فَبِمَا نَقۡضِهِم مِّيثَٰقَهُمۡ وَكُفۡرِهِم بَِٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَقَتۡلِهِمُ ٱلۡأَنۢبِيَآءَ بِغَيۡرِ حَقّٖ وَقَوۡلِهِمۡ قُلُوبُنَا غُلۡفُۢۚ بَلۡ طَبَعَ ٱللَّهُ عَلَيۡهَا بِكُفۡرِهِمۡ فَلَا يُؤۡمِنُونَ إِلَّا قَلِيلٗا 155
১৫৫. ফলে আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করেছি। কারণ, তারা নিজেদের কৃত শক্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, আল্লাহর আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করেছে, নবীদেরকে হত্যা করার সাহসিকতা দেখিয়েছে এবং তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলেছে: আমাদের অন্তরগুলো আচ্ছাদিত। আপনি যা বলেন তা বুঝতে সক্ষম নয়। অথচ ব্যাপারটি তেমন নয় যা তারা বলেছে। বরং আল্লাহ তা‘আলা কুফরির দরুন তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন ফলে তাতে আর কোন কল্যাণই পেঁছাবে না। তাই তারা সামান্যটুকুই ঈমান আনবে যা তাদের কোন উপকার করতে পারবে না।
وَبِكُفۡرِهِمۡ وَقَوۡلِهِمۡ عَلَىٰ مَرۡيَمَ بُهۡتَٰنًا عَظِيمٗا 156
১৫৬. আমি তাদেরকে কুফরির কারণে এবং মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) কে ব্যভিচারের মিথ্যা ও অমূলক অপবাদ দেয়ার কারণে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করি।
وَقَوۡلِهِمۡ إِنَّا قَتَلۡنَا ٱلۡمَسِيحَ عِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ رَسُولَ ٱللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمۡۚ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ لَفِي شَكّٖ مِّنۡهُۚ مَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍ إِلَّا ٱتِّبَاعَ ٱلظَّنِّۚ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينَۢا 157
১৫৭. আর আমি তাদেরকে লা’নত করি। কারণ, তারা মিথ্যাভাবে অহঙ্কার করে বলে: আমরা আল্লাহর রাসূল মাসীহ ‘ঈসা ইবনু মারইয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা না হত্যা করেছে, না তাঁকে ক্রূশবিদ্ধ করেছে। যা তাদের ধারণা। বরং তারা এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে যার উপর আল্লাহ তা‘আলা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাদৃশ্য ঢেলে দিয়েছেন। তারা মূলতঃ তাকে ক্রূশবিদ্ধ করেছে। অথচ তাদের ধারণা তারা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কেই হত্যা করেছে। যারা তাঁর হত্যার দাবি করছে তারা হলো ইহুদি। আর যারা তাঁকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে তারা হলো খ্রিস্টান। তারা উভয়ই তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ ও অস্থিরতায় ভুগছে। তাদের কারোরই তাঁর সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করছে। আর অনুমান কখনো সত্য উদঘাটনে কোন উপকারে আসে না। বস্তুতঃ তারা না ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে হত্যা করেছে। না তারা তাঁকে নিশ্চিত ক্রূশবিদ্ধ করেছে।
بَل رَّفَعَهُ ٱللَّهُ إِلَيۡهِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمٗا 158
১৫৮. বরং আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে উদ্ধার করে শরীর ও রূহ সমেত তাঁর কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতায় পরাক্রমশালী। কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। তেমনিভাবে তিনি তাঁর শরীয়ত, ফয়সালা ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাবান।
وَإِن مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤۡمِنَنَّ بِهِۦ قَبۡلَ مَوۡتِهِۦۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيۡهِمۡ شَهِيدٗا 159
