وَٱلَّٰتِي يَأۡتِينَ ٱلۡفَٰحِشَةَ مِن نِّسَآئِكُمۡ فَٱسۡتَشۡهِدُواْ عَلَيۡهِنَّ أَرۡبَعَةٗ مِّنكُمۡۖ فَإِن شَهِدُواْ فَأَمۡسِكُوهُنَّ فِي ٱلۡبُيُوتِ حَتَّىٰ يَتَوَفَّىٰهُنَّ ٱلۡمَوۡتُ أَوۡ يَجۡعَلَ ٱللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلٗا 15
১৫. তোমাদের মহিলারা ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে চাই তারা বিবাহিতা হোক কিংবা অবিবাহিতা তোমরা তাদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ চার জন মুসলিম পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করো। তারা এদের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সাক্ষ্য দিলে তোমরা তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ ঘরে আটকে রাখো যতক্ষণ না তাদের জীবন মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয় অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে বন্দীদশা ছাড়া অন্য কোন পথ বের করে দেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য একটি বিশেষ পথ বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিবাহিতা ব্যভিচারিণী মেয়ের জন্য একশ’টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর এবং বিবাহিতাকে পাথর মেরে হত্যা করার বিধান করেছেন।
وَٱلَّذَانِ يَأۡتِيَٰنِهَا مِنكُمۡ فََٔاذُوهُمَاۖ فَإِن تَابَا وَأَصۡلَحَا فَأَعۡرِضُواْ عَنۡهُمَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ تَوَّابٗا رَّحِيمًا 16
১৬. আর যে পুরুষদ্বয় ব্যভিচারের অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় চাই তারা বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত তোমরা তাদেরকে হাত ও মুখ দিয়ে লাঞ্ছনা ও তিরস্কারমূলক শাস্তি দাও। ফলে তারা যদি উক্ত কর্মকাণ্ড পরিত্যাগ করে এবং তাদের অবস্থা ভালো হয়ে যায় তাহলে তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকো। কারণ, পাপ থেকে তাওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তির মতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা গ্রহণকারী ও তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। মূলতঃ এ জাতীয় শাস্তি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিলো অতঃপর তা অবিবাহিতকে একশ’টি বেত্রাঘাত ও দেশান্তর এবং বিবাহিতকে একেবারে পাথর মেরে হত্যা করার মাধ্যমে রহিত করা হয়েছে।
إِنَّمَا ٱلتَّوۡبَةُ عَلَى ٱللَّهِ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسُّوٓءَ بِجَهَٰلَةٖ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٖ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَتُوبُ ٱللَّهُ عَلَيۡهِمۡۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمٗا 17
১৭. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওদের তাওবা গ্রহণ করেন যারা পাপ ও গুনাহের পরিণতি ও অনিষ্টের কথা না জেনে তাতে লিপ্ত হয় (আর এটিই হলো ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত পাপীদের অবস্থা) অতঃপর মৃত্যু দেখার পূর্বে তাদের প্রভুর প্রতি নত হয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসে। আল্লাহ তা‘আলা এদের তাওবাই গ্রহণ করেন এবং তাদের অপরাধসমূহের প্রতি কোন ধরনের ভ্রূক্ষেপই করেন না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত উপরন্তু তিনি তাঁর তাক্বদীর ও শরীয়তের ব্যাপারে প্রজ্ঞাময়।
وَلَيۡسَتِ ٱلتَّوۡبَةُ لِلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّئَِّاتِ حَتَّىٰٓ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ ٱلۡمَوۡتُ قَالَ إِنِّي تُبۡتُ ٱلۡـَٰٔنَ وَلَا ٱلَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمۡ كُفَّارٌۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمٗا 18
১৮. তবে যারা গুনাহের উপর অটল থেকে তা থেকে দ্রুত তাওবা না করে তাদের তাওবা আল্লাহ তা‘আলা গ্রহণ করেন না। মৃত্যু যন্ত্রণা দেখার সময় তাদের কেউ কেউ বলে: আমি এখন আমার সমস্ত পাপ থেকে তাওবা করছি। তেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা কুফরিতে অটল মৃত ব্যক্তির তাওবাও কবুল করেন না। বস্তুতঃ আমি গুনাহের উপর অটল পাপী এবং কুফরির উপর অটল অবস্থায় মৃত্যু বরণকারীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَحِلُّ لَكُمۡ أَن تَرِثُواْ ٱلنِّسَآءَ كَرۡهٗاۖ وَلَا تَعۡضُلُوهُنَّ لِتَذۡهَبُواْ بِبَعۡضِ مَآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ إِلَّآ أَن يَأۡتِينَ بِفَٰحِشَةٖ مُّبَيِّنَةٖۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِن كَرِهۡتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡٔٗا وَيَجۡعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيۡرٗا كَثِيرٗا 19
১৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমাদের জন্য জায়িয হবে না সম্পদের ন্যায় তোমাদের বাপ-দাদা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্ত্রীদের ওয়ারিশ হওয়া। যার ফলে তোমরা তাদেরকে বিবাহ করবে অথবা যার সাথে চাও তার সাথে বিবাহ দিবে কিংবা তাদেরকে কারো সাথে বিবাহে বাধা দিবে। তেমনিভাবে তোমাদের জন্য জায়িয হবে না তোমাদের অপছন্দনীয় স্ত্রীদেরকে কষ্ট দেয়ার নিয়্যাতে নিজের অধীনে আটকে রাখা। যেন তারা তোমাদেরকে তাদেরকে দেয়া মোহরানা ইত্যাদির কিছু অংশ ফেরত দেয়। তবে তারা ব্যভিচারের ন্যায় সুস্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে তা ভিন্ন কথা। বস্তুতঃ তারা এমন করলে তাদেরকে নিজের অধীনে আটকে রেখে তাদেরকে কোনঠাসা করা জায়িয। যাতে তারা তোমাদের দেয়া মোহরানাটুকু তোমাদেরকে ফেরত দিয়ে তোমাদের অধীন থেকে নিজেদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। আর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো। তাদেরকে কষ্ট না দিয়ে বরং তাদের প্রতি দয়া করো। দুনিয়ার কোন কারণে তাদেরকে অপছন্দ করলেও তাদের প্রতি ধৈর্য ধারণ করো। আশা করা যায়, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অপছন্দের মধ্যেও দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনের বহু কল্যাণ রেখেছেন।
ক. ব্যভিচারের মতো অশ্লীলতা সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি মারাত্মক পাপ। এ জন্য এ ধরনের পাপীর শাস্তিও কঠিন।
খ. বান্দাহর প্রতি আল্লাহর প্রচুর দয়া ও রহমত। তাইতো তিনি প্রত্যেক পাপীর জন্য তাওবার দরজা খুলে দিয়েছেন। এমনকি তার জন্য এর উপকরণগুলোও সহজ করে দিয়েছেন। উপরন্তু তার এ পথচলায় তিনি তাকে সাহায্য করেন।
গ. যে ব্যক্তি ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে সে মূলতঃ এ ক্ষেত্রে যাঁর বিরুদ্ধাচরণ করছে তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে মূর্খ। এমনকি সে পাপের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া এবং তার কুফল সম্পর্কেও অজ্ঞ।
ঘ. পারিবারিক জীবন স্থিতিশীল হওয়ার একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে স্বামীর দৃষ্টিভঙ্গী অন্তত ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া। তার দৃষ্টিভঙ্গী যেন শুধু অপছন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং সে যেন কল্যাণকর বিষয়ের দিকেও তাকায়। হয়তো বা আল্লাহ তা‘আলা তাতে অনেক কল্যাণ রেখেছেন।