وَإِنِ ٱمۡرَأَةٌ خَافَتۡ مِنۢ بَعۡلِهَا نُشُوزًا أَوۡ إِعۡرَاضٗا فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡهِمَآ أَن يُصۡلِحَا بَيۡنَهُمَا صُلۡحٗاۚ وَٱلصُّلۡحُ خَيۡرٞۗ وَأُحۡضِرَتِ ٱلۡأَنفُسُ ٱلشُّحَّۚ وَإِن تُحۡسِنُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٗا 128
১২৮. যদি কোন মহিলা তার স্বামীর পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে কোন ধরনের অনীহা ও নিরুৎসাহিতার আশঙ্কা করে তাহলে পরস্পর সমঝোতা করায় তাদের কোন গুনাহ হবে না। তথা সে তার কিছু ওয়াজিব অধিকার ছেড়ে দিবে। যেমন: খোরপোষ ও রাত্রি যাপনের অধিকার। এ ক্ষেত্রে সমঝোতা করাই তাদের জন্য অনেক উত্তম তালাকের চেয়ে। বস্তুতঃ লোভ ও কৃপণতা দিয়েই মানুষের মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। তাই সে কখনো নিজের অধিকার ছাড়তে চায় না। এ জন্য স্বামী-স্ত্রীকে অবশ্যই নিজেদেরকে দয়া ও ছাড়ের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে এ চরিত্রের চিকিৎসা করতে হবে। যদি তোমরা সকল ক্ষেত্রে দয়ার পরিচয় দাও এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।
وَلَن تَسۡتَطِيعُوٓاْ أَن تَعۡدِلُواْ بَيۡنَ ٱلنِّسَآءِ وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡۖ فَلَا تَمِيلُواْ كُلَّ ٱلۡمَيۡلِ فَتَذَرُوهَا كَٱلۡمُعَلَّقَةِۚ وَإِن تُصۡلِحُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا 129
১২৯. হে স্বামীরা! তোমরা কখনো বিপুল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও হৃদয়ের আকর্ষণের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মাঝে পরিপূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এমন কিছু কারণে যা সাধারণত তোমাদের ইচ্ছার বাইরে। তাই তোমরা যাকে ভালোবাসো না তার থেকে পরিপূর্ণভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাকে ঝুলিয়ে রাখা বস্তুর ন্যায় পরিত্যাগ করো না। না তার কোন স্বামী আছে যে তার অধিকার আদায় করবে। না তার কোন স্বামী নেই তাই সে বিবাহের জন্য উৎসুকা থাকবে। আর যদি তোমরা নিজেদের ব্যাপারগুলো সংশোধন করে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে নিজেদেরকে বাধ্য এবং সে ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করতে পারো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের উপর অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغۡنِ ٱللَّهُ كُلّٗا مِّن سَعَتِهِۦۚ وَكَانَ ٱللَّهُ وَٰسِعًا حَكِيمٗا 130
১৩০. যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তালাক অথবা খোলার মাধ্যমে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রত্যেককে তাঁর প্রশস্ত করুণায় অন্যের প্রতি অমুখাপেক্ষী করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা প্রশস্ত করুণা ও দয়ার মালিক। তাঁর তাকদীর ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।
وَلِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَلَقَدۡ وَصَّيۡنَا ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكُمۡ وَإِيَّاكُمۡ أَنِ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ وَإِن تَكۡفُرُواْ فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَنِيًّا حَمِيدٗا 131
১৩১. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ, জমিন ও এতুদভয়ের সবকিছুই তার মালিকানা। আমি আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টান এবং তোমাদের থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলবে। উক্ত অঙ্গীকার অস্বীকার করলে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবে। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের আনুগত্যের অমুখাপেক্ষী। কারণ, আকাশ ও জমিনের সবই তাঁর মালিকানাধীন। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি অমুখাপেক্ষী। তাঁর সকল কর্ম ও গুণাবলীতে তিনি সত্যিই প্রশংসিত।
وَلِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًا 132
১৩২. একমাত্র আল্লাহর জন্যই আকাশ ও জমিনে যা কিছু আছে তার মালিকানা। তিনিই আনুগত্যের উপযুক্ত। তাঁর সৃষ্টির সকল বিষয়াদির পরিচালনায় অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
إِن يَشَأۡ يُذۡهِبۡكُمۡ أَيُّهَا ٱلنَّاسُ وَيَأۡتِ بَِٔاخَرِينَۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلَىٰ ذَٰلِكَ قَدِيرٗا 133
১৩৩. হে মানুষ! তিনি চাইলেই তোমাদেরকে ধ্বংস করে অন্যদেরকে নিয়ে আসবেন। যারা আল্লাহর আনুগত্য করবে এবং তাঁর অবাধ্য হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তা করতে সক্ষম।
مَّن كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ ٱلدُّنۡيَا فَعِندَ ٱللَّهِ ثَوَابُ ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ سَمِيعَۢا بَصِيرٗا 134
১৩৪. হে মানুষ! তোমাদের কেউ নিজ আমলের মাধ্যমে শুধু দুনিয়ার প্রতিদান চাইলে সে যেন জেনে রাখে, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান। তাই তাঁর কাছ থেকেই সেগুলোর প্রতিদান কামনা করতে হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সব কথাই শুনছেন এবং তোমাদের সকল কাজই দেখছেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে এগুলোর প্রতিদান দিবেন।
ক. দ্বন্দ্বের সময় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমঝোতা করা মুস্তাহাব। কিছু অধিকার ছাড়ের মাধ্যমে মৌলিক সুবিধার অগ্রাধিকার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে স্থায়ী করে।
খ. আল্লাহ তা‘আলা স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ করা ওয়াজিব করে দিয়েছেন। বিশেষ করে আর্থিক বিষয়াদিতে যা স্বামীদের সক্ষমতার অধীন। তবে ভিতরগত বিষয়াদিতে ইনসাফ করা অসম্ভব হলে শরীয়ত সেখানে ছাড় দিয়েছে। যেমন: ভালোবাসা ও আন্তরিক আকর্ষণ।
গ. স্বামী-স্ত্রীর একসাথে জীবন যাপন অসম্ভব হলে তাদের মাঝে সম্পর্কচ্ছিন্নতায় কোন সমস্যা নেই।
ঘ. শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য একটি সামগ্রিক অসিয়ত হলো আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করার আদেশ।