ٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ يَعۡرِفُونَهُۥ كَمَا يَعۡرِفُونَ أَبۡنَآءَهُمۡۖ وَإِنَّ فَرِيقٗا مِّنۡهُمۡ لَيَكۡتُمُونَ ٱلۡحَقَّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ 146
১৪৬. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার যে আলিমদেরকে আমি কিতাবী জ্ঞান দিয়েছি তারা এ কথা নিশ্চয়ই জানে যে, ক্বিবলা পরিবর্তনের বিষয়টি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের একটি বিশেষ প্রমাণ। যেমনিভাবে তারা চিনে নিজের সন্তানকে এমনকি তাদেরকে অন্যদের থেকে পার্থক্য করতে পারে। এতদসত্ত্বেও তাদের একদল হিংসাবশতঃ সত্যকে লুকিয়ে রেখেছে। অথচ তারা জানে যে, এটি নিশ্চিত সত্য।
ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمُمۡتَرِينَ 147
১৪৭. হে রাসূল! এটি হলো আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি অকাট্য সত্য। অতএব, এটির সত্যতার ব্যাপারে আপনি এতটুকুও সন্দেহ করবেন না।
وَلِكُلّٖ وِجۡهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَاۖ فَٱسۡتَبِقُواْ ٱلۡخَيۡرَٰتِۚ أَيۡنَ مَا تَكُونُواْ يَأۡتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ 148
১৪৮. প্রত্যেক উম্মতেরই একটি দিক রয়েছে যেদিকে তারা ফিরে। চাই সেটি প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। এ জন্যই তারা ক্বিবলা ও আল্লাহর শরীয়ত নিয়ে মতপার্থক্য করে। তবে এটি কোন দোষের নয়, যদি এটি আল্লাহর আদেশ ও তাঁর শরীয়তের অধীন হয়। হে মু’মিনগণ! তাহলে তোমরা কল্যাণকর কাজের দিকে ধাবিত হও যার আদেশ তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে যে কোন জায়গা থেকে একত্রিত করবেন। অতঃপর তিনি তোমাদের আমলের প্রতিদান দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। তাই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে একত্রিত করা ও আমলের প্রতিদান দেয়া তাঁর জন্য কোন ব্যাপারই নয়।
وَمِنۡ حَيۡثُ خَرَجۡتَ فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۖ وَإِنَّهُۥ لَلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ 149
১৪৯. হে নবী! আপনি ও আপনার অনুসারীরা যেখান থেকেই বের হোন না কেন কিংবা যেখানেই থাকুন না কেন যখনই নামায আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করবেন তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ ফিরাবেন। কারণ, সেটিই সত্য যা আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট ওহি করা হয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গাফিল নন। বরং তিনি তা সবই দেখছেন এবং অচিরেই তার প্রতিদান দিবেন।
وَمِنۡ حَيۡثُ خَرَجۡتَ فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيۡكُمۡ حُجَّةٌ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنۡهُمۡ فَلَا تَخۡشَوۡهُمۡ وَٱخۡشَوۡنِي وَلِأُتِمَّ نِعۡمَتِي عَلَيۡكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ 150
১৫০. হে নবী! আপনি যেখান থেকেই বের হোন না কেন। যখনই আপনি নামায পড়ার ইচ্ছা করবেন তখনই আপনি মসজিদুল-হারামমুখী হন। আর হে মু’মিনরা! তোমরা যেখানেই থাকো না কেন যখন তোমরা নামায পড়ার ইচ্ছা করবে তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ ফিরাবে। যেন লোকেরা তোমাদের বিপক্ষে কোন দলীল সাব্যস্ত করতে না পারে। তবে যারা যালিম তারা তো সর্বদা হঠকারিতা দেখাতেই থাকবে। তারা যে কোন দুর্বল দলীলের মাধ্যমে তোমাদেরকে চ্যালেঞ্জ করবে। তাই তোমরা তাদেরকে ভয় পেয়ো না। বরং তোমরা একমাত্র তোমাদের প্রতিপালককেই ভয় করো। তাঁর আদেশ মান্য করো এবং তাঁর নিষেধকৃত বস্তু থেকে দূরে থাকো। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কা’বার দিকে ফিরার বিধান এ জন্যই করেছেন যেন তিনি তোমাদের উপর তাঁর নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দেন। যেন তোমরা বিশেষ ও সম্মানজনক ক্বিবলা পেতে পারো।
كَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِيكُمۡ رَسُولٗا مِّنكُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمۡ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمۡ تَكُونُواْ تَعۡلَمُونَ 151
১৫১. যেমনিভাবে আমি তোমাদেরকে আরেকটি নিয়ামত দিয়েছি যে, আমি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি। যিনি তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পড়ে শুনাবেন। তোমাদেরকে নেক ও ফযীলতের আদেশ এবং বদ ও নিকৃষ্ট কাজ থেকে নিষেধের মাধ্যমে পবিত্র করে দিবেন। তেমনিভাবে তিনি তোমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিখাবেন। আর তিনি তোমাদেরকে নিজেদের দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে তাও শিখাবেন যা তোমরা জানতে না।
فَٱذۡكُرُونِيٓ أَذۡكُرۡكُمۡ وَٱشۡكُرُواْ لِي وَلَا تَكۡفُرُونِ 152
১৫২. তাই তোমরা অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করো। আমিও তোমাদেরকে প্রশংসা ও হিফাযতের মাধ্যমে স্মরণ করবো। কারণ, প্রতিদান আমল মাফিকই হয়ে থাকে। আর তোমরা আমার দেয়া নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করো। সেগুলোকে অস্বীকার করে কিংবা হারাম পথে ব্যবহার করে কখনো আমার অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ 153
১৫৩. হে ঈমানদাররা! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে আমার আনুগত্যের উপর অটল থাকো এবং আমার আদেশ মান্য করার ক্ষেত্রে সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ধৈর্যশীলদের সাথেই রয়েছেন। তিনি তাদেরকে নেক কাজের তাওফীক দিবেন ও তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।
ক. ক্বিবলা পরিবর্তনের ব্যাপারে খুব দীর্ঘ কথা বলা হয়েছে। কারণ, এতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের প্রমাণ রয়েছে।
খ. ঝগড়া না করে আল্লাহর আনুগত্য নিয়ে ব্যস্ত হওয়া এবং তাঁর দিকে দ্রুত ধাবমান হওয়া একজন মু’মিনের জন্য তাঁর প্রতিপালকের নিকট কিয়ামতের দিন খুবই লাভজনক।
গ. বস্তুতঃ আল্লাহর নৈকট্য লাভের নেক আমল বহু রকম। তাই একজন মু’মিনের উচিৎ আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশায় সেগুলো সম্পাদনে দ্রুত ধাবিত হওয়া।
ঘ. আল্লাহর যিকিরের মর্যাদা খুবই বেশি। কারণ, তার প্রতিদানে ফিরিশতাদের নিকট উক্ত বান্দাকে নিয়ে প্রশংসামূলক আলোচনা করা হয়।