আল্লাহ যখন দাউদ ও তাঁর ছেলে সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম)এর উপর তাঁর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করলেন তখন সাবা সম্প্রদায়ের উপর তাঁর অনুগ্রহের কথাও উল্লেখ করলেন। তবে দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন। আর সাবা সম্প্রদায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করেনি। তাই তিনি বলেন:
لَقَدۡ كَانَ لِسَبَإٖ فِي مَسۡكَنِهِمۡ ءَايَةٞۖ جَنَّتَانِ عَن يَمِينٖ وَشِمَالٖۖ كُلُواْ مِن رِّزۡقِ رَبِّكُمۡ وَٱشۡكُرُواْ لَهُۥۚ بَلۡدَةٞ طَيِّبَةٞ وَرَبٌّ غَفُورٞ 15
১৫. সাবা সম্প্রদায়ের আবাসস্থলে আল্লাহর কুদরত ও তাদের উপর তাঁর অনুগ্রহের সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। আর তা হচ্ছে দুটি উদ্যান; যার একটি ডান দিকে আর অপরটি বাম দিকে। আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের জীবিকা ভক্ষণ করো, আর তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো। এটি হচ্ছে উত্তম নগরী। আর ইনি হচ্ছেন ক্ষমাশীল প্রতিপালক। যে তাঁর নিকট তাওবা করে তিনি তা কবুল করেন।
فَأَعۡرَضُواْ فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ سَيۡلَ ٱلۡعَرِمِ وَبَدَّلۡنَٰهُم بِجَنَّتَيۡهِمۡ جَنَّتَيۡنِ ذَوَاتَيۡ أُكُلٍ خَمۡطٖ وَأَثۡلٖ وَشَيۡءٖ مِّن سِدۡرٖ قَلِيلٖ 16
১৬. তারা আল্লাহর শুকরিয়া ও তদীয় রাসূলদের উপর ঈমান আনয়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখল। ফলে আমি তাদের নিয়ামতকে গজবে পরিবর্তন করে তাদেরকে শাস্তি দিলাম। তাদের উপর প্রচণ্ড স্রোত চালিয়ে দিলাম; যা তাদের বাঁধ ভেঙ্গে দিল ও ক্ষেত ডুবিয়ে দিল। আর তাদের দু’টি বাগানের পরিবর্তে এমন দু’টি বাগান দিলাম যেগুলো ফল উৎপন্ন করে। তবে তার স্বাদ তিতা। আর এতদুভয়ে রয়েছে ফল বিহীন ঝাউ গাছ ও কিছু বরই গাছ।
ذَٰلِكَ جَزَيۡنَٰهُم بِمَا كَفَرُواْۖ وَهَلۡ نُجَٰزِيٓ إِلَّا ٱلۡكَفُورَ 17
১৭. তাদের এই উপভোগকৃত নিয়ামতের পরিবর্তন এজন্য হল যে, তারা কুফরি ও আল্লাহর নিয়ামতের না শুকরী করেছে। বস্তুতঃ আমি এমন কঠোর শাস্তি মহান আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকারকারী ও কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কাউকে প্রদান করি না।
وَجَعَلۡنَا بَيۡنَهُمۡ وَبَيۡنَ ٱلۡقُرَى ٱلَّتِي بَٰرَكۡنَا فِيهَا قُرٗى ظَٰهِرَةٗ وَقَدَّرۡنَا فِيهَا ٱلسَّيۡرَۖ سِيرُواْ فِيهَا لَيَالِيَ وَأَيَّامًا ءَامِنِينَ 18
১৮. আর আমি ইয়ামানের সাবাবাসী ও সিরিয়ার গ্রামসমূহ যেগুলোতে আমি বরকত প্রদান করেছি সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে কিছু কাছাকাছি অবস্থানকারী গ্রাম স্থাপন করেছি এবং তার মাঝে ভ্রমণকে নির্ধারিত সময়সাপেক্ষ করেছি। ফলে তারা সহজে এক গ্রাম থেকে অপর গ্রামে ভ্রমণ করে সিরিয়া পর্যন্ত পৌঁছুতে পারে। আর আমি তাদেরকে বলেছি: তোমরা ইচ্ছামত শত্রু, ক্ষুৎপিপাসা থেকে নির্ভয়ে দিনে ও রাতে ভ্রমণ করো।
فَقَالُواْ رَبَّنَا بَٰعِدۡ بَيۡنَ أَسۡفَارِنَا وَظَلَمُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ فَجَعَلۡنَٰهُمۡ أَحَادِيثَ وَمَزَّقۡنَٰهُمۡ كُلَّ مُمَزَّقٍۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّكُلِّ صَبَّارٖ شَكُورٖ 19
