۞يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُونُواْ قَوَّٰمِينَ بِٱلۡقِسۡطِ شُهَدَآءَ لِلَّهِ وَلَوۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ أَوِ ٱلۡوَٰلِدَيۡنِ وَٱلۡأَقۡرَبِينَۚ إِن يَكُنۡ غَنِيًّا أَوۡ فَقِيرٗا فَٱللَّهُ أَوۡلَىٰ بِهِمَاۖ فَلَا تَتَّبِعُواْ ٱلۡهَوَىٰٓ أَن تَعۡدِلُواْۚ وَإِن تَلۡوُۥٓاْ أَوۡ تُعۡرِضُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٗا 135
১৩৫. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা সর্বাবস্থায় ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। সবার ব্যাপারে সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করো। যদিও তা নিজেদের ও নিজেদের পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে সত্যকে স্বীকার করাটাই চায়। কারো দরিদ্রতা অথবা স্বচ্ছলতা যেন সাক্ষ্য আদায় বা তা পরিত্যাগে উৎসাহিত না করে। বস্তুতঃ আল্লাহই তোমাদের চেয়ে ধনী ও গরিবের বেশি নিকটবর্তী এবং তাদের সুবিধাদি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাই তোমরা নিজেদের সাক্ষ্যর ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। যাতে তোমরা সেখানে সত্যকে এড়িয়ে না যাও। যদি তোমরা যথোপযুক্তভাবে সাক্ষ্যটিকে আদায় না করে তাকে বিকৃত করো অথবা তা আদায় করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ ءَامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ مِن قَبۡلُۚ وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلَٰلَۢا بَعِيدًا 136
১৩৬. হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং যে কুরআনকে আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন উপরন্তু যে কিতাবগুলোকে তিনি তাঁর পূর্বেকার রাসূলদের উপর নাযিল করেছেন সেগুলোর উপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে সর্বদা অটল থাকো। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ এবং তাঁর কিতাবসমূহ ও পরকালকে অস্বীকার করে সে মূলতঃ সঠিক রাস্তা থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ثُمَّ كَفَرُواْ ثُمَّ ءَامَنُواْ ثُمَّ كَفَرُواْ ثُمَّ ٱزۡدَادُواْ كُفۡرٗا لَّمۡ يَكُنِ ٱللَّهُ لِيَغۡفِرَ لَهُمۡ وَلَا لِيَهۡدِيَهُمۡ سَبِيلَۢا 137
১৩৭. নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর বারবার কুফরি করেছে তথা ঈমানের ছায়াতলে প্রবেশ করে তা থেকে আবার ফিরে এসেছে অতঃপর তাতে প্রবেশ করে আবারো তা থেকে ফিরে এসেছে এবং কুফরির উপর অটল থেকে তার উপর মৃত্যু বরণ করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করবেন না, না তাদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিবেন যা তাঁর পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবে।
بَشِّرِ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ بِأَنَّ لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمًا 138
১৩৮. হে রাসূল! আপনি যারা কুফরিকে লুকিয়ে ঈমানকে প্রকাশ করে এমন মুনাফিকদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য কিয়ামতের দিন রয়েছে আল্লাহর নিকট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
ٱلَّذِينَ يَتَّخِذُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۚ أَيَبۡتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلۡعِزَّةَ فَإِنَّ ٱلۡعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعٗا 139
১৩৯. উক্ত আযাবটি এ জন্য যে, তারা মু’মিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফিরদেরকে সাহায্যকারী ও সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছে। খুবই আশ্চর্যজনক সে ব্যাপারটি যা তাদেরকে ওদের বন্ধু বানিয়েছে। তারা কি ওদের নিকট শক্তি ও প্রতিরক্ষা চায়, যার মাধ্যমে তারা উচ্চ সম্মানিত হবে?! অথচ শক্তি ও প্রতিরক্ষা সবই আল্লাহর জন্য।
وَقَدۡ نَزَّلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ أَنۡ إِذَا سَمِعۡتُمۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ يُكۡفَرُ بِهَا وَيُسۡتَهۡزَأُ بِهَا فَلَا تَقۡعُدُواْ مَعَهُمۡ حَتَّىٰ يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيۡرِهِۦٓ إِنَّكُمۡ إِذٗا مِّثۡلُهُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ جَامِعُ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ وَٱلۡكَٰفِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا 140
১৪০. হে মু’মিনরা! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর কুরআনুল-কারীমে এ ব্যাপারটি নাযিল করেছেন যে, তোমরা কোন মজলিসে বসে এমন লোকের কথা শুনতে পেলে যে আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি ও সেগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা করে তখন তাদের মজলিসে না বসে সেখান থেকে সরে যাওয়া বাধ্যতামূলক। যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি ও সেগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা করা ছাড়া অন্য কথা বলে। তোমরা এটা শুনার পরও তাদের সাথে বসলে তোমরা তাদের মতোই আল্লাহর আদেশ অমান্য করলে। কারণ, তোমরাও তাদের সাথে বসে তাদের মতো আল্লাহর অবাধ্য হলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই কুফরিকে লুকিয়ে ইসলাম প্রকাশকারী মুনাফিকদেরকে কিয়ামতের দিন কাফিরদের সাথে জাহান্নামের আগুনে একত্রিত করবেন।
ক. মানুষের মাঝে ফয়সালা ও সাক্ষ্য আদায়ের সময় ন্যায়পরায়ণতা বাধ্যতামূলক। যদিও সত্যটি নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের কারো বিপরীত হয়।
খ. মু’মিনের কর্তব্য হলো অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের এমন আমল করা যা তার ঈমানকে বাড়িয়ে দিবে এবং তার অন্তরে তাকে প্রোথিত করবে।
গ. ইসলাম ও মুসলমানদের উপর মুনাফিকদের কঠিন ভয়াবহতা। এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পরকালে কঠিন শাস্তির হুমকি দিয়েছেন।
ঘ. যখন কোন মু’মিন আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর শরীয়ত নিয়ে কটাক্ষকারীকে প্রতিরোধ করতে না পারে তখন তার জন্য এ অবস্থায় ওর সাথে বসা জায়িয হবে না।