مَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يُمَتَّعُونَ 207
২০৭. তখন এ দুনিয়ার নিয়ামতগুলো তাদের কী ফায়েদায় আসবে?! বরং এ নিয়ামতগুলো তখন সম্পর্কহীন হয়ে পড়বে। যেগুলো তাদের কোন উপকারেই আসবে না।
وَمَآ أَهۡلَكۡنَا مِن قَرۡيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ 208
২০৮. আমি যখনই কোন জাতিকে ধ্বংস করেছি তা কিন্তু তাদের নিকট রাসূল পাঠিয়ে এবং কিতাব নাযিল করে তাদের ওজর-আপত্তি বন্ধ করে দেয়ার পরই করেছি।
ذِكۡرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ 209
২০৯. যা মূলতঃ তাদের জন্য ওয়াজ এবং উপদেশই ছিলো। বস্তুতঃ আমি তাদের নিকট রাসূল পাঠিয়ে এবং কিতাব নাযিল করে তাদের ওজর-আপত্তি বন্ধ করে দেয়ার পর তাদেরকে শাস্তি দিয়ে কোন যুলুম করিনি।
وَمَا تَنَزَّلَتۡ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ 210
২১০. মূলতঃ এ কুরআন নিয়ে রাসূলের অন্তরের উপর কোন শয়তান নাযিল হয়নি।
وَمَا يَنۢبَغِي لَهُمۡ وَمَا يَسۡتَطِيعُونَ 211
২১১. তাদের জন্য সম্ভবও নয় যে, তারা তাঁর অন্তরের উপর কুরআন নিয়ে নাযিল হবে। আর তারা তা করতেও পারবে না।
إِنَّهُمۡ عَنِ ٱلسَّمۡعِ لَمَعۡزُولُونَ 212
২১২. তারা তা করতে পারবে না। কারণ, তারা আকাশের সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে। অতএব, তারা কিভাবে সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং তা নিয়ে নাযিল হবে?!
فَلَا تَدۡعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلۡمُعَذَّبِينَ 213
২১৩. তাই আপনি আল্লাহর সাথে অন্য মা’বূদকে শরীক করে তাঁর ইবাদত করবেন না। তা না হলে সে জন্য আপনি শাস্তিপ্রাপ্ত হবেন।
وَأَنذِرۡ عَشِيرَتَكَ ٱلۡأَقۡرَبِينَ 214
২১৪. হে রাসূল! আপনি নিজ সম্প্রদায়ের নিকটাত্মীয়দেরকে ভীতি প্রদর্শন করুন। যাতে তারা শিরকের উপর থাকার দরুন তাদের প্রতি আল্লাহর শাস্তি নেমে না আসে।
وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ 215
২১৫. আর যে মু’মিনরা আপনার অনুসরণ করে তাদের প্রতি নরম ও দয়াপরবশ হয়ে কথায় ও কাজে তাদের জন্য নিজ বাহু নরম করুন।
فَإِنۡ عَصَوۡكَ فَقُلۡ إِنِّي بَرِيٓءٞ مِّمَّا تَعۡمَلُونَ 216
২১৬. তারা যদি আপনার অবাধ্য হয় এবং আপনি তাদেরকে যে তাওহীদ ও আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ করেছেন তাতে যদি তারা সাড়া না দেয় তাহলে আপনি তাদেরকে বলে দিন: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কৃত পাপ ও শিরক থেকে সম্পূর্ণরূপে দায়মুক্ত।
وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ 217
২১৭. আর আপনি নিজের সকল ব্যাপারে সেই পরাক্রমশালীর উপর নির্ভরশীল হোন যিনি তাঁর শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারেন। উপরন্তু যিনি তাঁর অভিমুখীদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ 218
২১৮. যিনি আপনাকে দেখতে পান যখন আপনি সালাতের জন্য দাঁড়ান।
وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّٰجِدِينَ 219
২১৯. আরো তিনি দেখতে পান মুসল্লীদের মাঝে আপনার এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় পরিবর্তন। তাঁর নিকট আপনার কোন কৃতকর্মই গোপন নয়। না অন্যদের কোন কৃতকর্ম।
إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ 220
২২০. নিশ্চয়ই আপনি নিজ সালাতে যে যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করেন তা সবকিছুই তিনি শুনেন। উপরন্তু তিনি আপনার নিয়্যাত সম্পর্কেও জানেন।
যখন তারা ধারণা করেছে যে, নিশ্চয়ই শয়তানরাই কুরআন নিয়ে নাযিল হয়েছে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন কবিই বটে। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের ধারণা নস্যাত করতে গিয়ে বলেন:
هَلۡ أُنَبِّئُكُمۡ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ 221
২২১. আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, শয়তানরা মূলতঃ কার উপর নাযিল হয় যাদের ব্যাপারে তোমাদের এ ধারণা যে, তারাই এ কুরআন নিয়ে নাযিল হয়েছে?
تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٖ 222
২২২. মূলতঃ জিনশয়তানরা নাযিল হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী মহাপাপী গণকদের উপর।
يُلۡقُونَ ٱلسَّمۡعَ وَأَكۡثَرُهُمۡ كَٰذِبُونَ 223
২২৩. জিন-শয়তানরা ফিরিশতাদের কাছ থেকে কথা চুরি করে নিজেদের গণক বন্ধুদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়। আর গণকদের অধিকাংশই মিথ্যুক। যদি তারা একটি কথা সত্য বলে তাহলে তার সাথে একশত কথা মিথ্যা বলে।
وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلۡغَاوُۥنَ 224
২২৪. তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যে কবিদের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করছো তাদেরকে তো অনুসরণ করে থাকে শুধুমাত্র তারাই যারা শরীয়ত বিমুখ ও সত্যপথভ্রষ্ট। তাই কবিরা যে কবিতাই বলে এরা তা বর্ণনা করতেই ব্যস্ত থাকে।
أَلَمۡ تَرَ أَنَّهُمۡ فِي كُلِّ وَادٖ يَهِيمُونَ 225
২২৫. হে রাসূল! আপনি কি দেখেননি যে, তাদের ভ্রষ্টতার একটি নিদর্শন হলো এই যে, তারা প্রত্যেক প্রান্তে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তারা কখনো মানুষের প্রশংসা করে। আবার কখনো নিন্দা। আবার কখনো বা অন্য কিছু।
وَأَنَّهُمۡ يَقُولُونَ مَا لَا يَفۡعَلُونَ 226
২২৬. তারা নিশ্চয়ই মিথ্যা বলে। তারা কোন জিনিস না করেও বলে: আমরা তা করেছি।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا وَٱنتَصَرُواْ مِنۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُواْۗ وَسَيَعۡلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ أَيَّ مُنقَلَبٖ يَنقَلِبُونَ 227
২২৭. তবে যে কবিরা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করছে উপরন্তু তারা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং আল্লাহর শত্রুদের যুলুমের পর তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে -যেমন: হাসসান ইবনু সাবিত- তারা অবশ্যই এ থেকে ভিন্ন। আল্লাহর সাথে শিরককারী ও তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী যালিমরা অচিরেই জানবে কোন্ গন্তব্যের দিকে তারা রওয়ানা করেছে। তারা বস্তুতঃ এক ভয়াবহ পরিস্থিতি ও সূক্ষ্ম হিসাবের দিকে রওয়ানা করেছে।
ক. আল্লাহর ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত ও তাঁর পক্ষ থেকে যুলুম হওয়াকে অস্বীকার করা।
খ. জিনশয়তানরা কুরআনের নিকটবর্তীও হতে পারে না।
গ. আল্লাহর পথের দা‘য়ীদের ক্ষেত্রে দয়াপরবশ হওয়া ও নম্রতা প্রদর্শন করার গুরুত্ব।
ঘ. কবিতার ভালো অংশ ভালো। আর খারাপ অংশ খারাপই।