১৯. তারা তাদের জন্য আল্লাহর প্রদত্ত দূরত্ব কমিয়ে আনার নিয়ামতকে বর্জন করল এবং বলল: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব গ্রামগুলোকে সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে আমাদের সফরের দূরত্বকে প্রলম্বিত করুন। যাতে আমরা ভ্রমণের কষ্ট অনুভব করতে পারি, আর আমাদের বাহনের গুণাগুণ প্রকাশ পায়। ফলে আল্লাহর নিয়ামতকে বর্জন ও শুকরিয়া আদায় না করা এবং তাদের মধ্যকার গরীবদের সাথে হিংসার মাধ্যমে তারা তাদের নফসের উপর জুলুম করল। তাই আমি তাদেরকে ইতিহাসে উল্লেখ করার মত অবস্থায় পৌঁছে দিলাম। পরবর্তী লোকেরা তাদের অবস্থা বর্ণনা করতে থাকল। আর আমি তাদেরকে দুনিয়াতে বহুদূর পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত করে দিলাম যে, কেউ কারো খবর পর্যন্ত জানার উপায় রইল না। এই সাবা সম্প্রদায়ের উপর অনুগ্রহ ও তাদের কুফরি এবং নিয়ামতের না শুকরির কারণে তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণে প্রত্যেক এমনসব ব্যক্তিদের জন্য উপদেশ রয়েছে যারা আল্লাহর আনুগত্যে, পাপ পরিহারে ও বিপদে ধৈর্যশীল।
وَلَقَدۡ صَدَّقَ عَلَيۡهِمۡ إِبۡلِيسُ ظَنَّهُۥ فَٱتَّبَعُوهُ إِلَّا فَرِيقٗا مِّنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ 20
২০. আর ইবলীস যে ধারণা করত যে, সে তাদেরকে হক থেকে পথভ্রষ্ট করবে তা তাদের উপর বাস্তবায়ন করেছে। ফলে তারা কুফরি ও ভ্রষ্টতায় তার অনুসরণ করেছে কেবল মুমিনদের কিছু সংখ্যক লোক ব্যতীত। কেননা, তারা তার আনুগত্য না করার মাধ্যমে তার আশা পূর্ণ হতে দেয়নি।
وَمَا كَانَ لَهُۥ عَلَيۡهِم مِّن سُلۡطَٰنٍ إِلَّا لِنَعۡلَمَ مَن يُؤۡمِنُ بِٱلۡأٓخِرَةِ مِمَّنۡ هُوَ مِنۡهَا فِي شَكّٖۗ وَرَبُّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٍ حَفِيظٞ 21
২১. তাদের উপর ইবলিসের এমন কোন শক্তি ছিল না যদ্বারা সে তাদেরকে পদানত করে পথভ্রষ্ট করতে পারতো। সে কেবল তাদেরকে চমক লাগাতো ও বিভ্রান্ত করতো। বরং আমি তাকে এই কাজের অনুমোদন দিয়েছি। যাতে আমি জানতে পারি যে, কে পরকাল ও এর প্রতিদানে বিশ্বাসী। আর কে সে ব্যাপারে সন্দিহান। আর হে রাসূল! আপনার প্রতিপালক সর্ব বিষয়ের সংরক্ষক। তিনি তাঁর বান্দাদের আমল সংরক্ষণ করেন ও এর প্রতিদান দিবেন।
قُلِ ٱدۡعُواْ ٱلَّذِينَ زَعَمۡتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ لَا يَمۡلِكُونَ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا لَهُمۡ فِيهِمَا مِن شِرۡكٖ وَمَا لَهُۥ مِنۡهُم مِّن ظَهِيرٖ 22
২২. হে রাসূল! এসব মুশরিকদেরকে বলে দিন, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে তোমাদের দেবতা বানিয়েছো তাদেরকে ডাকো। যেন তারা তোমাদের উপকার কিংবা অপকার সাধন করে। তারা আসমান-জমিনে এক তিল পরিমাণ কোন কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর তাদের জন্য তাতে আল্লাহর সাথে না কোন অংশীদার রয়েছে। আর না কোন সহযোগী। তিনি অংশিদার ও সহযোগী থেকে মুক্ত।
ক. শুকরিয়া আদায় নিয়ামত স্থায়ী থাকার উপায়। পক্ষান্তরে তা অমান্য করা নিয়ামত দূরীভূত করার নামান্তর।
খ. নিরাপত্তা বান্দাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ প্রদত্ত একটি মহা নিয়ামত।
গ. বিশুদ্ধ ঈমান আল্লাহর ইচ্ছায় শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষাকারী।
ঘ. শিরক ও তার সূত্রগুলোর বাতুলতা প্রকাশ পাওয়া। তথা এমন ধারণা পোষণ করা যে, দেবতাদের রাজত্ব, আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব, সহযোগিতা কিংবা সুপারিশ করার অধিকার রয়েছে।