১৫৯. শেষ যুগে ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর অবতরণের পর তাঁর মৃত্যুর আগেই আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই তাঁর উপর ঈমান আনবে। আর কিয়ামতের দিন ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) তাদের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হবেন। তা শরীয়তের পক্ষে হোক অথবা বিপক্ষে।
فَبِظُلۡمٖ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمۡنَا عَلَيۡهِمۡ طَيِّبَٰتٍ أُحِلَّتۡ لَهُمۡ وَبِصَدِّهِمۡ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرٗا 160
১৬০. ইহুদিদের যুলুমের কারণেই আমি তাদের পূর্বের কিছু পবিত্র ও হালাল খাদ্য তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। আমি প্রত্যেক নখ বিশিষ্ট প্রাণী এবং গরু ও ছাগলের চর্বি তাদের উপর হারাম করে দিয়েছি। তবে সেগুলোর পিঠের চর্বি তাদের জন্য হালাল। যেহেতু তারা নিজেদের ও অন্যদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা প্রদান করেছে। এমনকি কল্যাণের পথে বাধা প্রদান তাদের চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে।
وَأَخۡذِهِمُ ٱلرِّبَوٰاْ وَقَدۡ نُهُواْ عَنۡهُ وَأَكۡلِهِمۡ أَمۡوَٰلَ ٱلنَّاسِ بِٱلۡبَٰطِلِۚ وَأَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ مِنۡهُمۡ عَذَابًا أَلِيمٗا 161
১৬১. যেহেতু তারা সুদের লেন-দেন করে; অথচ সুদ গ্রহণ করতে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নিষেধ করেছেন। আর যেহেতু তারা শরীয়তের কোন অধিকার ছাড়া মানুষের সম্পদ গ্রাস করে নিচ্ছে। বস্তুতঃ আমি তাদের মধ্যকার কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যাবস্থা রেখেছি।
যখন আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করেছেন এখন তিনি তাদের মধ্যকার ঈমানদারদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
لَّٰكِنِ ٱلرَّٰسِخُونَ فِي ٱلۡعِلۡمِ مِنۡهُمۡ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ يُؤۡمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبۡلِكَۚ وَٱلۡمُقِيمِينَ ٱلصَّلَوٰةَۚ وَٱلۡمُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ أُوْلَٰٓئِكَ سَنُؤۡتِيهِمۡ أَجۡرًا عَظِيمًا 162
১৬২. তবে জ্ঞানে দৃঢ় ও পরিপক্ক ইহুদিরা আর হে রাসূল! মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত কুরআনকে বিশ্বাস করে। তারা আপনার পূর্বেকার রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাব তাওরাত এবং ইঞ্জীলেও বিশ্বাস করে। উপরন্তু তারা সালাত কায়িম করে, নিজেদের সম্পদের যাকাত দেয়, আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করে। যাঁর কোন শরীক নেই। তেমনিভাবে তারা কিয়ামতের দিনকে বিশ্বাস করে। বস্তুতঃ এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারীদেরকে আমি অচিরেই মহা প্রতিদান দেবো।
ক. কুফরির পরিণতি হলো অন্তরের উপর মোহর মেরে দেয়া। আর সেটি সত্যিকার বুঝ থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি বিশেষ কারণ।
খ. আল্লাহর নবী ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাথে ইহুদিদের শত্রুতার বর্ণনা। এমনকি তারা পরিশেষে তাঁকে হত্যা করার প্রচেষ্টার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
গ. খ্রিস্টানদের মূর্খতা এবং ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে ক্রূশবিদ্ধ করার বিষয়ে তাদের অস্থিরতা উপরন্তু এ ক্ষেত্রে বাতিল ধারণার ভিত্তিতেই তাদের আচরণের বর্ণনা।
ঘ. জ্ঞানের ফযীলতের বর্ণনা। কারণ, আহলে কিতাবের মধ্যকার যারা জ্ঞানে পরিপক্ক তাদের এ জ্ঞানের পরিপক্কতা তাদেরকে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর ঈমান আনা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।