وَمِنَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّا نَصَٰرَىٰٓ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَهُمۡ فَنَسُواْ حَظّٗا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِۦ فَأَغۡرَيۡنَا بَيۡنَهُمُ ٱلۡعَدَاوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ إِلَىٰ يَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَسَوۡفَ يُنَبِّئُهُمُ ٱللَّهُ بِمَا كَانُواْ يَصۡنَعُونَ 14
১৪. যেভাবে আমি ইহুদিদের থেকে মজবুত ও দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছি তেমনিভাবে আমি ওদের থেকেও অঙ্গীকার নিয়েছি যারা ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম) এর অনুসারী বলে নিজেদের পবিত্রতা বর্ণনা করেছে; অথচ তারা স্মৃত বিধানের কিছু অংশের উপর আমল ছেড়ে দিয়েছে। যেমন তাদের পূর্বেকার ইহুদিরা করেছে। ফলে আমি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের মাঝে ঝগড়া ও কঠিন ঘৃণা বৃদ্ধি করে দিয়েছি। তাই তারা পরস্পর হত্যা ও সংঘর্ষকারীর রূপ ধারণ করে একে অপরকে কাফির বলছে। আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের সংবাদ ও সেই ভিত্তিতে তাদের প্রতিদান দিবেন।
আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাব ও তাদের থেকে নেয়া অঙ্গীকার ভঙ্গের কথা উল্লেখ করার পর তাদেরকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর ঈমান আনার আদেশ করে বলেন:
يَٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ قَدۡ جَآءَكُمۡ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمۡ كَثِيرٗا مِّمَّا كُنتُمۡ تُخۡفُونَ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَيَعۡفُواْ عَن كَثِيرٖۚ قَدۡ جَآءَكُم مِّنَ ٱللَّهِ نُورٞ وَكِتَٰبٞ مُّبِينٞ 15
১৫. হে তাওরাত ধারণকারী ইহুদি ও ইঞ্জীলধারণকারী খ্রিস্টান আহলে কিতাব! নিশ্চয়ই আমার রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের নিকট এসেছেন। যিনি তোমাদের জন্য তোমাদের উপর অবতীর্ণ কিতাবের গোপন অনেক কিছুই বর্ণনা করবেন। তবে যেগুলোতে তোমাদের মানহানি করা ছাড়া অন্য কোন ফায়েদা নেই এমন অনেক কিছুই তিনি এড়িয়ে যাবেন। তোমাদের নিকট কুরআন মাজীদ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কিতাব হিসেবেই এসেছে। যা দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন সেগুলোর একটি সুস্পষ্ট কিতাব ও আলোকময় জ্যোতি।
يَهۡدِي بِهِ ٱللَّهُ مَنِ ٱتَّبَعَ رِضۡوَٰنَهُۥ سُبُلَ ٱلسَّلَٰمِ وَيُخۡرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ بِإِذۡنِهِۦ وَيَهۡدِيهِمۡ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ 16
১৬. আল্লাহ তা‘আলা এ কিতাবের মাধ্যমে ওদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে মুক্তির পথ দেখান যারা ঈমান ও আল্লাহর পছন্দীয় নেক আমলের অনুসরণ করে। এমন পথ যা জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাদেরকে কুফরি ও গুনাহর অন্ধকার থেকে ঈমান ও আনুগত্যের আলোর দিকে বের করে নিয়ে আসে। উপরন্তু তিনি তাদেরকে ইসলামের সরল ও সোজা পথে চলার তাওফীক দেন।
لَّقَدۡ كَفَرَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلۡمَسِيحُ ٱبۡنُ مَرۡيَمَۚ قُلۡ فَمَن يَمۡلِكُ مِنَ ٱللَّهِ شَيًۡٔا إِنۡ أَرَادَ أَن يُهۡلِكَ ٱلۡمَسِيحَ ٱبۡنَ مَرۡيَمَ وَأُمَّهُۥ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗاۗ وَلِلَّهِ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَاۚ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ 17
১৭. “নিশ্চয়ই মাসীহ ‘ঈসা ইবনু মারইয়ামই হলেন স্বয়ং আল্লাহ” এর প্রবক্তা খ্রিস্টানরা কাফির হয়ে গেছে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলুন: আল্লাহ তা‘আলা যদি মাসীহ ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম, তাঁর মা এবং দুনিয়ার সকলকে ধ্বংস করার ইচ্ছা পোষণ করেন তাহলে কে আছে এমন যে আল্লাহ তা‘আলাকে এ কাজে বাধা দিতে সক্ষম?! যদি কেউ তাঁকে এ কাজে বাধা দিতে সক্ষমই না হয়ে থাকে তাহলে তা এটাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আর ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম, তাঁর মা এবং দুনিয়ার সকল সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহরই সৃষ্টি। আকাশ-জমিন ও এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে এসবের মালিকানা একমাত্র আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন সেগুলোর মধ্যকার অন্যতম হলেন ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম)। তাই তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুই করতে সক্ষম।
ক. আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ও অঙ্গীকার অনুযায়ী আমল না করা কখনো কখনো আল্লাহর আদেশ বিরোধীদের মাঝে শত্রুতা, বিদ্বেষ, ঘৃণা ও হত্যাকাণ্ডের জন্ম দেয়।
খ. সেই খ্রিস্টানদের জবাব যারা বলে: আল্লাহ তা‘আলা মাসীহ (আলাইহিস-সালাম) এর শরীরে প্রবেশ করেছেন। উপরন্তু তাদের কথার ভ্রষ্টতা ও কুফরির বর্ণনা।
গ. মাসীহ (আলাইহিস-সালাম) এর ইলাহ হওয়ার ব্যাপারটি বাতিল হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো আল্লাহ তা‘আলা যদি চান মাসীহ (আলাইহিস-সালাম), তাঁর মা ও সকল দুনিয়াবাসীকে ধ্বংস করে দিতে তাহলে কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। এটি আদেশের ক্ষেত্রে আল্লাহর একক হওয়া এবং তিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ না থাকাই প্রমাণ করে।
ঘ. মাসীহ (আলাইহিস-সালাম) এর ইলাহ হওয়ার ব্যাপারটি বাতিল হওয়ার আরেকটি অন্যতম প্রমাণ হলো আল্লাহ তা‘আলা এ কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি মাতা-পিতা উভয় থেকে সৃষ্টি করেন। তেমনিভাবে পিতা ছাড়া মা থেকেও সৃষ্টি করেন যেমন: ‘ঈসা (আলাইহিস-সালাম)। আবার তিনি জড় পদার্থ থেকেও সৃষ্টি করেন যেমন: মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর সাপ। তেমনিভাবে তিনি মহিলা ছাড়া পুরুষ থেকেও সৃষ্টি করেন যেমন: আদম (আলাইহিস-সালাম) থেকে হাওয়া।