أَفَسِحۡرٌ هَٰذَآ أَمۡ أَنتُمۡ لَا تُبۡصِرُونَ 15
১৫. তবে কি এই শাস্তি যা তোমরা প্রত্যক্ষ করেছো তা যাদু, না কি তোমরা তা আসলে দেখোই নি।
ٱصۡلَوۡهَا فَٱصۡبِرُوٓاْ أَوۡ لَا تَصۡبِرُواْ سَوَآءٌ عَلَيۡكُمۡۖ إِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ 16
১৬. তোমরা এই আগুনের দহন আস্বাদন করো এবং তা প্রত্যক্ষ করো। এর দহন সহ্য করার ধৈর্য ধারণ করো আর নাই করো তোমাদের ধৈর্য ধারণ করা আর না করা উভয়ই সমান। তোমাদেরকে আজ দুনিয়ার জীবনে কুফরী ও পাপাচার হিসাবে যাই করেছিলে তারই বদলা দেয়া হবে।
আল্লাহ মিথ্যারোপকারীদের প্রতিদান উল্লেখ করার পর সত্যায়নকারী মুত্তাকীদের প্রতিদান উল্লেখ করে বলেন:
إِنَّ ٱلۡمُتَّقِينَ فِي جَنَّٰتٖ وَنَعِيمٖ 17
১৭. অবশ্যই আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে মুত্তাকীরা উদ্যানসমূহ ও অবারিত মহা ভোগসামগ্রীতে থাকবে।
فَٰكِهِينَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ وَوَقَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ عَذَابَ ٱلۡجَحِيمِ 18
১৮. তারা তথায় তাদের প্রতিপালকের অবদান স্বরূপ খাদ্য, পানীয় ও মিলনের মতো ভোগবিলাসে মত্ত থাকবে। আর তাদের মহান প্রতিপালক তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। ফলে তারা নিজেদের ভোগসামগ্রীর উদ্দেশ্য সাধন ও কষ্টদায়ক বস্তু থেকে রক্ষা পাওয়ার মাধ্যমে ধন্য হবে।
كُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ هَنِيَٓٔۢا بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ 19
১৯. আর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা নিজেদের মনের স্বাদ মিটিয়ে তৃপ্তিসহকারে পানাহার করো। তোমরা যা খাও কিংবা পান করো তাতে কোনরূপ ক্ষতি বা কষ্ট অনুভব করবে না। বস্তুতঃ এটি হলো তোমাদের দুনিয়ার জীবনের সৎকর্মের ফল।
مُتَّكِِٔينَ عَلَىٰ سُرُرٖ مَّصۡفُوفَةٖۖ وَزَوَّجۡنَٰهُم بِحُورٍ عِينٖ 20
২০. তারা সামনা সামনি করে রাখা সুরম্য খাটের উপর হেলান দিয়ে অবস্থান করবে। আর আমি তাদেরকে ফর্সা পদ্মলোচন স্ত্রীদের সাথে বিয়ে দেবো।
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱتَّبَعَتۡهُمۡ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَٰنٍ أَلۡحَقۡنَا بِهِمۡ ذُرِّيَّتَهُمۡ وَمَآ أَلَتۡنَٰهُم مِّنۡ عَمَلِهِم مِّن شَيۡءٖۚ كُلُّ ٱمۡرِيِٕۢ بِمَا كَسَبَ رَهِينٞ 21
২১. যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুসরণ করেছে আমি তাদের চক্ষু শীতল করার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে এদেরকে মিলিত করবো। যদিও বা আমলে তারা সমান নয়। আর আমি তাদের আমলের প্রতিদান থেকে কোন কিছুই কম করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার মন্দ আমলের নিকট দায়বদ্ধ। তার আমলের কোন কিছুই কেউ বহন করবে না।
وَأَمۡدَدۡنَٰهُم بِفَٰكِهَةٖ وَلَحۡمٖ مِّمَّا يَشۡتَهُونَ 22
২২. আমি এ সব জান্নাতবাসীদেরকে বহু রকমের ফল-ফলাদি দ্বারা সহযোগিতা যোগাবো এবং তাদেরকে তাদের সখের মাংস দ্বারাও সমৃদ্ধ করবো।
