وَإِنۡ أَرَدتُّمُ ٱسۡتِبۡدَالَ زَوۡجٖ مَّكَانَ زَوۡجٖ وَءَاتَيۡتُمۡ إِحۡدَىٰهُنَّ قِنطَارٗا فَلَا تَأۡخُذُواْ مِنۡهُ شَيًۡٔاۚ أَتَأۡخُذُونَهُۥ بُهۡتَٰنٗا وَإِثۡمٗا مُّبِينٗا 20
২০. হে স্বামীরা! যদি তোমরা নিজেদের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাও তাহলে তাতে তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। তবে যদি তোমরা যার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাকে ইতোপূর্বে প্রচুর সম্পদ মোহরানা হিসেবে দিয়ে থাকো তারপরও তা থেকে কোন কিছু ফেরত নেয়া তোমাদের জন্য জায়িয হবে না। কারণ, তোমাদের দেয়া কোন কিছু পুনরায় গ্রহণ করা তোমাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপ হিসেবেই পরিগণিত।
وَكَيۡفَ تَأۡخُذُونَهُۥ وَقَدۡ أَفۡضَىٰ بَعۡضُكُمۡ إِلَىٰ بَعۡضٖ وَأَخَذۡنَ مِنكُم مِّيثَٰقًا غَلِيظٗا 21
২১. কীভাবেই বা তোমরা নিজেদের দেয়া মোহরানাটুকু আবার ফেরত নিবে; অথচ তোমাদের মাঝে ইতিমধ্যে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। যেমন: পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা এবং যৌন সম্ভোগ ও পরস্পরের গোপনীয় ব্যাপারগুলো জানা। কারণ, এরপরও তাদের হাতে থাকা সম্পদের লোভ করা সত্যিই একটি গর্হিত ও বিশ্রী কাজ। অথচ তারা তোমাদের থেকে ইতোপূর্বে একটি শক্ত ও কঠিন অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। আর তা হলো আল্লাহর বাণী ও তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে তাদেরকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করা।
وَلَا تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ ءَابَآؤُكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۚ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةٗ وَمَقۡتٗا وَسَآءَ سَبِيلًا 22
২২. তোমাদের বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে তোমরা বিবাহ করো না। কারণ, এটি একটি হারাম কাজ। তবে ইসলাম পূর্ব বিষয় ধর্তব্য নয়। কারণ, ছেলেরা বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা একটি মহা বিশ্রী কাণ্ড, এর কর্তা আল্লাহর রোষানলে পতিত হওয়ার বিশেষ কারণ ও এ পথে চলা ব্যক্তির জন্য এটি একটি নিকৃষ্ট পথ।
حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمۡ أُمَّهَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُمۡ وَعَمَّٰتُكُمۡ وَخَٰلَٰتُكُمۡ وَبَنَاتُ ٱلۡأَخِ وَبَنَاتُ ٱلۡأُخۡتِ وَأُمَّهَٰتُكُمُ ٱلَّٰتِيٓ أَرۡضَعۡنَكُمۡ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَٰعَةِ وَأُمَّهَٰتُ نِسَآئِكُمۡ وَرَبَٰٓئِبُكُمُ ٱلَّٰتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّٰتِي دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمۡ تَكُونُواْ دَخَلۡتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ وَحَلَٰٓئِلُ أَبۡنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنۡ أَصۡلَٰبِكُمۡ وَأَن تَجۡمَعُواْ بَيۡنَ ٱلۡأُخۡتَيۡنِ إِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا 23
২৩. আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন তোমাদের মা-নানীদেরকে বিবাহ করা; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তথা মায়ের মা ও তার নানী। চাই তা বাপের পক্ষ থেকে হোক কিংবা মায়ের পক্ষ থেকে। তোমাদের মেয়েদেরকে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তথা মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে। তেমনিভাবে ছেলের মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তোমাদের বোনদেরকে; চাই তারা মাতা-পিতা উভয়ের পক্ষ থেকে হোক অথবা কোন একজনের পক্ষ থেকে। তোমাদের ফুফীদেরকে তেমনিভাবে তোমাদের বাপ-দাদা ও মা-নানীদের ফুফীদেরকেও; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তোমাদের খালাদেরকে; তেমনিভাবে তোমাদের মা-নানী ও বাপ-দাদাদের খালাদেরকেও; তারা যতো উপরেরই হোক না কেন। তোমাদের ভাই ও বোনের মেয়েদেরকে এবং তাদের সন্তানদেরকে; তারা যতো নিচেরই হোক না কেন। তোমাদের দুধ মা এবং তোমাদের দুধ বোনদেরকে। তোমাদের স্ত্রীদের মায়েদেরকে; চাই তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো কিংবা নাই করো। তোমাদের স্ত্রীদের অন্যের ঔরসজাত মেয়েদেরকে। যদিও তারা সাধারণত তোমাদের ঘরেই লালিত-পালিত ও বড় হয়েছে। তেমনিভাবে যারা তোমাদের ঘরে লালিত-পালিত হয়নি তারাও। যদি তোমরা তাদের মায়েদের সাথে সহবাস করে থাকো। আর যদি তোমরা তাদের মায়েদের সাথে সহবাস না করে থাকো তাহলে তাদের মেয়েদেরকে বিবাহ করায় তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। আরো হারাম করা হয়েছে তোমাদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা। যদিও তারা এখনো তাদের সাথে সহবাস করেনি। এ বিধানের অধীনে আরো রয়েছে দুধ ছেলেদের স্ত্রীরাও। আরো তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে বংশীয় অথবা দুধপান সম্পর্কীয় দু’বোনকে একই জনের বিবাহ বন্ধনে একত্রিত করা। তবে জাহিলী যুগে গত হওয়া বিষয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তেমনিভাবে কোন মহিলা ও তার ফুফী অথবা তার খালাকে একই ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে একত্রিত করা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত।
ক. যখনই কোন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে তখনই তার মোহরানা অবধারিত হয়ে যাবে। তখন তার জন্য তাতে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ ও লোভ করা জায়িয হবে না। যদিও সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে ও তাকে তালাক দিতে চায়।
খ. আল্লাহ তা‘আলা বাপ-দাদার স্ত্রীদেরকে বিবাহ করা হারাম করে দিয়েছেন। কারণ, তা একদম অশ্লীলতা ছাড়া আর কিছুই নয়। যাকে বিশুদ্ধ বুদ্ধি ও সুস্থ মানসিকতা ঘৃণা করে।
গ. আল্লাহ তা‘আলা যে মহিলাদেরকে বিবাহ করা হালাল এবং যে মহিলাদেরকে বিবাহ করা হারাম তা সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। চাই তা বংশের কারণে হোক অথবা বিবাহ বন্ধন কিংবা দুধপানের কারণেই হোক না কেন। তা কেবল ইজ্জতের ব্যাপারটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সেটিকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই।