وَٱتَّقُواْ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلۡجِبِلَّةَ ٱلۡأَوَّلِينَ 184
১৮৪. যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোকে সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেই সত্তার প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করো। এই ভয়ে যে, তাঁর আযাব তোমাদের উপর নাযিল হয়ে যেতে পারে।
قَالُوٓاْ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلۡمُسَحَّرِينَ 185
১৮৫. শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায় তাঁকে বললো: নিশ্চয়ই তুমি ওদেরই অন্তর্ভুক্ত যারা বারবার যাদুগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যাদু তোমার মেধার উপর ক্রিয়াশীল হয়ে তাকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে দিয়েছে।
وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٞ مِّثۡلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ 186
১৮৬. তাছাড়া তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ। আমাদের উপর তোমার কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। তাহলে তুমি কিভাবে রাসূল হবে? বস্তুতঃ আমরা তোমাকে রিসালাতের দাবিতে একজন মিথ্যুক বলেই মনে করি।
فَأَسۡقِطۡ عَلَيۡنَا كِسَفٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ 187
১৮৭. তুমি নিজ দাবিতে সত্যবাদী হলে আমাদের উপর আকাশের কয়েটি টুকরো ফেলে দাও।
قَالَ رَبِّيٓ أَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُونَ 188
১৮৮. শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) তাদেরকে বললেন: আমার প্রতিপালক জানেন তোমরা যে শিরক ও গুনাহগুলো করছো। তাঁর নিকট তোমাদের কোন আমলই গোপন নয়।
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمۡ عَذَابُ يَوۡمِ ٱلظُّلَّةِۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٍ 189
১৮৯. কিন্তু তারা তাঁকে অস্বীকার করতেই থাকলো। তাই এক মহা শাস্তি তাদেরকে পেয়ে বসলো। এক কঠিন গরমের দিনের শেষে কালো মেঘ তাদেরকে ঢেকে ফেললো উপরন্তু তাদের উপর আগুন বর্ষণ করে তাদেরকে জ্বালিয়ে দিলো। বস্তুতঃ তাদের ধ্বংসের দিনটি এক মহা ভয়ঙ্কর দিন ছিলো।
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ 190
১৯০. উল্লিখিত শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের মাঝে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ 191
১৯১. হে রাসূল! নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক অত্যন্ত পরাক্রমশালী। যিনি তাঁর শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন এবং তিনি তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 192
১৯২. নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃত এ কুরআন মূলতঃ সকল সৃষ্টির প্রতিপালকের কাছ থেকেই নাযিলকৃত।
نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلۡأَمِينُ 193
১৯৩. যা নিয়ে জিব্রীল আমীন (আলাইহিস-সালাম) অবতরণ করেছেন।
عَلَىٰ قَلۡبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلۡمُنذِرِينَ 194
১৯৪. হে রাসূল! জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) তা নিয়ে আপনার হৃদয়ের উপর নাযিল হয়েছেন যেন আপনি সেই রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যাঁরা মানুষকে ভীতি প্রদর্শন করেন এবং আল্লাহর আযাবের ভয় দেখান।
بِلِسَانٍ عَرَبِيّٖ مُّبِينٖ 195
১৯৫. জিব্রীল (আলাইহিস-সালাম) সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় তা নিয়ে অবতরণ করেছেন।
وَإِنَّهُۥ لَفِي زُبُرِ ٱلۡأَوَّلِينَ 196
১৯৬. নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে এ কুরআনের উল্লেখ রয়েছে। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহ এর সুসংবাদ দিয়েছে।
أَوَ لَمۡ يَكُن لَّهُمۡ ءَايَةً أَن يَعۡلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُاْ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ 197
১৯৭. এ মিথ্যারোপকারীদের জন্য আপনার সত্যবাদিতার ব্যাপারে এটি কি একটি বিশেষ আলামত নয় যে, বনী ইসরাঈলের আলিমরা আপনার উপর নাযিলকৃত বিধানের বাস্তবতা জানতে পেরেছে। যেমন: আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম।
وَلَوۡ نَزَّلۡنَٰهُ عَلَىٰ بَعۡضِ ٱلۡأَعۡجَمِينَ 198
১৯৮. আমি যদি এ কুরআনকে এমন এক অনারবের উপর নাযিল করতাম যে আরবী ভাষায় কথা বলতে পারে না।
فَقَرَأَهُۥ عَلَيۡهِم مَّا كَانُواْ بِهِۦ مُؤۡمِنِينَ 199
১৯৯. অতঃপর সে তাদেরকে তা পড়ে শুনায় তখন তারা এর প্রতি কখনোই ঈমান আনবে না। কারণ, তারা অচিরেই বলবে: আমরা এটি বুঝি না। তাই তারা যেন এ মর্মে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের ভাষায়ই কুরআন নাযিল করেছেন।
كَذَٰلِكَ سَلَكۡنَٰهُ فِي قُلُوبِ ٱلۡمُجۡرِمِينَ 200
২০০. এভাবেই আমি কুফরি ও মিথ্যারোপকে অপরাধীদের অন্তরে ঢুকিয়ে দিয়েছি।
لَا يُؤۡمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُاْ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَلِيمَ 201
২০১. তারা নিজেদের কুফরি থেকে একটুও পিছপা হবে না এবং ঈমানও আনবে না যতক্ষণ না তারা নিজেদের চোখে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবলোকন করে।
فَيَأۡتِيَهُم بَغۡتَةٗ وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُونَ 202
২০২. ফলে হঠাৎ এ শাস্তি তাদের নিকট এসে পড়বে। অথচ তারা এর আগমন সম্পর্কে কিছুই জানতো না। বরং তা তাদের নিকট হঠাৎই এসেছে।
فَيَقُولُواْ هَلۡ نَحۡنُ مُنظَرُونَ 203
২০৩. যখন তাদের উপর হঠাৎ শাস্তি নাযিল হবে তখন তারা অতি আফসোসের সাথে বলবে: হায়, আমাদেরকে কি আল্লাহর নিকট তাওবা করার এতটুকু সুযোগ দেয়া হবে?!
أَفَبِعَذَابِنَا يَسۡتَعۡجِلُونَ 204
২০৪. এ কাফিররাই কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে বলেছিলো না যে, আমরা আপনার উপর ঈমান আনবো না যতক্ষণ না আপনি নিজ ধারণা মাফিক আকাশকে টুকরো টুকরো করে আমাদের উপর ফেলবেন?!
أَفَرَءَيۡتَ إِن مَّتَّعۡنَٰهُمۡ سِنِينَ 205
২০৫. হে রাসূল! আপনি আমাকে বলুন: আমি যদি আপনার আনীত বিধানের প্রতি ঈমান বিমুখ এ কাফিরদেরকে এক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নিয়ামত ভোগ করাই।
ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُواْ يُوعَدُونَ 206
২০৬. অনন্তর এ নিয়ামত প্রাপ্তির সময়ের পর তাদের নিকট সেই ওয়াদাকৃত শাস্তি নেমে আসে।
ক. যখন কোন মুসলমান আরবী ভাষায় গভীরতা অর্জন করে তখন সে সত্যিই কুরআন বুঝতে সক্ষম হয়।
খ. ন্যায়পরায়ণ আহলে কিতাবের এ কথা স্বীকার করা যে, এ কুরআন মূলতঃ আল্লাহর পক্ষ থেকেই নাযিলকৃত। এটি মুশরিকদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ প্রমাণ।
গ. কাফিররা দুনিয়ার যে নিয়ামতগুলো পাচ্ছে তা কিন্তু তাদেরকে অপরাধের দিকেই টেনে নেয়ার উপায় মাত্র। তা কখনোই মর্যাদার কারণ নয়।