وَيَتَجَنَّبُهَا ٱلۡأَشۡقَى 11
১১. আর কাফির ব্যক্তি উপদেশ থেকে দূরে পালিয়ে বেড়ায়। কেননা, সে জাহান্নামে প্রবেশের ফলে পরকালে সর্বাপেক্ষা বড় হতভাগা।
ٱلَّذِي يَصۡلَى ٱلنَّارَ ٱلۡكُبۡرَىٰ 12
১২. যে ব্যক্তি জাহান্নামের মহা অগ্নিতে প্রবেশ করবে সে তার উত্তাপ আস্বাদন করবে এবং তাতে সর্বদা কষ্ট পোহাবে।
ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحۡيَىٰ 13
১৩. অতঃপর সে আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। সেখানে মৃত্যু বরণ করার মাধ্যমে সে তা থেকে রেহাই পাবে না। না তথায় পবিত্র ও সম্মানজনক আয়ু পেয়ে জীবন যাপন করবে।
قَدۡ أَفۡلَحَ مَن تَزَكَّىٰ 14
১৪. নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি নিজ উদ্দেশ্যে সফলতা অর্জন করেছে যে শিরক ও পাপাচার থেকে পবিত্রতা লাভ করেছে।
وَذَكَرَ ٱسۡمَ رَبِّهِۦ فَصَلَّىٰ 15
১৫. আর স্বীয় রবকে তাঁর পক্ষ থেকে বিধিবদ্ধ বিভিন্ন প্রকার যিকিরের মাধ্যমে স্মরণ করে এবং পছন্দসই পদ্ধতি অনুযায়ী নামায সম্পাদন করে।
بَلۡ تُؤۡثِرُونَ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا 16
১৬. বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে পরকালের জীবনের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকো। অথচ উভয়ের মধ্যে রয়েছে ঢের তফাত।
وَٱلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓ 17
১৭. নিশ্চয়ই পরকাল দুনিয়া ও তথাকার ভোগসামগ্রী অপেক্ষা উত্তম ও স্থায়ী। কেননা, তাতে যে সব নিয়ামত রয়েছে তা আদৌ শেষ হওয়ার নয়।
إِنَّ هَٰذَا لَفِي ٱلصُّحُفِ ٱلۡأُولَىٰ 18
১৮. তোমাদের উদ্দেশ্যে আমি যে সব নির্দেশ ও সংবাদ উল্লেখ করেছি তা কুরআনের পূর্বেকার পুস্তিকাসমূহে উল্লেখিত রয়েছে।
صُحُفِ إِبۡرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ 19
১৯. যেগুলো হলো ইব্রাহীম ও মূসা (আলাইহিমাস-সালাম)এর উপর নাযিলকৃত পুস্তিকাসমূহ।
سورة মাক্কী
পরকালের সাওয়াব ও শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং আল্লাহর কুদরতের দলীলসমূহ পর্যবেক্ষণ।
هَلۡ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلۡغَٰشِيَةِ 1
১. হে রাসূল! আপনার নিকট কি কিয়ামতের সেই বর্ণনার কথা এসেছে যা মানুষকে নিজ ভয়াবহতা দিয়ে আচ্ছন্ন করে ফেলবে?!
وُجُوهٞ يَوۡمَئِذٍ خَٰشِعَةٌ 2
২. কিয়ামত দিবসে মানুষ কিংবা সৌভাগ্যবান হবে। নচেৎ দুর্ভাগ্যবান হবে। ফলে হতভাগাদের মুখমণ্ডল হবে অপমানিত।
عَامِلَةٞ نَّاصِبَةٞ 3
৩. শিকল ও লাগাম দিয়ে টেনে আনার ফলে সেগুলো হবে ক্লান্ত-ক্লিষ্ট।
تَصۡلَىٰ نَارًا حَامِيَةٗ 4
৪. তারা জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করবে। তথায় তারা এর উত্তাপ আস্বাদন করবে।
تُسۡقَىٰ مِنۡ عَيۡنٍ ءَانِيَةٖ 5
৫. তাদেরকে ফুটন্ত পানির ঝর্না থেকে পান করানো হবে।
لَّيۡسَ لَهُمۡ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٖ 6
৬. তাদেরকে খাদ্য হিসাবে শিবরিক নামীয় নোংরা ও দুর্গন্ধময় তৃণলতা যা শুকিয়ে গেলে বিষাক্ত হয়ে যায় তা ব্যতীত অন্য কোন খাবার দেয়া হবে না।
لَّا يُسۡمِنُ وَلَا يُغۡنِي مِن جُوعٖ 7
৭. তা ভক্ষণকারীকে পুষ্ট করবে না, না তার ক্ষুধা নিবারণ করবে।
وُجُوهٞ يَوۡمَئِذٖ نَّاعِمَةٞ 8
৮. সেদিন ভোগসামগ্রী উপভোগের ফলে সৌভাগ্যবানদের মুখমণ্ডল হবে আনন্দোজ্জ্বল।
