قَالَ فَعَلۡتُهَآ إِذٗا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ 20
২০. মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর নিজ দোষ স্বীকার করেই ফিরআউনকে বললেন: আমি সেই লোকটিকে হত্যা করেছি ঠিকই। তবে আমি ওহী আসার পূর্বে মূর্খদেরই একজন ছিলাম।
فَفَرَرۡتُ مِنكُمۡ لَمَّا خِفۡتُكُمۡ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكۡمٗا وَجَعَلَنِي مِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ 21
২১. আমি সত্যিই তাকে হত্যা করার পর তার পরিবর্তে আমাকে হত্যা করার ভয়ে তোমাদের কাছ থেকে মাদয়ান এলাকায় পালিয়ে গিয়েছি। অতঃপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর রাসুলদের অন্যতম বানিয়েছেন যাঁদেরকে তিনি মানুষের কাছে পাঠিয়ে থাকেন।
وَتِلۡكَ نِعۡمَةٞ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنۡ عَبَّدتَّ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ 22
২২. আর বনী ইসরাঈলের ন্যায় আমাকে গোলাম না বানিয়ে স্বাধীনভাবে আমাকে লালন-পালন করা সত্যিই এমন একটি নিয়ামত যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছো। তবে তা আমাকে তোমার প্রতি দা’ওয়াত দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
قَالَ فِرۡعَوۡنُ وَمَا رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 23
২৩. ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে বললো: সকল সৃষ্টির মালিক সে আবার কে, যার রাসূল বলে তুমি নিজকে মনে করছো?!
قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَآۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ 24
২৪. মূসা (আলাইহিস-সালাম) ফিরআউনের উত্তরে বললেন: তিনি সকল সৃষ্টির মালিক যিনি আকাশ, জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যকার সব কিছুর মালিক। যদি তোমরা বিশ্বাস করো যে, নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতিপালক তাহলে তোমরা এককভাবে তাঁরই ইবাদত করো।
قَالَ لِمَنۡ حَوۡلَهُۥٓ أَلَا تَسۡتَمِعُونَ 25
২৫. ফিরআউন তার পাশে থাকা তার সম্প্রদায়ের নেতাদেরকে বললো: তোমরা কি মূসার উত্তর এবং তাতে যে মিথ্যা দাবি রয়েছে তা শুনতে পাওনি!
قَالَ رَبُّكُمۡ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلۡأَوَّلِينَ 26
২৬. মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: আল্লাহ হলেন তোমাদের ও তোমাদের আগের বাপ-দাদাদের প্রতিপালক।
قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِيٓ أُرۡسِلَ إِلَيۡكُمۡ لَمَجۡنُونٞ 27
২৭. ফিরআউন বললো: নিশ্চয়ই যে দাবি করছে যে, সে তোমাদের নিকট একজন প্রেরিত রাসূল সে তো অবশ্যই একজন পাগল। সে কীভাবে উত্তর দিবে তা বুঝে না এবং যা বুঝে না তাই বলে বেড়ায়।
قَالَ رَبُّ ٱلۡمَشۡرِقِ وَٱلۡمَغۡرِبِ وَمَا بَيۡنَهُمَآۖ إِن كُنتُمۡ تَعۡقِلُونَ 28
২৮. মূসা (আলাইহিস-সালাম) বললেন: যে আল্লাহর দিকে আমি তোমাদেরকে ডাকছি তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ে মধ্যকার সবকিছুর মালিক। তোমাদের যদি কোন বুদ্ধি-বিবেক থাকে তাহলে তোমরা তা বুঝতে পারবে।
قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذۡتَ إِلَٰهًا غَيۡرِي لَأَجۡعَلَنَّكَ مِنَ ٱلۡمَسۡجُونِينَ 29
২৯. ফিরআউন মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে তর্কে অক্ষম হয়ে তাঁকে বললো: তুমি যদি আমি ছাড়া অন্য কোন মা’বূদের ইবাদত করো তাহলে আমি তোমাকে অবশ্যই জেলে দেবো।
قَالَ أَوَلَوۡ جِئۡتُكَ بِشَيۡءٖ مُّبِينٖ 30
৩০. মূসা (আলাইহিস-সালাম) ফিরআউনকে বললেন: আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নিয়ে এসেছি তার সত্যতা প্রমাণ করে এমন কিছুও যদি তোমার নিকট নিয়ে আসি তারপরও কি তুমি আমাকে জেলে বন্দি করবে?
قَالَ فَأۡتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ 31
৩১. সে বললো: তুমি যে বললে, তোমার সত্যতা বুঝায় এমন কিছু নিয়ে আসবে তা নিয়ে আসো। যদি তুমি নিজ দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো।
فَأَلۡقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعۡبَانٞ مُّبِينٞ 32
৩২. অতঃপর মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর লাঠিখানা জমিনে ফেলে দিলে তা হঠাৎ এক অজগর সাপে পরিণত হলো। যা সবাই সুস্পভাবে দেখতে পেলো।
وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِيَ بَيۡضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ 33
৩৩. আর তিনি নিজ হাতখানা পকেটে ঢুকিয়ে আবার বের করলে তা এক উজ্জ্বল শুভ্র হাতে পরিণত হয়। যা শ্বেতের কোন শুভ্রতা নয়। যা দর্শকরা এভাবেই প্রত্যক্ষ করে।
قَالَ لِلۡمَلَإِ حَوۡلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٞ 34
৩৪. ফিরআউন তার পাশে থাকা তার সম্প্রদায়ের নেতাদেরকে বললো: নিশ্চয়ই এ লোকটি যাদু সম্পর্কে জ্ঞাত একজন বড় যাদুকর।
يُرِيدُ أَن يُخۡرِجَكُم مِّنۡ أَرۡضِكُم بِسِحۡرِهِۦ فَمَاذَا تَأۡمُرُونَ 35
৩৫. সে তার যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে বের করে দিতে চায়, অতএব তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের মতামত কী?
قَالُوٓاْ أَرۡجِهۡ وَأَخَاهُ وَٱبۡعَثۡ فِي ٱلۡمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ 36
৩৬. তারা তাকে বললো: মূসা (আলাইহিস-সালাম) ও তার ভাইকে কিছু সময় দিন। তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দিবেন না। বরং মিশরের শহরে শহরে যাদুকরদেরকে একত্রিত করার জন্য লোক পাঠিয়ে দিন।
يَأۡتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٖ 37
৩৭. যারা আপনার নিকট যাদু জানা সকল যাদুকরকে একত্রিত করবে।
فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوۡمٖ مَّعۡلُومٖ 38
৩৮. অতঃপর ফিরআউন তার যাদুকরদেরকে মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও জায়গায় একত্রিত করলো।
وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلۡ أَنتُم مُّجۡتَمِعُونَ 39
৩৯. উপরন্তু মানুষদেরকে বলা হলো: তোমরা কি মূসা ও যাদুকরদের মধ্যকার জয়ী লোকটিকে দেখার জন্য একত্রিত হবে?
ক. একজন আহ্বানকারীর পূর্বের দোষগুলো এবং তাঁর উপর থাকা নিয়ামতগুলো যার সাথে তিনি দোষ করেছেন কিংবা তাঁর নিয়ামতদাতাকে দা’ওয়াত দেয়ার পথে প্রতিবন্ধক নয়।
খ. শত্রু থেকে বাঁচার জন্য কোন উপায় গ্রহণ করা আল্লাহর উপর ঈমান ও বিরোধী নয়।
গ. আল্লাহর সৃষ্টিসমূহ তাঁর রুবূবিয়্যাত ও ওয়াহদানিয়্যাতকে প্রমাণ করে।
ঘ. প্রমাণের দুর্বলতা কঠোরতার আশ্রয় নেয়ার একটি বিশেষ কারণ।
ঙ. সাধারণ জনগণকে ধার্মিকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা ধর্মদ্রোহীদের একটি নিয়ম।