ্যাধিক্য তোমাদের কোন উপকারে আসেনি। বরং তোমাদের শত্রুরাই তোমাদের উপর জয়ী হয়েছে এবং পৃথিবী এতো প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য তা সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে তোমরা পরাজিত অবস্থায় শত্রুর প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন পূর্বক সেখান থেকে পালিয়ে গেলে।
ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودٗا لَّمۡ تَرَوۡهَا وَعَذَّبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ 26
২৬. তবে শত্রু থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেছেন। ফলে তারা যুদ্ধের প্রতি আবারো অবিচল হয়ে উঠে। উপরন্তু তিনি এমন এক দল ফিরিশতা পাঠালেন যাঁদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফিরদেরকে হত্যা, বন্দী, সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া ও সন্তানদেরকে আটক করার মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন। তাদেরকে দেয়া এ প্রতিদান মূলতঃ সর্বকালের রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপকারী এবং তাঁদের আনীত বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কাফিরদেরই প্রতিদান।
ক. মুজাহিদদের ফযীলতের মাত্রা অনেক বেশি। আল্লাহর নিকট যে কারো সম্মানের চেয়ে তাদের সম্মানই সর্বাধিক। তাঁদের জন্যই রয়েছে বিশেষ সম্মান ও সুউচ্চ মর্যাদা। তাঁরাই হলেন সফলতা ও নাজাতপ্রাপ্ত মহান সৌভাগ্যবান এবং তাঁদেরকেই তাঁদের প্রতিপালক নিয়ামতের সুসংবাদ দিয়ে থাকেন।
খ. উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসা এবং এ ভালোবাসাকে সকল ভালোবাসার উপর প্রাধান্য দেয়া বাধ্যতামূলক হওয়ার বিশেষ প্রমাণ রয়েছে।
গ. অন্যান্য যুদ্ধের মধ্য থেকে হুনাইন যুদ্ধকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো তাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মানলে বিজয় অর্জন এবং তাঁদের আদেশ মানার উপর দুনিয়ার নগদ লাভকে প্রাধান্য দিলে অনিবার্য পরাজয়মূলক বিশেষ শিক্ষণীয় ব্যাপার রয়েছে।
ঘ. উক্ত আয়াতগুলোতে প্রশান্তি নাযিলের ফযীলত বিধৃত হয়েছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রশান্তির মানে তাঁর সাথে থাকা মুসলমানদের ব্যাপারে তাঁর স্বস্তি ও সাহায্যের প্রতি আস্থা। আর মু’মিনদের প্রশান্তি মানে ভীতি ও অস্বস্তির পর সাহসিকতা ও অবিচল থাকার প্রশান্তি।