لِّسَعۡيِهَا رَاضِيَةٞ 9
৯. তারা দুনিয়াতে কৃত নিজেদের সৎকর্মের প্রতি থাকবে সন্তুষ্টচিত্ত। কেননা, তারা নিজেদের আমলের প্রতিদান বর্ধিত আকারে সংরক্ষিত পাবে।
فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٖ 10
১০. এমন জান্নাতে যা মান ও অবস্থানের দিক থেকে খুবই উন্নত।
لَّا تَسۡمَعُ فِيهَا لَٰغِيَةٗ 11
১১. জান্নাতে হারাম তো দূরের কথা আপনি সেখানে কোন অমূলক কিংবা অসার বাক্যও শ্রবণ করবেন না।
فِيهَا عَيۡنٞ جَارِيَةٞ 12
১২. এ জান্নাতে রয়েছে প্রবাহমান অনেকগুলো প্রস্রবণ। তারা সেগুলোকে যেভাবে ইচ্ছা উদ্বেলিত করবে ও ঘুরিয়ে দিবে।
فِيهَا سُرُرٞ مَّرۡفُوعَةٞ 13
১৩. তথায় রয়েছে সুউচ্চ খাট-পালঙ্ক।
وَأَكۡوَابٞ مَّوۡضُوعَةٞ 14
১৪. আরো রয়েছে সদা প্রস্তুত পানপাত্র।
وَنَمَارِقُ مَصۡفُوفَةٞ 15
১৫. উপর্যুপরি সারি সারি বালিশসমূহ।
وَزَرَابِيُّ مَبۡثُوثَةٌ 16
১৬. আরো তথায় রয়েছে যত্রতত্র বিছানো প্রচুর গালিচা।
মহান আল্লাহ যখন পরকালে সৌভাগ্যবান ও হতভাগাদের ব্যবধানের কথা উল্লেখ করলেন তখন তিনি কাফিরদের উদ্দেশ্যে স্রষ্টার ক্ষমতা ও তাঁর নিপুণ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। যাতে করে তারা এর মাধ্যমে ঈমানের পথ পেয়ে জান্নাত লাভে ধন্য হতে পারে। তাই তিনি বলেন:
أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى ٱلۡإِبِلِ كَيۡفَ خُلِقَتۡ 17
১৭. তারা কি চিন্তাশীল দৃষ্টিতে উটের প্রতি দেখে না যে, আল্লাহ ওকে কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং আদম সন্তানের জন্য বাধ্য বানিয়েছেন?!
وَإِلَى ٱلسَّمَآءِ كَيۡفَ رُفِعَتۡ 18
১৮. তারা কি আসমানের দিকে তাকায় না যে, কীভাবে আল্লাহ সেটিকে উন্নীত করেছেন। ফলে সেটি তাদের জন্য নিরাপদ ছাদে পরিণত হলো। যা তাদের উপর ভেঙ্গে পড়ে না।
وَإِلَى ٱلۡجِبَالِ كَيۡفَ نُصِبَتۡ 19
১৯. তারা কি পর্বতমালার দিকে দৃষ্টি দেয় না যে, কীভাবে আল্লাহ সেটিকে স্থাপন করেছেন এবং তার মাধ্যমে জমিনকে স্থির করেছেন। যাতে তা মানুষদেরকে নিয়ে নড়াচড়া না করে?!
وَإِلَى ٱلۡأَرۡضِ كَيۡفَ سُطِحَتۡ 20
২০. তারা কি জমিনের দিকে দৃষ্টি দেয় না যে, কীভাবে আল্লাহ সেটিকে বিছিয়েছেন এবং তাকে মানুষের জন্য বসবাস উপযোগী করেছেন?!
আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তিনি তদীয় রাসূলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন:
فَذَكِّرۡ إِنَّمَآ أَنتَ مُذَكِّرٞ 21
২১. হে রাসূল! আপনি তাদেরকে উপদেশ দিন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে সতর্ক করুন। কেননা, আপনি কেবল একজন সতর্ককারী মাত্র। আপনার নিকট তাদেরকে সতর্ক করা ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করা হয় নি। পক্ষান্তরে তাদেরকে হিদায়েতের তাওফীক দানের শক্তি কেবল এককভাবে আল্লাহর হাতেই ন্যস্ত।
لَّسۡتَ عَلَيۡهِم بِمُصَيۡطِرٍ 22
২২. আপনি তাদের কর্মনিয়ন্ত্রক নন যে, তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করবেন।
ক. অন্তরকে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নোংরামি থেকে পবিত্র করার গুরুত্ব।
খ. সৃষ্টি কর্তৃক স্রষ্টার অস্তিত্ব ও তাঁর মাহাত্ম্যের প্রমাণ গ্রহণ।
গ. দা‘ঈ ব্যক্তির দায়িত্ব হলো কেবল আহ্বান করা। কাউকে হিদায়েত গ্রহণ করতে বাধ্য করা নয়। কেননা, হিদায়েত করা আল্লাহর দায়িত্ব।