يَتَنَٰزَعُونَ فِيهَا كَأۡسٗا لَّا لَغۡوٞ فِيهَا وَلَا تَأۡثِيمٞ 23
২৩. তারা জান্নাতে এমন সুরা পান করবে যা দুনিয়াতে যেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা করবে না। তথা প্রলাপ বকা ও নেশার ফলে পাপাচারের কথা বলা।
۞وَيَطُوفُ عَلَيۡهِمۡ غِلۡمَانٞ لَّهُمۡ كَأَنَّهُمۡ لُؤۡلُؤٞ مَّكۡنُونٞ 24
২৪. তাদের সামনে কিশোররা প্রদক্ষিণ করতে থাকবে। তাদেরকে এদের খেদমতের জন্যই নিয়োজিত করা হয়েছে। তাদের বর্ণ এমন ফর্সা হবে যে, তা যেন রক্ষিত মণিমুক্তা।
وَأَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ يَتَسَآءَلُونَ 25
২৫. জান্নাতীরা পরস্পর তাদের দুনিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে।
قَالُوٓاْ إِنَّا كُنَّا قَبۡلُ فِيٓ أَهۡلِنَا مُشۡفِقِينَ 26
২৬. তারা প্রত্যুত্তরে বলবে: আমরা দুনিয়াতে আমাদের পরিজনের মাঝে আল্লাহর শাস্তি থেকে ভীত ছিলাম।
فَمَنَّ ٱللَّهُ عَلَيۡنَا وَوَقَىٰنَا عَذَابَ ٱلسَّمُومِ 27
২৭. অতঃপর আল্লাহ আমাদের উপর ইসলামের প্রতি পথ প্রদর্শনের নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন এবং আমাদেরকে প্রচণ্ড তাপসম্পন্ন শাস্তি থেকে মুক্তি দান করেছেন।
إِنَّا كُنَّا مِن قَبۡلُ نَدۡعُوهُۖ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡبَرُّ ٱلرَّحِيمُ 28
২৮. আমরা নিজেদের দুনিয়ার জীবনে তাঁরই ইবাদত করতাম এবং তাঁকেই ডাকতাম। যেন তিনি আমাদেরকে দহনশীল শাস্তি থেকে রক্ষা করেন। অবশ্যই তিনি অনুগ্রহকারী। তিনি তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে কৃত অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ। তাদের প্রতি দয়াপরবশ। তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে এ কথাও রয়েছে যে, তিনি আমাদেরকে ঈমানের পথ প্রদর্শন করবেন এবং আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন।
فَذَكِّرۡ فَمَآ أَنتَ بِنِعۡمَتِ رَبِّكَ بِكَاهِنٖ وَلَا مَجۡنُونٍ 29
২৯. হে রাসূল! আপনি কুরআন দিয়ে উপদেশ দিতে থাকুন। কেননা, আপনি নিজ রবের প্রদত্ত ঈমান ও বিবেকের ব্যাপারে জিনের সাধক, গণক কিংবা পাগল নন।
أَمۡ يَقُولُونَ شَاعِرٞ نَّتَرَبَّصُ بِهِۦ رَيۡبَ ٱلۡمَنُونِ 30
৩০. না কি এ সব মিথ্যারোপকারী বলে যে, মুহাম্মাদ রাসূল নন। বরং তিনি একজন কবি মাত্র। আমরা প্রহর গুনছি কখন মৃত্যু এসে তাঁর রূহ ছিনিয়ে নিবে। আর আমরা তাঁর থেকে রেহাই পাবো।
قُلۡ تَرَبَّصُواْ فَإِنِّي مَعَكُم مِّنَ ٱلۡمُتَرَبِّصِينَ 31
৩১. হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন, তোমরা আমার মৃত্যুর অপেক্ষা করো। আর আমি তোমাদের কর্তৃক আমাকে মিথ্যারোপ করার ফলে তোমাদের উপর নিপতিত শাস্তির অপেক্ষায় থাকলাম।
ক. জান্নাতে পিতা-পূত্রের একত্রে অবস্থানের ব্যবস্থা থাকা। যদিও বা আমলে একজন অপরজন অপেক্ষা পিছিয়ে থাকে। এটি হবে তাদের জন্য সম্মান প্রদর্শন মূলক ব্যবস্থাপনা। যাতে করে তাদের আনন্দ পরিপূর্ণতা লাভ করে।
খ. পরকালের মদপানে কোনরূপ নেশা থাকবে না।
গ. যে নিজ দুনিয়ার জীবনে স্বীয় প্রতিপালককে ভয় করবে তিনি তাকে পরকালে নিরাপদে রাখবেন।