يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ وَ لَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن يَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِيهِ مَيۡتٗا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٞ رَّحِيمٞ 12
১২. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর শরীয়তের উপর আমলকারীরা! তোমরা কোন ধরনের কারণ ও লক্ষণ ব্যতিরেকে বেশী বেশী কুধারণা থেকে বিরত থাকো। কেননা, কিছু কিছু ধারণা পাপ। বিশেষ করে যার বাহ্যিক আচরণ ভালো তার ব্যাপারে কুধারণা রাখা পাপ। তোমরা পেছন থেকে মু’মিনদের ছিদ্রান্বেষণ করো না। আরো বিরত থাকো কারো অপছন্দের কথা তার পেছনে উল্লেখ তথা গীবত করা থেকে। কেননা, এর উদাহরণ হলো নিজ ভাইয়ের মরা লাশের মাংস ভক্ষণের ন্যায়। কেউ কি তার ভাইয়ের মরা লাশের মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করে? অতএব, তার গীবত করাকেও অপছন্দ করো। কেননা, এটি এর মতোই। আর তোমরা আল্লাহকে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে ভয় করো। অবশ্যই আল্লাহ তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তিনি তাদেরকে দয়া করেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّا خَلَقۡنَٰكُم مِّن ذَكَرٖ وَأُنثَىٰ وَجَعَلۡنَٰكُمۡ شُعُوبٗا وَقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوٓاْۚ إِنَّ أَكۡرَمَكُمۡ عِندَ ٱللَّهِ أَتۡقَىٰكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٞ 13
১৩. হে মানব সম্প্রদায়! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ তথা তোমাদের পিতা আদম ও একজন নারী তথা তোমাদের মাতা হাওয়া (আলাইহিমাস-সালাম) থেকে সৃষ্টি করেছি। ফলে তোমাদের বংশ এক। তাই বংশ নিয়ে কেউ কারো সাথে যেন অহংকার না করে। অতঃপর তোমাদেরকে বহু জাতি ও বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করা হয়েছে। যেন একে অপরকে চিনতে পারো; পরস্পর অহংকারের জন্য নয়। কেননা, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। তাই তিনি বলেছেন “অবশ্যই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই বেশী সম্মানী যে যতো বেশী আল্লাহভীরু। অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে অবগত। এমন কি তোমাদের পূর্ণতা কিংবা অপূর্ণতার খবরও তিনি রাখেন। তাঁর নিকট এ সবের কোন কিছুই গোপন থাকে না।
۞قَالَتِ ٱلۡأَعۡرَابُ ءَامَنَّاۖ قُل لَّمۡ تُؤۡمِنُواْ وَلَٰكِن قُولُوٓاْ أَسۡلَمۡنَا وَلَمَّا يَدۡخُلِ ٱلۡإِيمَٰنُ فِي قُلُوبِكُمۡۖ وَإِن تُطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ لَا يَلِتۡكُم مِّنۡ أَعۡمَٰلِكُمۡ شَيًۡٔاۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌ 14
১৪. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট কিছু গ্রাম্য লোক এসে বললো, আমরা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান এনেছি। হে রাসূল! আপনি তাদের উদ্দেশ্যে বলুন: তোমরা ঈমান আনো নি। বরং তোমরা বলো: আমরা নতি ও আনুগত্য স্বীকার করেছি মাত্র। বস্তুতঃ এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করে নি। তবে আশা করা যায় যে, তা প্রবেশ করবে। হে বেদুইনরা! তোমরা যদি ঈমান আনো, নেক আমল করো এবং হারাম বস্তু থেকে বিরত থাকার কাজে আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের আনুগত্য করো তাহলে আল্লাহ তোমাদের আমলের প্রতিদান থেকে কোন কিছুই কমাবেন না। আল্লাহ তাঁর তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও অতি দয়াপরবশ।
إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ لَمۡ يَرۡتَابُواْ وَجَٰهَدُواْ بِأَمۡوَٰلِهِمۡ وَأَنفُسِهِمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ 15
১৫. মু’মিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের উপর ঈমান এনেছে। অতঃপর তাদের ঈমানকে সন্দেহের সাথে মিশ্রণ ঘটায়নি এবং নিজেদের জান, মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করতে কিছুতেই কার্পণ্য করে নি এ সব গুণে গুণান্বিতরা সত্যিকার ঈমানদার।
قُلۡ أَتُعَلِّمُونَ ٱللَّهَ بِدِينِكُمۡ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ 16
১৬. হে রাসূল! আপনি এ সব বেদুইনকে বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান ও এর ধারণা দিতে চাও?! অথচ আল্লাহ আসমান ও জমিনের সব কিছুরই খবর জানেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে অবগত। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন থাকে না। ফলে তিনি তোমাদের দ্বীনদারী সম্পর্কে অবগতির মুখাপেক্ষী নন।
يَمُنُّونَ عَلَيۡكَ أَنۡ أَسۡلَمُواْۖ قُل لَّا تَمُنُّواْ عَلَيَّ إِسۡلَٰمَكُمۖ بَلِ ٱللَّهُ يَمُنُّ عَلَيۡكُمۡ أَنۡ هَدَىٰكُمۡ لِلۡإِيمَٰنِ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ 17
১৭. হে রাসূল! এ সব বেদুইন ইসলামে দীক্ষিত হওয়াতে আপনার উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করছে। আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহর দ্বীনে দীক্ষিত হওয়াতে আমার উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করো না। কেননা, এতে কোন উপকার হলে তোমাদেরই হবে। বরং তোমরা যদি নিজেদের দাবি অনুযায়ী প্রকৃতই ইসলামে দীক্ষিত হয়ে থাকো তাহলে আল্লাহই তোমাদের উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন। কেননা, তিনিই তোমাদেরকে সে জন্য তাওফীক দিয়েছেন।
إِنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ غَيۡبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَٱللَّهُ بَصِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ 18
১৮. আল্লাহ আসমান ও জমিনের গায়েবজান্তা। তাঁর নিকট এ সবের কোন কিছুই গোপন থাকে না। আর তোমরা যা কিছু করো তিনি সবই দেখে থাকেন। তাঁর নিকট তোমাদের কোন কাজই গোপন থাকে না এবং অচিরেই তিনি এর ভালো-মন্দের প্রতিদান দিবেন।
ক. ভালো মানুষদের ব্যাপারে কুধারণা পোষণ করা পাপের কাজ। তবে পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে কুধারণা করে তাদের থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য।
খ. মানব শ্রেণীর মূল এক হওয়া বংশ নিয়ে পরস্পর গর্ব প্রদর্শন প্রত্যাখ্যান করার দাবি রাখে।
গ. ঈমান বিশ্বাস বিহীন উচ্চারণের নাম নয়। বরং তা অন্তরের বিশ্বাস, জিহ্বার উচ্চারণ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলকে বুঝায়।
ঘ. তাওফীক সম্বলিত হেদায়েত কেবল আল্লাহর হাতে। এটি তাঁরই অনুগ্রহ। এটি অন্য কারো অধিকার নয়।